22/11/2024
পুরাকালে মহাদেব রাসলীলায় প্রবেশ করেছিলেন বলে কৃষ্ণ রাস লীলা প্রাঙ্গণ ত্যাগ করেন!!! যোগমায়া দেবীর ভর্তৎসনায় মহাদেব সেদিন সেই প্রাঙ্গণ ত্যাগ করেছিলেন কিন্তু এও বলে গেছিলেন যে কলিকালে আমার হাত ধরেই জগৎবাসীর কাছে এই রাস লীলা প্রচার পাবে!!
কী অদ্ভুত না??? সেই পুরান এর ঘটনার কত লক্ষ বছর পড়ে জম্বুদ্বীপ এর পূর্বে এই বাংলার এক বর্ধিষ্ণু জনপদে পা রাখবেন শ্রী অদ্বৈতআচার্য্য.... তার সঙ্গে মিলন হবে সাক্ষাৎ শ্রীহরি চৈতন্য মহাপ্রভুর.... আর শুরু হবে শান্তিপুরের জগৎ বিখ্যাত রাস......
আসলে রাস এমনই একটা উৎসব যেখানে দেবতা, পুরান, গল্প, মানুষ, আনন্দ, দুঃখ, বেদনা সব কিছু মিলে মিশে একাকার হয়ে গেছে..... তারা প্রত্যেকে এই বৃত্তের অংশ......মা মহামায়াকে মৃন্ময়ী রূপে এ জগতে লীন হয়ে যেতে দেখে আমাদের ভারাক্রান্ত মন গুলো এমনই তো একটা বৃত্ত চায়...... যেখানে আমরা আমাদের নিজেদের মুখোমুখি হবো!!!! যেখানে দাঁড়িয়ে আমরা নিজেদের অস্তিত্ব কে খুঁজে পাবো!!!
যে অস্তিত্ব বিগত কয়েকশো বছর ধরে বাংলার এই প্রাচীন জনপদ কে ভারতবর্ষের মঞ্চে একটা বিশেষ স্থানে পর্যবসিত করেছে!!!যে বৃত্তে শান্তিপুরের বাইরে থাকা প্রত্যেকটা মানুষ এর মনটা একটু হলেও চঞ্চল হয়ে উঠতে চায় শান্তিপুরে ফেরার জন্য.... যার মাধুর্যে সারা বাংলা তথা ভারত বর্ষের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে হাজার হাজার মানুষ ছুটে আসে শুধু মাত্র একটা রাতের জন্য!!! যেখানে রাধা কৃষ্ণের যুগল কুঞ্জভঙ্গে মানুষের শরীর মন সবকিছু নেচে ওঠে...... সারা শান্তিপুর প্রাণ ঢেলে নিজেদের সমর্পণ করে দেয় শ্রী রাধিকা এবং শ্রী হরির চরণে....সেই বৃত্ত কে শুধু মাত্র উৎসবের নাম রাস উৎসব
ভক্তগণ আবার আসিও ফিরে
অদ্বৈতপুণ্যভূমি শ্রীধাম শান্তিপুরে
শ্রী কৃষ্ণের শ্রেষ্ঠ লীলা
রাস লীলা দর্শনে।।