শ্রী শ্রী জগদ্ধাত্রী পূজা
রায় বাড়ি
বেড়পাড়া, শান্তিপুর, নদীয়া
স্থাপিত – ১৯০০
১৯০০ খ্রীষ্টাব্দে বর্তমানে বাংলাদেশের অন্তর্গত রাজশাহীর ঘোড়ামাড়ায় ঈশ্বর প্রহ্লাদ চন্দ্র রায় এই পূজার প্রতিষ্ঠা করেন । এই পূজা প্রতিষ্ঠার পূর্বে ওই স্থানে একটি বাজার ছিল, যেটি ঘোড়ামাড়া বাজার নামে পরিচিত ছিল । ওই বাজারে একটি বেদী ছিল, যেখানে বহু বছর ধরে জগদ্ধাত্রী পূজা অনুষ্ঠিত হয়ে আসছিল । ঈশ্বর প্রহ্লাদ চন্দ্র রায় এই বাজার
টি ক্রয় করেন এবং ওই পুরনো বেদীতেই পুনরায় জগদ্ধাত্রী পূজা আরম্ভ করেন । ঈশ্বর প্রহ্লাদ চন্দ্র রায়ের মৃত্যুর পর ওনার একমাত্র পুত্র ঈশ্বর আশুতোষ রায় এবং ওনার স্ত্রী ঈশ্বরী কমলাবালা রায় এই পূজো এগিয়ে নিয়ে চলেন । সেই সময়ে, অর্থাৎ ১৯৪৮ খ্রীষ্টাব্দে হিন্দু-মুসলমান দন্দ্বের আভাস পাওয়া যায় । তখন নদীয়া জেলার শান্তিপুরে অবস্থিত মুসলমানদের একটি বাড়ীর সঙ্গে আমাদের এই রাজশাহীর বাড়ীটি বদল করা হয় এবং পুরনো বাড়ীর বেদী থেকে একটি ইট এনে পুনরায় নতুন বেদী প্রতিষ্ঠা করা হয় । ঈশ্বর আশুতোষ রায়ের মৃত্যুর পর তাঁর পুত্রগণদের মধ্যে ঈশ্বর নিত্যানন্দ রায় এবং ঈশ্বর চন্দ্রনাথ রায় পূজোটিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন । বর্তমানে ঈশ্বর নিত্যানন্দ রায় এবং ঈশ্বর চন্দ্রনাথ রায়ের পুত্ররা পূজোটিকে এগিয়ে নিয়ে চলেছেন । যখন আমাদের শান্তিপুরের বাড়ীতে পূজা আরম্ভ হয়, তখন যে ঠাকুরমশাই পূজো করতেন, তিনি হলেন ঈশ্বর নিরোদ গোপাল গোস্বামী । বর্তমানে ওনার পুত্র শ্রী কৃষ্ণ গোপাল গোস্বামী পূজো করেন । এই বাড়ীর প্রতিমা যে মৃৎশিল্পী প্রথম বানিয়েছিলেন, তাঁর বংশধররাই বর্তমানে প্রতিমা বানান । এমনকি ঢাকিরাও বংশপরম্পরায়ে এই পূজোতে ঢাক বাজিয়ে চলেছেন । একসময়ে এই পূজোতে দরিদ্র নারায়ণ সেবাও করা হত । বর্তমানে পাড়া প্রতিবেশী এবং আগত দর্শনার্থীদের মধ্যে প্রসাদ বিতরণ করা হয় ।
পুরনো রীতি অনুসারে, রথযাত্রার দিন পালমশাইয়ের কাছে আমাদের প্রতিমার বায়না দেওয়া হয় । পালমশাই আমাদের বাড়িতে এসে আমাদের স্থায়ী কাঠামোতে প্রতিমা নির্মাণ করেন । আমাদের প্রতিমা ডাকের সাজে সাজানো হয়ে এবং আমাদের প্রতিমার গায়ের রঙ সূর্যাস্তের আভার মতো । নবমীর দিন ভোর রাতে আমাদের পুজো আরম্ভ হয় এবং সপ্তমী, অষ্টমী ও নবমীর পূজা রীতিমেনে একই দিনে অনুষ্ঠিত হয় । পরের দিন সকালে দশমীর পূজা এবং পুষ্পাঞ্জলি দ্বারা আমাদের পূজা সম্পন্ন হয় । পূজোর দিন আগত দর্শনার্থীদের আমরা সাধ্যমতো প্রসাদ বিতরণ করে থাকি । বাড়ির মহিলারা পূজার প্রস্তুতি ও ভোগ তৈরিতে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন । পূজোর দিন খিচুরি, সন্ধাবেলায় প্রসাদ বিতরণ, পরের দিন দধীকর্মা ও দুপুরে মাছ ভাত খেয়ে বাড়ির বউরা নিষ্ঠা সহকারে প্রতিমাকে বরণ করে মাকে বিদায় জানান এবং সিঁদুর খেলায়ে অংশগ্রহণ করেন । বিসর্জনের পূর্বে মাকে ফুলের অলঙ্কারে সজ্জিত করা হয় । সুশৃঙ্খল শোভাযাত্রা, প্রজ্বলিত আতসবাজি ও প্রসাদ বিতরণের মাধ্যমে আমরা শান্তিপুরের গঙ্গায় বিসর্জন সম্পন্ন করে মাকে বিদায় জানাই ।