30/07/2022
https://www.facebook.com/103859414664853/posts/597228881994568/
ব্রহ্মচারিনী মা দুর্গেশ্বরী দেবী মা চন্দ্রঘন্টা।
মা দুর্গার তৃতীয় শক্তি চন্দ্রঘন্টা। তাঁর মাথায় চাঁদ। তিনি চন্দ্রের থেকেও সুন্দর। তিনি অপরূপা। নবরাত্রির তৃতীয় দিনে তাঁর পূজা করা হয়। বিভিন্ন গ্রন্থ থেকে জানা যায় তাঁর পূজা করলে, সংসারের সকল দুঃখ কষ্ট থেকে মুক্তি পাওয়া যায়, সমস্ত পাপ, বাধাবিঘ্ন বিনষ্ট হয়। নীচের ছবিতে তাঁর প্রতি মূর্তি।
নবরাত্রি সমন্বে বলতে গেলে, বেশিরভাগ হিন্দু বাঙালিরা নবরাত্রির সঙ্গে যুক্ত নন। ষষ্ঠী থেকে দশমী পর্যন্ত বাঙ্গালী দুর্গা পূজায় মেতে থাকেন কিন্ত দুর্গা পুজা শুরু হয় ঠিক মহালায়ার পরের দিন থেকে অর্থাত প্রতিপদ থেকে। এরপর নবমী পর্যন্ত নয় রাত্রি ধরে মা দুর্গার নয়টি শক্তির পূজা করা হয়। একেই বলে নবরাত্রি অর্থাত নয়টি রাত্রিতে, নয়টি শক্তির, নয়টি মূর্তিতে পূজা করা হয়। মা দুর্গাকে কি কি রূপে পূজা করা হয় তা সংক্ষিপ্ত ভাবে জানালাম।
প্রথম রাত্রি,- নবরাত্রির প্রথম রুপ শৈলপুত্রী। শৈল অর্থ পর্বত। হিমালয়ের কন্যা। তাই দুর্গার আরেক নাম শৈলপুত্রী। এখানে দেবীর বাহন ষাঁড়। এক হাতে ত্রিশূল অন্য হাতে পদ্ম। দেবীর পূজায় মনোবল বৃদ্ধি পায়, মূলাধার চক্র শুভ হয়।
দ্বিতীয় রাত্রি,- ব্রহ্মচারিনী। ইনি স্বয়ং ব্রহ্মাকে জ্ঞান দান করেন। দেবীর এক হাতে রুদ্রাক্ষর জপ মালা অন্য হাতে কুমন্ডুল। ইনি মনসংযোগের বৃদ্ধি ঘটান এবং ভক্তদের ব্রহ্ম প্রাপ্তি করান। সাধিস্থান চক্র শুভ হয়।
তৃতীয় রাত্রি,- চন্দ্রঘন্টা। তাঁর সমন্ধে প্রথমে জানিয়েছি।
চতুর্থ রাত্রি,- কুষ্মান্ডার। দুর্বিষহ ত্রিতাপ হল কুষ্মা। যিনি অন্ড বা পেটের মধ্যে এই তাপ ধারণ করেন। ইনি মহাবিশ্বের সৃষ্টি করেছিলেন। ইনি সুখ, সমৃদ্ধি দেন,কর্মক্ষেত্রের জটিলতা নাশ করেন, যশ, আয়ু, বল বৃদ্ধি করেন। পীড়িত রবি গ্রহ এই পূজায় শুভ হয়।
পঞ্চম রাত্রি,- স্কন্ধমাতা। কার্তিকের আরেক নাম স্কন্ধ। স্কন্ধের মা। এই দেবীর পূজায় গৃহের যে কোন অশান্তির নাশ হয়। পরম শান্তি ও সুখ প্রাপ্তি হয়।
ষষ্ঠ রাত্রি,- কাত্যায়নী। বৃন্দাবনে দেবী গোপবালা রূপে পূজিত হন। ব্রজের গোপবালারা কাত্যায়নীর কাছে প্রার্থনা করেছিলেন, শ্রীকৃষ্ণকে পতি রূপে পাওয়ার জন্য। তাই ব্রজের দুর্গার নাম কাত্যায়নী। এই দেবীর পূজায় শক্র নাশ হয়, ধর্ম, সম্পদ ও জাগতিক সুখ লাভ হয়।
সপ্তম রাত্রি,- কালরাত্রি। দেবী কালভৈরবের দেহ থেকে আবির্ভূত হন। ইনি যোগনিদ্রা মহাকালিকা নামে পরিচিত। দেবী কৃষ্ণ বর্ন। এলোকেশী, চোখ, মুখ থেকে আগুন বের হচ্ছে। গলায় বিদ্যুতের মালা। ভীষন দর্শনা। তিন হাতে অস্ত্র নিয়ে ধাবিত শত্রুদের দিকে। এক হতে ভক্তদের বরাভয়। এই ভয়ংকর রূপেই তিনি ভক্তদের শুভ করেন। তাই তাঁকে শুভঙকরী ও বলা হয় । এই দেবীর পৃজায় সমস্ত কুপ্রভাব দৃর হয়।
অষ্টম রাত্রি,-মা মহাগৌরী। মা গৌরী শিবের তপস্য করতে করতে রোদে কালো বা কৃষ্ণ বর্ন হয়ে ওঠেন। তখন মহাদেব তাকে গঙ্গা জল দিয়ে স্নান করিয়ে দেন। তখন তার গায়ের রঙ হয়ে ওঠে গৌরী। তার এই রূপের নাম মহাগৌরী। প্রচলিত বিশ্বাস, তার পুজায় সব পাপ ধুয়ে যায়। এঁর ধ্যানে বিবাহ জনিত সমস্যা দূর হয়, বিবাহ শুভ হয়।
নবম রাত্রি,- সিদ্ধিদাত্রী। সিংহ বাহিনী, চার হাত, আশীর্বাদ মুদ্রা। তিনি সর্ব সিদ্ধি দান করেন। তার উপাসনায় সংসারে আসে সুখ এবং সমৃদ্ধি। স্বয়ং মহাদেব দেবী পার্বতীকে সিদ্ধিদাত্রী রূপে পূজা করেছিলেন। তাঁর আশীর্বাদ সর্ব সিদ্ধি লাভ করেন মহাদেব।