02/01/2025
লিখেছেন
Dr. Sudipta Samanta
আম্রকুঞ্জে স্বপ্নের 'কার্নিভাল'ও : Mahishadal RoCk Fest-এর আলো
-------------------------
অস্থির এই সময় কে আর বন্ধু হবে—চিরন্তন সংস্কৃতি ছাড়া? হাল্লারাজার সৈনিকও প্রেমিক হতে পারে আম্রকুঞ্জে এলে আমাদের। অস্ত্র ফেলে তুলি কিংবা গিটার হাতে ক্রমে সে সাধক! আঁধারের বুকে কবিতাপাঠই আনবে—বেগুনি রাত পেরিয়ে লালভোর। ধীরে ধীরে নরম আদুরে সকাল। কত-না স্বপ্ন বুকের বাম পকেটের নিচে জমিয়ে রাখি আমরা—কে তার খবর রাখে!
আমাদের স্বপ্নভরা কথাগুলো দিয়ে কি উৎসব সাজানো যেতে পারে? হইচই—মেলা! তবে তার নাম দেওয়া যেতে পারে 'আর্ট কালচার এন্ড রক ফেস্ট'! এখানে দর্শক-শ্রোতাদের ভিড়ে মিশে থাকেন শিল্পীরা। অনেকটা যেন বাখতিন বর্ণিত মেলা পরিস্থিতি—'the participant is both actor and spectator'! তাঁরা কত সহজে শিল্পী-শিল্পকলার তথাকথিত 'বেড়া' ভেঙে দর্শকদের সঙ্গে নির্মাণ করেন স্বপ্নের সংযোগ। সৃষ্টি হয় নিজস্ব এক বাতাবরণ—‘a spectacle, but with out a stage'। আবৃত্তি, নৃত্য, থিয়েটার, গিটার, মাউথ-অর্গ্যান সব মিলেমিশে চিরচেনা আমবাগান হয়ে ওঠে বহুস্বরের উৎস।
সেখানে বলা আর না-বলা কথার সমবায়ে সৃষ্টি হয় কবিতারও পলিফনি—স্রষ্টার 'আমি'র সঙ্গে সেতু নির্মাণ করে কাছে-দূরের শ্রোতার 'আমি'টিও। রচিত হয় অপূর্ব এক বহুস্বরায়িত নকশা। ছবি দিয়ে সাজানো মহিষাদল রাজবাড়ির আম্রকুঞ্জে এসে আজ মনে হয়—আরো একবার বেঁচে নিই প্রাণভরে। বছরের শেষ রোববারের সূর্যকরোজ্জ্বল এই মুহূর্তটুকু হয়ে উঠুক চিরন্তন। আর কী চাই? পুণর্জন্মের 'মন্ত্র' উচ্চারণ করি দ্বিতীয় কাব্যগ্রন্থ 'পাখিজন্ম' (প্রেক্ষাপট, ২০২৩) থেকে...
অনেক অনেক ধন্যবাদ