05/01/2026
ক্ষণে ক্ষণে মানসপটে মম
স্মৃতিধারা বয় হিমালয় সম।
হেথায় গাহিয়া বেড়াই তব জয়গান
এত আয়োজন, উপলক্ষ্য একখান।
সময়ের রেখা সদা বহমান
সবার মুখে ঘুরুক তোরই উপাখ্যান।।
শীতকাল এক বড়ই অদ্ভুত কাল। শরীরের প্রতিটা কোষ যখন জবুথবু হয়ে থাকে, মন তখন এক বিচিত্র প্রানবন্ততায় মেতে ওঠে। পিকনিক, বড়দিনের মেলায় ঘুরতে যাওয়া, চিড়িয়াখানা কিংবা জাদুঘরে একদিনের ছোট্ট একটা ট্রিপ সেরে আসা অথবা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান দেখতে গ্রাম থেকে গ্রামান্তরে পাড়ি দেওয়া ইত্যাদি নানান রকমের কর্মকাণ্ডে আমরা জড়িয়ে পড়ি। তবে এসবের মাঝে আরও একটা জিনিস নিয়ে আমরা মেতে থাকি। এবং সেটাই হয়ে ওঠে শীতকালে আমাদের অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করার মুখ্য বিষয়বস্তু।
সৌভিককে নিয়ে আমরা সারা বছর অনেক লেখালেখি করি। কিন্তু ডিসেম্বরের শেষ অর্ধটা আমাদের কোমর বেঁধে ঝাপিয়ে পড়তে হয় সবুজ মাঠে, মানুষকে মনে করিয়ে দিতে আমাদের প্রিয় বন্ধুর কথা। শীতের সকালে শিশির গুলোকে যেমনভাবে আঁকড়ে ধরে থাকে মাঠের কচি ঘাসের ডগা গুলো, ঠিক তেমন ভাবেই তো সে আমাদেরকে ধরে রেখেছে তার মিত্রতার অমোঘ টানে। আমাদের বন্ধুদের মাঝে কখনও কখনও মতপার্থক্য কিংবা ভুল বোঝাবুঝি হয়েছে। কিন্তু যখন সৌভিকের প্রসঙ্গ আসে তখন আমরা এক হয়ে যাই। আমরা সর্বদা সতর্ক থাকি তার স্মৃতিকে যেন অপমান না করে ফেলি। এবং তার স্মৃতিকে আগলে রাখতেই আমাদের ক্ষুদ্র যে প্রয়াস সেটাকে সাফল্যমণ্ডিত করার চেষ্টা করি।
সৌভিকের স্মৃতিতে আয়োজিত সৌভিক মণ্ডল মেমোরিয়াল ক্রিকেট কাপের দশম সংস্করণ মহা সমারোহে আয়োজিত হল সদ্যগত ২০২৫শের ডিসেম্বরের ২৭ ও ২৮ তারিখে। এই টুর্নামেন্টে বিজয়ী দলের জন্য ছিল একটি সুদৃশ্য ট্রফিসহ নগদ ২০,০০১ টাকা। এবং বিজিত দলের জন্য ছিল একটি সুদৃশ্য ট্রফিসহ নগদ ১৫,০০১ টাকা। এছাড়াও আরও অনেক পুরস্কারের ডালি নিয়ে আমরা উপস্থিত ছিলাম কৌতলা নিম্ন বুনিয়াদি বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে। বিশেষ চমক হিসেবে ছিল দশম বর্ষের স্মারক হিসেবে রৌপ্য মুদ্রায় প্রতিটি ম্যাচের টস এবং মাঠের মাঝে পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানের জন্য নির্মিত আকর্ষণীয় পোডিয়াম। সৌভিকের পরিবার অর্থাৎ কাকু, কাকিমা, আমাদের স্নেহের বোন চেতনা এবং মামা, মামী, দিদা, মামাতো দুই বোনের উপস্থিতিতে এবং বহু গুণীজনের পৃষ্ঠপোষকতায় আমাদের এই উদ্যোগ সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে পেরেছি। যাঁদের আর্থিক এবং মানসিক সহযোগিতা ছাড়া আমরা এই অনুষ্ঠান সাফল্যমণ্ডিত করতে পারতাম না তাঁদের প্রতি আমরা অশেষ ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করি। আগামী বছরগুলিতেও তাঁদেরকে আমরা পাশে পাব সেটা বলাই বাহুল্য।
দেখতে দেখতে দশ বছর পেরিয়ে গেছে। তেত্রিশ বছরে পৌঁছতে এখনও অনেক দেরি। তবুও আমরা কথা রেখে চলেছি। এবং চেষ্টা করছি তেত্রিশ পেরিয়ে কালের স্রোতে আমাদের টুর্নামেন্টের ভেলাটাকে আবহমান কাল ধরে ভাসিয়ে নিয়ে যাওয়ার।