পুরনো কলকাতার পথে পথে, Purono Kolkatar pathe pathe

  • Home
  • India
  • KOLKATA
  • পুরনো কলকাতার পথে পথে, Purono Kolkatar pathe pathe

পুরনো কলকাতার পথে পথে,  Purono Kolkatar pathe pathe পুরোনো কলকাতা

02/09/2026

যে সামান্য কিছু বন্ধু/শুভানুধ্যায়ী/পাঠক সঙ্গে থাকেন তাঁদের জন্য একটি বিতর্কিত পোস্ট :

না না, বিতর্ক তৈরী করে নিজেকে জাহির করার জন্যও নয়, ভাইরাল করে পয়সা রোজগারের জন্যও নয়। (১ পয়সাও রোজগার হয়নি, যদি কেউ সাহায্য করেন লাভের গুড় ভাগ করবো, কথা দিলাম।)

এবার আজেবাজে কথা বাদ দিয়ে মূল বিষয়ে আসি। যে সামান্য কিছু বন্ধু আমার পোস্টে আসেন, তাঁরা জানেন আমার অন্যতম obsession ৫০০ বছর আগের এক যুবক। বিশ্বম্ভর মিশ্র।

এখন দেখা যাক বর্তমান নবদ্বীপ আর মায়াপুরের বিতর্ক নিয়ে। কোথায় আসল নবদ্বীপ? কোথায় জগন্নাথ মিশ্রের বাড়ি ছিল? কোথায় জন্ম বিশ্বম্ভরের?

ভাগীরথীর ঘনঘন দিকপরিবর্তন অনুযায়ী এটা অনেকটাই সঠিকভাবে আজ বলা যায়, বর্তমান নবদ্বীপে না ছিল জগন্নাথ মিশ্রের বাড়ি, বা বিশ্বম্ভরের তরুণবয়সের সহযোগীদের বাসস্থান। আজ সেখানে যা দেখানো হয়, সবই ব্যবসায়িক স্বার্থে।

ভাগীরথীর যেদিকে বর্তমান মায়াপুর, সেদিকেই সম্ভবতঃ ছিল প্রাচীন নবদ্বীপ, যেখানে নিমাইপণ্ডিত ২৪ বছর বয়স পর্যন্ত রাজত্ব করেছিলেন। তবে যোগপীঠ নামক মায়াপুরের এক জায়গায় এক ঘোষিত নিমগাছকে চিহ্নিত করে দেওয়া হয়েছে সেই বিশেষ নিমগাছকে, যার তলায় জন্ম বলে বিশ্বম্ভরের ডাকনাম নিমাই। ... ১৪৮৬ সালে তাঁর জন্ম। গাছের জন্ম, অন্ততঃ ১০/১১ বছর আগে ধরলে, এখন ৫৫০ বছর। বিজ্ঞান বলছে নিমগাছ ১৫০ থেকে ২০০ বছরের বেশী বাঁচে না ... !!!...

এবার আসি ধামেশ্বর নামক এক গৌরাঙ্গমন্দিরে। আছে একটি শ্রীচৈতন্যমূর্তি। কাঠের। সম্ভবতঃ নিমকাঠের। সে'রকমই বলা হয়। আরও বলা হয় এই মূর্তি বিষ্ণুপ্রিয়া প্রস্তুত করিয়েছিলেন বিশ্বম্ভর চলে যাওয়ার পর। তিনি এই মূর্তির পুজো করতেন। এখন এই মূর্তি নিয়েই ধামেশ্বর মন্দির। ... অথচ এ'রকম কোনও উল্লেখ সমসাময়িক কোথাও নেই। একটি পাদুকার উল্লেখ আছে। ... তাহলে হঠাৎ বেশ কিছকাল পর এই মূর্তি কোথা থেকে এলো?...

বরং চলে আসি শ্রীক্ষেত্র পুরীতে এবার। ... একটি ছোট্ট ঘরে শেষ বহুকাল কাটিয়েছিলেন চৈতন্য। গম্ভীরায়। ... আজ সেখানে দেখা যায়, বলা হয় তাঁর ব্যবহৃত একটি পাদুকা আর কাঁথা আছে। একটি কাঁচের বাক্সে রাখা আছে। দেখা যায়। ... ভেবে দেখুন পাঠক, চৈতন্য মারা যাওয়ার (হত্যার) পর তাঁর অনুগামীরা বাধ্য হয়েছিলেন পুরী থেকে পালাতে। এমনকি তাঁর ভক্ত রাজা প্রতাপরুদ্রদেবকেও চলে যেতে হয় সেখান থেকে রাজধানী কটকে। সেখানেই মারা যান তিনি। তাঁর দুই ছেলে পরপর রাজা হন এবং নিহত হন আর সমস্ত ষড়যন্ত্রের প্রধান গোবিন্দ ভোঁই রাজা হয়ে ভোঁই রাজবংশ প্রতিষ্ঠা করে। ... ভাবুন পাঠক এ'রকম অবস্থায় চৈতন্য-ব্যবহৃত কাঁথা কে এবং কোন্ দুঃসাহসে রক্ষা করেছিলেন ... ???... একটি সামান্য কাঁথা কি আদৌ ৫০০ বছর টিঁকতে পারে ...???...

পাঠক, আমরা কি বিশ্বম্ভর বা চৈতন্যের বৈপ্লবিক চেতনার, জাতপাত-বিরোধী আন্দোলনের মূল সূত্রকে আসলে পিছনে ফেলে দিয়ে নানারকম আঞ্চলিক/জাতীয়/আন্তর্জাতিক ব্যবসায়িক সূত্রকেই সামনে নিয়ে আসছি... ???...

চৈতন্য হোক

ঐতিহ্যপরায়ণ বাঙালী !!! রাজনারায়ণ দত্ত খিদিরপুরে বাড়ি কিনেছিলেন ১৮৩০/৩১ সালে। যশোর থেকে পরিবারের বাকিরা আসেন আনুমানিক ১৮৩...
25/08/2026

ঐতিহ্যপরায়ণ বাঙালী !!!

রাজনারায়ণ দত্ত খিদিরপুরে বাড়ি কিনেছিলেন ১৮৩০/৩১ সালে। যশোর থেকে পরিবারের বাকিরা আসেন আনুমানিক ১৮৩৪/৩৫ সালে। বালক মধু তখন ১০ কি ১১। এখানেই কোনও একটি স্কুলে পড়া। তার পর হিন্দু কলেজে পড়া শুরুও এখান থেকেই। গৌরদাস বসাক ইত্যাদি বন্ধুরা আসতেন এখানেই। ১৮৪৩-এ বিলেত যাওয়ার লোভে খ্রিষ্টান হওয়ার জন্য বাড়ি ছাড়ার আগে পর্যন্ত মধুসূদন এখানেই ছিলেন। তার পর বাড়ি ছাড়তে বাধ্য হন। কিন্তু ঘুরে ঘুরে এসেছেন অনেকবার।

সেই বাড়ি ভগ্নস্তূপ ছিল। গত বছর (২০২৫) ডিসেম্বর মাসে গিয়ে ভগ্নদশা দেখে মনে হয়েছিলো রক্ষণাবেক্ষণের অভাবই এর কারণ।

কিন্তু ৮ মাসের ব্যবধানে আজ দ্বিতীয়বার গিয়ে বুঝতে পারলাম আসলে বাঙালীর ঐতিহ্যকে লাথি মারার জন্য বাইরের দিকটা আপাততঃ ঠিকঠাক রেখে ভিতরদিকটা একধার দিয়ে ভেঙে ফেলা হচ্ছে। পরে বাইরেটাও ধ্বসিয়ে দেওয়া হবে। দু-একজনের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে বুঝলাম এড়িয়ে যাওয়া চলছে।

৮ মাস আগের কিছু ছবি আর আজকের ছবি রাখলাম। দেখলেই বুঝতে পারবেন সকলে।

যদি মাইকেল মধুসূদন দত্ত-কে নিয়ে কিছুমাত্র আবেগ আজও অবশিষ্ট থাকে কারুর মধ্যে, তবে অনুরোধ করছি সবাই এগিয়ে আসুন। একটা প্রতিবাদ অন্ততঃ হোক।

আবার একবার আদিগঙ্গার তীরে  :অষ্টাদশ শতকের মাঝামাঝি পর্যন্ত এই আদিগঙ্গাই ছিলো গঙ্গার মূল ধারা। মোটামুটিভাবে জানা যায় ১৭৫০...
08/01/2026

আবার একবার আদিগঙ্গার তীরে :

অষ্টাদশ শতকের মাঝামাঝি পর্যন্ত এই আদিগঙ্গাই ছিলো গঙ্গার মূল ধারা। মোটামুটিভাবে জানা যায় ১৭৫০ নাগাদ একটা দক্ষিণমুখী খাল কাটা হয় শুকিয়ে আসা সরস্বতীনদীর খাতে মিশিয়ে দেওয়ার জন্য। আর সরস্বতীর খাতে যে খাল মিশিয়ে দেওয়া হলো তাতেই ক্রমশঃ অধিকাংশ জলরাশি যেতে শুরু করে আর সেটাই হয়ে ওঠে এখনের হুগলি নদীর মূল ধারা।

আদিগঙ্গা দক্ষিণ-পূর্বদিকে গিয়ে সুন্দরবনের মধ্য দিয়ে সাগরে পড়েছিলো। মনসামঙ্গলে এবং আরও অন্যত্র গঙ্গার যে ধারার উল্লেখ পাওয়া যায় তা এই আদিগঙ্গারই ধারা। চৈতন্যদেব যখন নবদ্বীপ থেকে শান্তিপুর হয়ে পুরী গিয়েছিলেন গঙ্গার তীর দিয়ে, কখনও বা জলপথেই, তখন এখনের কলকাতা শহরের দক্ষিণ-পূর্ব হয়েই গিয়েছিলেন। এটা সম্পূর্ণতঃ প্রমাণিত। সেই যাত্রাপথের কিছু চিহ্নিত আঞ্চলিক নাম বৈষ্ণবঘাটা, গড়িয়া (গৌড়িয়) ইত্যাদি।

এখন এই আদিগঙ্গা সঙ্কীর্ণ হতে হতে অধিকাংশ জায়গায় প্রায় নর্দমায় পর্যবসিত। ব্রিটিশ শাসনের সময় উইলিয়াম টলি এর ১৫ কিলোমিটার পথ পলি পরিস্কার করে যাতায়াতের উপযোগী করে তোলেন ব্যবসায়িক স্বার্থে। তাই এখনও ডাকনাম হয়ে আছে "টালির নালা"। আদিগঙ্গার কফিনে শেষ পেরেক পড়লো যখন মেট্রোরেল কর্তৃপক্ষ পর পর কংক্রিটের থাম বসিয়ে ধ্বংস করে দিলো। বোড়াল অঞ্চল পেরোনোর পর আর বিশেষ কিছু নেই নদীর। বাড়ি-ঘর উঠে গেছে তার উপর। অবশ্য অনেক দূরে দূরে কিছু কিছু বড় দীঘি আছে আগেকার জমিদারদের বাড়ির সঙ্গে। এখনও তারা " করের গঙ্গা", "ঘোষের গঙ্গা" এ'সব নামে পরিচিত। সম্ভবতঃ মাটির তলা দিয়ে স্রোত বহমান।

এই আদিগঙ্গাই যে মূল ধারা ছিলো তার একটা বড় প্রমাণ গঙ্গার ধারে যে শ্মশানগুলো আছে তার সব এরই ধারে। যেখানে এই প্রাচীন ধারা ঢুকেছে তার পর থেকে আর কোনও শ্মশান এখনের আসল ধারার তীরে নেই। সব আদিগঙ্গার তীরে। সেটাই স্বাভাবিক, তাই না?

আদিগঙ্গার তীরের বেশ কিছু মন্দির বা মনে নিয়ে রাখার মতো ঘাট ইত্যাদির বর্ণনা আগেই দিয়েছি। এবার আরও কিছু (সঙ্গে থাকলো আদিগঙ্গার নানা জায়গার ছবিও) নিয়ে আসছি।

গড়িয়া আদি মহাশ্মশান। বেশী প্রচলিত নাম বোড়াল শ্মশান। এখন আদিগঙ্গার সোঁতা সরে গেছে প্রায় আধমাইল দূরে। তবে একসময়ের সেই স্রোতের পাশে গড়ে ওঠা মহাশ্মশানের ধারেই একজোড়া মন্দির। গল্পগাথায় আছে এই মন্দির তৈরী করেছিলেন ধনপতি সওদাগর। এ'সব যদিও পুরোপুরি গল্প, তবুও মন্দিরদু'টির প্রাচীনত্ব নিয়ে কোনও দ্বিধা নেই। পোড়ামাটির কারুকাজ যা ছিলো তার বেশীরভাগই বাড়াবাড়িরকম সংস্কার আর পুনর্নিমাণের ফলে নিশ্চিহ্ন। একটি কালীমন্দির, যে কোনও শ্মশানেই যা থাকে। আরেকটি শিবমন্দির। অসাধারণ মন্দিরগুলি।

ওখানে যদিও কাছে আর আদিগঙ্গার চিহ্ন মুছে গেছে, সরে গেছে অনেক দূরে; যা লিখেছি এখানেই শুরুতে, আদিগঙ্গা মাটির তলা দিয়ে চলেছে, কোথাও বা কোনও পুরনো জমিদারবাড়ির দীঘি-তে পরিণত হয়েছে তলা থেকে উঠে এসে আদিগঙ্গা। --- এ'রকমই এক দীঘির ধারে, ভাঙা ঘাট, ভাঙা প্রাকার, ভাঙা দুয়ার, ভাঙা মন্দির। এই দীঘিই কিন্তু হারিয়ে।যাওয়া এক চিহ্ন গঙ্গার মূল স্রোতের। জোড়া শিবমন্দির। না জানলে কেউ খুঁজেও পাবে না কখনও। টেরাকোটার কাজ এখনও সামান্য দেখা যায় ভাঙা মন্দিরে। এই মন্দির নিয়েও প্রচলিত গল্প : মঙ্গলকাব্যের ধনপতি সওদাগরের ছেলে শ্রীমন্ত সওদাগর তৈরী করেছিলেন এই জোড়া মন্দির। জোড়া মন্দিরের একটি অবশ্য সেই বাড়াবাড়ি সংস্কারের ফলে দশ বছরের পুরনো মন্দিরের মতো হয়ে গেছে !!!

আদিগঙ্গার ধারে এই পরিভ্রমণ চলছে। আরও বেশ কিছু আসছে সামনের দিনগুলোতে।

কলকাতা দক্ষিণ। বাওয়ালির জমিদারপরিবার, শোনা যায় ক্লাইভবাবুর আমন্ত্রণে চেতলা-টালিগঞ্জ অঞ্চলে কয়েক হাজার একর জমির দখলে আসেন...
26/12/2025

কলকাতা দক্ষিণ।

বাওয়ালির জমিদারপরিবার, শোনা যায় ক্লাইভবাবুর আমন্ত্রণে চেতলা-টালিগঞ্জ অঞ্চলে কয়েক হাজার একর জমির দখলে আসেন। আগে ছিলেন তাঁরা 'রায়'। পরে উপাধি পান 'মণ্ডল'। আপাততঃ তাঁদের রাজবাড়ি বজবজের উপকণ্ঠে সকলের হাতের মুঠোয় 'রিসর্ট'।

তবে ঐ চেতলা-টালিগঞ্জ এলাকা। আদিগঙ্গার পাড় ধরে বাওয়ালির মণ্ডল-পরিবারের তৈরী অসামান্য কিছু মন্দির-স্থাপত্য। সব মন্দিরই রাধা-গোবিন্দকে উৎসর্গীকৃত। কোনওটা চূড়ান্ত ভগ্নদশায়। কোনওটা এখনও অসামান্যতায় বিরাজমান।

ছোট রাসবাড়ি। আদিগঙ্গার ঘাটের উপর। ১৮৪৭ সনে নির্মাণ শেষ করেন পিয়ারীলাল মণ্ডল ও মণিমোহন মণ্ডল। ... যেমন জীর্ণদশা ঘাটের, তেমনই জীর্ণদশা মন্দির-প্রাঙ্গনের। নবরত্ন মন্দির। চত্বরের দু'দিকে তিনটি করে শিবমন্দির। এখন জঙ্গল-আগাছায় পরিপূর্ণ। দু'দিন বিভিন্ন নির্দিষ্ট সময়ে গিয়েও খোলা পাইনি মন্দির। স্থানীয়দের কথায়, কোনওদিন সকালে পুজোর সময় একটু খোলা হয়, কোনওদিন বা সন্ধেয়। অথচ বাইরে থেকে দেখলেই বোঝা যায় কি অসামান্য এই চত্বর। ... লাগোয়া আদিগঙ্গার ঘাটের অবস্থা তথৈবচ। সুপ্রাচীন ঘাট ভেঙে পড়ছে ...

এ'পথেই পাওয়া যাবে বাওয়ালির মণ্ডলদের বড় রাসবাড়ি। এই মন্দির-চত্বর আসলে এখন প্রায় দু-ভাগে ছিন্ন। মূল চত্বরে নাটমন্দির আর বিশাল আটচালা মণ্ডপ। বিশেষ দর্শনার্থী নেই। যতক্ষণ ছিলাম, বড়জোর তিন-চারজন। ... অন্যভাগে ছিন্ন অংশে দ্বাদশ শিবমন্দির। প্রায় সব-কটিই ভগ্নস্তূপ। দু-একটিতে শিবলিঙ্গ একাকী রোরুদ্যমান। দু'টিতে পুজো হয়। বাকিগুলো কাপড়-মেলার খোলা জায়গা। ১৮২৮ সালে প্রতিষ্ঠিত (মন্দিরে খোদিত শিলালেখে শকাব্দ অনুযায়ী) মন্দিরপ্রাঙ্গন এমনই এখন।

এই মন্দিরগুলি টালিগঞ্জ রোডে। এবার একবার পেরিয়ে যেতে হবে আদিগঙ্গা। পথের নাম মণ্ডল টেম্পল লেন। মন্দির : রাধাকান্ত/রাধানাথ মন্দির। দূর থেকেই দেখা যায় বিশাল নবরত্ন মন্দিরের চূড়ো। সন্ধের সময় গেলাম বলে আলোয় আলোকিত দেখতে পেলাম। জানলাম, এখনও ব্যক্তিগত সৌজন্যে রক্ষা করে চলেছেন মণ্ডলবাড়িরই এক উত্তরসূরী। প্রাত্যহিক পুজো ছাড়াও বিশেষ পুজো হয় জন্মাষ্টমী, রাসপূর্ণিমা, দোল ইত্যাদি উৎসবে। আহ্বান জানালেন, আমন্ত্রণ জানালেন সকলকে। ... মন্দির দেখে বারংবার একটাই কথা মনে হচ্ছিলো, এই মন্দিরের রূপকল্পই কি দক্ষিণেশ্বর মন্দিরের পরিকল্পনায়... !!! ...১৭৯৬ সালে রামনাথ মণ্ডল এই মন্দির নির্মাণ করেন। আর ১৮৫৫ সালে রাণী রাসমণি দক্ষিণেশ্বর মন্দির তৈরী করেন... !!!...

আজ আমরা কতজন এই স্থাপত্যগুলির সম্পর্কে জানি?... প্রতিটি জায়গায় আলাপচারিতায় উঠে এলো এই কথাই। সবাই চাইছেন, সকলে আসুন পুরনো কলকাতার পথে পথে, শহরটাকে চিনতে ...

কলকাতার কৌলীন্য উত্তরে না দক্ষিণে, প্রাচীনত্ব কোথায় বেশী, প্রশ্নটায় কেন যেন একটা সহজ জবাব এসে যায় : উত্তরে।  অথচ দেখা যা...
26/12/2025

কলকাতার কৌলীন্য উত্তরে না দক্ষিণে, প্রাচীনত্ব কোথায় বেশী, প্রশ্নটায় কেন যেন একটা সহজ জবাব এসে যায় : উত্তরে।

অথচ দেখা যায় উত্তর কলকাতায় ধনী বাঙালীর বসবাস শুরু অষ্টাদশ শতকের শেষভাগ থেকে। তার আগে পর্যন্ত এঁরা অধিকাংশই থাকতেন এখনের গড়ের মাঠ, তখনের গোবিন্দপুরে।

যখন গড়ের মাঠে গড় তৈরী শুরু হয়, তখন অনেকে চলে যান উত্তরে। কেউ কেউ দক্ষিণে। সম্ভবতঃ সব থেকে ধনী জমিদার ঘোষালরা চলে আসেন খিদিরপুরে।

যেখান থেকে আলোচনার শুরু সেটা উত্তর-দক্ষিণের প্রাচীণত্বের দ্বন্দ্ব।

আমরা ইতিহাসে পেয়ে যাই আকবর পাদশাহের (বানান ভুল নয় কিন্তু) সেনাপতি মানসিংহের সঙ্গে যশোহরের রাজা প্রতাপাদিত্যের লড়াই। ষোড়শ শতকের কথা। প্রতাপের গড় তৈরী হয়েছিলো যে সব জায়গায় তার অন্যতম মেটিয়াবুরুজে। মাটির বুরুজ বা দুর্গে। যশোহরের আরেক রাজা, প্রতাপাদিত্যের কাকা বসন্ত রায়ের রাজধানী ছিলো এখনের সরশুনায়। সম্ভবতঃ এখানেই গুপ্তঘাতক দিয়ে কাকাকে হত্যা করান প্রতাপ। (রবীন্দ্রনাথের "বৌঠাকুরাণীর হাট" পঠিতব্য)।

এই বসন্ত রায়েরই কর্মচারী লক্ষ্মীকান্ত মজুমদার পরে সাবর্ণ রায় চৌধুরী বংশের প্রতিষ্ঠাতা। বসন্ত রায় কালীঘাট মন্দির প্রতিষ্ঠা করেন বলে জানা যায়। শেষে সাবর্ণ রায় চৌধুরীরাই এই মন্দির পূর্ণাঙ্গভাবে তৈরী করেন।

আদিগঙ্গার ধার বেয়ে এগিয়ে চলা এই সভ্যতার রূপরেখাই আসলে এই শহরের প্রাণবিন্দু...

এ'বার আসবো এই আদিগঙ্গার ধারে গড়ে ওঠা আরও কিছু জানার জন্য ...

কলেজ স্ট্রীট যেতে হয় প্রায়ই, অনেককেই, নানা প্রয়োজনে। পুরনো কলকাতার টানে তারই আশেপাশে আরও নানা জায়গায় হয়তো যেতে হয় আরও অন...
13/12/2025

কলেজ স্ট্রীট যেতে হয় প্রায়ই, অনেককেই, নানা প্রয়োজনে। পুরনো কলকাতার টানে তারই আশেপাশে আরও নানা জায়গায় হয়তো যেতে হয় আরও অনেককেই। যেতে হলে প্রধান প্রয়োজন কি বলুন তো?... রাস্তা।... তাই হঠাৎ মনে হলো ঐ এলাকার সমান্তরাল রাস্তাগুলো কোনটা কতটা পুরনো, শুধু রাস্তাগুলোই, সেটা একটু ঝালিয়ে দেখা উচিত।

সমান্তরাল রাস্তা পাঁচটা : চিৎপুর রোড, সেন্ট্রাল এভিনিউ, কলেজ স্ট্রীট, আর্মহার্স্ট স্ট্রীট, সার্কুলার রোড। ওহো, আছে স্ট্র্যান্ড রোড-ও। কলেজ স্ট্রীট ছাড়া বাকি নামগুলো যদিও এখন পাল্টে গেছে। রবীন্দ্র সরণী, চিত্তরঞ্জন এভিনিউ, রামমোহন সরণী, আচার্য প্রফুল্লচন্দ্র রায় রোড। কলেজ স্ট্রীটেরও বিভিন্ন জায়গা বিভিন্ন নাম।

তবে এখানে শুধু প্রাচীনত্বের খোঁজ আজ।

সকলেরই জানা, প্রাচীনতম রাস্তা চিৎপুর রোড। উত্তর থেকে দক্ষিণে নানা জলা-জঙ্গল, চোর-ডাকাতের উপদ্রব পেরিয়ে কালীঘাটে আসতেন অনেকে এই পথেই। ঠিক কবেকার পথ এটি তা বলতে পারবেন না কেউই। জঙ্গলের মধ্য দিয়ে চিনে চিনে এগিয়ে চলা, যদি আদৌ তাকে বলা যায় পথ।...

তার পরের রাস্তাগুলো সবই ইংরেজ আমলের। ...

১৭৯৯ সালে মারাঠা খাল বোজানো শুরু হয়ে তৈরী হলো সার্কুলার রোড। এই শহরের প্রথম পাকা রাস্তা, ইঁটে বাঁধানো পাকা রাস্তা। ...

এর পর এখনের কলেজ স্ট্রীট-বিধান সরণী। বইপাড়া। বইপাড়া অবশ্য কিছুতেই বইপাড়া হয়ে উঠতো না একটি লোক না থাকলে। কে আবার, সেই ঈশ্বর। ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর। ঐ অঞ্চলের প্রথম লেখক-প্রকাশক-বিক্রেতা। তবে তাঁর 'সংস্কৃত প্রেস ও ডিপোজিটরি' ঠিক কোথায় ছিলো বলা কঠিন। পটলডাঙা অঞ্চলে ছিলো এটুকুই জানা যায়। কলেজ স্ট্রীট হয়ে ওঠে ১৮১৭-য়। অবশ্য বিধান সরণীর অংশটা আরও পরে তৈরী হয়। ...

সমান্তরাল পথগুলোর মধ্যে এর পর সম্পূর্ণ হয় গঙ্গার ধারে স্ট্র্যান্ড বা স্ট্র্যান্ড রোড। ১৮২৮ সালে। এক সময় ভাগীরথী প্রবাহিত ছিলো এখান দিয়েই, ক্রমশঃ পশ্চিমে সরে যায় নদী, পথ তৈরী হয়, স্ট্র্যান্ড রোড।
.. আর্মহার্স্ট স্ট্রীট আরেকটু নবীন। ১৮৩০-এর দশকে তৈরী হয় এই সড়ক জঙ্গল কেটে সদ্যনির্মিত হোলি ট্রিনিটি চার্চে যাতায়াতের জন্য। যদিও রামমোহন রায়ের নামে নামাঙ্কিত আজ, তাঁর সাথে সরাসরি ঐ পথের যোগসূত্র ছিলো না। অথবা হয়তো ছিলোও, বিলেত যাওয়ার আগে তিনি তাঁর বাড়ি আর সম্পত্তি বিক্রির বিজ্ঞাপন দিয়েছিলেন। তাতে মনে হয়, আর্মহার্স্ট স্ট্রীট তৈরী হচ্ছিলো বলে তাঁর মানিকতলার বাড়ির (যে বাড়ি সার্কুলার রোডের ধারে, আজ অবহেলিত, কলকাতা পুলিশের উত্তরের উপ-নগরপালের দফতর হিসাবে) সাথে বাকি বাগান বিচ্ছিন্ন হয়ে যাচ্ছিলো। ...

সব থেকে অর্বাচীন সেন্ট্রাল এভিনিউ। বিংশ শতাব্দীর বিশের দশকে হয় এই রাস্তা। বিমল মিত্রের "সাহেব বিবি গোলাম" লেখাই হয়েছে এই রাস্তা তৈরীর গল্প মাথায় রেখে। এখনও তাই রাস্তার মাঝে একাধিক পুরনো মন্দির থেকে গেছে, যেগুলো ভাঙতে দেওয়া হয়নি। গিরীশ ঘোষের বাড়িও এরকম একটি মন্দির রাস্তার শেষ প্রান্তে। ভাঙা পড়েছিল একাধিক বাসগৃহ-মন্দিরও। ... মূল স্টার থিয়েটার তেমনই এক মন্দির।

এভাবেই গড়ে উঠেছিলো পুরনো কলকাতার ঐতিহ্যমণ্ডিত অঞ্চলের সমান্তরাল পথগুলো। পথের ইতিহাস এভাবেই পথে গড়ে ওঠে ...

এবার একবার শুধুই কিছু কথা। ছবি ছাড়া শুধু কথা। (অবশ্য ছবি না দিলে যেহেতু পোস্টের রীচ থাকে না, তাই কিছু দিতেই হলো)। ... জা...
12/12/2025

এবার একবার শুধুই কিছু কথা। ছবি ছাড়া শুধু কথা। (অবশ্য ছবি না দিলে যেহেতু পোস্টের রীচ থাকে না, তাই কিছু দিতেই হলো)। ... জানাবেন বন্ধুরা, খুব কি খারাপ লাগলো এ'সব আলোচনা...

শুধু শহরটাকে নিয়েই কিছু কথা। খুব তো একটা প্রাচীন না এই শহর, তবে নেহাৎ অর্বাচীনও নয়। যদিও কিছু ঔপনিবেশিক ঐতিহাসিক এক উদ্ভট কারণে শহরের শুধু জন্মসন না, একেবারে জন্মতারিখও নির্ধারণ করে ফেলেছিলেন। অবশ্য কলকাতা হাইকোর্ট শেষ পর্যন্ত রায় দিয়েছিলেন যে এভাবে কোনও শহরের জন্মদিন জানানো যায় না, এবং সেই বিশেষ দিনটিও কোনওভাবেই জন্মের তারিখ না।

পুরনো কলকাতা বা বনেদী কলকাতা বলতে হলে সাধারণভাবে লোকজন সে'রকমই এক উদ্ভট কারণে উত্তর কলকাতার দিকে তাকিয়ে থাকেন। যেন ঐ চিৎপুর অঞ্চল বা সুতানুটি অঞ্চল ছিল কলকাতার আদি এবং পুরনো অধিবাসীদের বাসস্থান। যেন বাকি সবই পরবর্তীতে গড়ে ওঠা উদ্বাস্তুদের বাসস্থান। যেন ঐ উত্তর কলকাতাই মূল কলকাতা গড়ে ওঠার আঁতুড়ঘর।

এ আরেক ঔপনিবেশিক উদ্ভট ভুল ভাবনা।

এখনের কলকাতাকে যদি মোটামুটিভাবে কাশীপুর থেকে বেহালা পর্যন্ত (কেন কাশীপুর বা বেহালা সে প্রসঙ্গে পরে আসছি) আর পশ্চিমে হুগলী নদী, পুবে বাইপাস পর্যন্ত বিস্তীর্ণ ভাবা যায়, তাহলে দেখা যাক শহরটায় জনবসতি বা বা তার উল্লেখ কোথায় কোথায় ছিলো।

একটি শহর যেমন একদিনে গড়ে ওঠে না, তেমনি "সুপরিকল্পিত প্রস্তুত" শহর ছাড়া অধিকাংশ শহরই নদী বা সাগরপাড়ে গড়ে উঠেছে দুনিয়া জুড়ে। কলকাতাও ব্যতিক্রম নয়। তবে গড়ে ওঠার সময়ের সেই নদীর ধারা এখন বিলুপ্তপ্রায়। এখনের দ্বিতীয় হুগলি সেতু থেকে সামান্য দক্ষিণে এগোলে দইঘাট থেকে ক্রমশঃ পূর্ব-দক্ষিণে গঙ্গার মূল ধারাটি গিয়েছিলো। (সেখানেরই কিছু ছবি শুধু রইলো)। এখনও সামান্য কিছুটা আছে জঞ্জালে অধিকাংশ মজে যাওয়া তার স্রোতপ্রবাহ। কুঁদঘাট অঞ্চল থেকে মেট্রো রেলের থামের তলায় তলায় আরও মৃত্যুপথযাত্রী পুবমুখী ধারা। একটা সময় আর তাকে চোখেই পড়ে না। বেশ কিছু জমিদাররা তাঁদের বাড়ির ঘেরাটোপের মধ্যে সেই বুজে যাওয়া গঙ্গার স্রোতকে গভীর দীঘির মতো রেখে দিয়েছেন। করের গঙ্গা, ঘোষের গঙ্গা এ'রকম নামে থেকে গেছে আদিগঙ্গার ধারা। ১৫১০ সালে চৈতন্য আদিগঙ্গার পাড় ধরে গিয়েছিলেন নীলাচলের পথে। তার চিহ্ন আছে এখনের বৈষ্ণবঘাটা, গড়িয়া (গৌড়িয়) এই সব নামের আড়ালে।

আর এই নদীর পাড় ধরেই শহরেরও গড়ে ওঠা। কাশীপুরের কথা এসেছে যেহেতু বহুযুগ ধরে কালীঘাটে যাওয়ার জঙ্গলের মধ্য দিয়ে উত্তরদিক থেকে আসা পথ, চিৎপুরের পথ (যদিও তখন পথের অস্তিত্ব বলে সেরকম কিছু ছিল না) চিত্রেশ্বরী মন্দিরের (যা তৈরীর সঙ্গে চিতে ডাকাতের নাম জড়িত) সঙ্গে জড়িয়ে, অর্থাৎ কাশীপুর থেকে। বেহালার বিষয়ে পরে আসা যাবে।

এর পর যখন সপ্তগ্রামের কাছে সরস্বতী নদী শুকিয়ে যায় তখন সেখান থেকে বর্ধিষ্ণু শেঠ-বসাকরা চলে আসেন সুতানুটির আশেপাশে হুগলীর তীরে। তাঁরাই কলকাতার প্রথম জঙ্গলকাটা বাসিন্দা। বসতি স্থাপন করেন মূলতঃ বড়বাজার অঞ্চলে। এর পর ধীরে ধীরে ইউরোপীয়রা আসতে থাকেন। প্রথমে আরমেনিয়রা, পর্তুগীজরা। উভয়েই গীর্জা স্থাপন করেন বড়বাজার অঞ্চলে। ইংরেজরা আসেন আরও পরে। তাঁদেরও প্রথম গীর্জাগুলি নদীর পাড়েই।

ইংরেজরা আসার পর ধীরে ধীরে নিজেদের বসতি তৈরী করেন এখনের বিবাদী বাগ অঞ্চলে। শহরের উন্নতির সঙ্গে সঙ্গে বহু মানুষ নানা জায়গা থেকে আসেন। বাড়ি-ঘর-দোর তৈরী করে নানা পেশায় নিযুক্ত হন। তাঁদের বসতি ছিল এখনের ময়দান, তখনের গোবিন্দপুরে। মোটামুটি উচ্চমধ্যবিত্ত বাঙালিদের। ১৭৫৬-য় সিরাজের আক্রমণে বিধ্বস্ত কলকাতা আর উইলিয়াল দুর্গ। ১৭৫৭-য় পলাশীর যুদ্ধের পর যখন ইংরেজরা নতুন করে কেল্লা তৈরী শুরু করেন এখনের গড়ের এলাকায়, তখন গোবিন্দপুর থেকে তথাকথিত বনেদী পরিবারগুলো বাধ্য হয় চিৎপুর আর তার আশেপাশে চলে যেতে। অনেক পরিবারই চলে আসে উত্তরে সুতানুটিতে। (অন্যান্য দিকেও, যেমন দক্ষিণের খিদিরপুরে চলে যায় কেউ কেউ, ভূকৈলাশের রাজবাড়ী) অর্থাৎ শহরের উত্তরে এই "বনেদী" কলকাতার জন্ম অষ্টাদশ শতকের দ্বিতীয় ভাগে।

দক্ষিণে আরেকটু আসা যাক। কালীঘাটের মন্দির প্রথমে ছিল ভবানীপুর এলাকায়। আরও অনেক পরে বর্তমান জায়গায় মন্দির আসে। এই মন্দিরের সঙ্গে জড়িত পাদশাহ্ (বানান ভুল নয় কিন্তু) আকবরের সমসাময়িক যশোর রাজবংশের রাজা বসন্ত রায় (প্রতাপাদিত্যের কাকা, সেই "যশোর নগরধাম, প্রতাপাদিত্য নাম, মহারাজ বঙ্গজ-কায়স্থ... ")। তাঁর রাজধানী ছিল এখনের বেহালার সরশুনায়। অর্থাৎ, সেটাও ছিলো প্রাচীন কলকাতা, যশোহর, অঞ্চল। প্রতাপাদিত্য গোপনে হত্যা করেন তাঁকে, সম্ভবতঃ সরশুনা অঞ্চলেই। বসন্ত রায়ের অধীনস্থ কর্মচারী লক্ষ্মীকান্ত মজুমদার সাবর্ণ রায়চৌধুরী বংশের গোড়াপত্তন করেন। তাঁদেরই হাতে, বসন্ত রায়ের আনুকুল্যে তৈরী কালীঘাট মন্দির। তখন এই সব এলাকা যশোরের অন্তর্গত ছিল। বড়িশা-বেহালার নামও পাওয়া যায় অনেক পুরনো লেখায়।

এবার বরং ভেবে দেখা যেতেই পারে শহর কলকাতার প্রাচীনত্ব কোনদিকে বেশী, তাই না?...

কি এক অদ্ভুত কারণে রাসবিহারী এভিনিউ-এর এক জায়গা থেকে তিনটি রাস্তার উদ্ভট নামকরণে পাই প্রতাপাদিত্য, বসন্ত রায়, সর্দার শঙ্কর-এর (প্রতাপের সেনাপতি) নাম !!!

তবে আবারও সেই উত্তর-দক্ষিণের চিন্তা ...

নদীর স্রোত যেমন ছুঁয়ে গেছে বাগবাজার/সুতানুটি ঘাট, তেমনি বাবুঘাট হয়ে দইঘাট হয়ে ভবানীপুরের ঘাট ধরে বলরাম বসু-রাসমণি-কালীঘাট হয়ে কুঁদঘাট-বৈষ্ণবঘাটা-বোড়াল --- শহর গড়ে উঠেছিলো উত্তর ছুঁয়ে দক্ষিণের পথেই।

দক্ষিণ ছুঁয়ে চলা নদীর পথে পথেই গড়ে উঠেছিলো জন্ম-মৃত্যুর আবর্তন। তাই এই দক্ষিণ-পুবমুখী ধারারই পাড়ে গড়ে উঠেছিলো শেষযাত্রার স্টেশনগুলো। ... দক্ষিণেই ...

কলকাতার দক্ষিণেই...

খিদিরপুর : খিজিরপুর না কিডেরপোর্ট ; জেলে-মৎস্যজীবীদের উপাস্য খিজর বা খিজিরের নামে অঞ্চল, না কি ব্রিটিশ স্থপতি জেমস কিড য...
11/12/2025

খিদিরপুর : খিজিরপুর না কিডেরপোর্ট ; জেলে-মৎস্যজীবীদের উপাস্য খিজর বা খিজিরের নামে অঞ্চল, না কি ব্রিটিশ স্থপতি জেমস কিড যিনি খিদিরপুর বন্দর, লকগেট তৈরী করেন, তাঁর নামে, এই বিতর্ক আপাততঃ থাক।

বরং চলে আসা যাক সেখানেরই একটি এলাকায়। শোনা যায় সাধক রামপ্রসাদ সেন সেই এলাকার নাম দিয়েছিলেন "ভূকৈলাশ", যেন মহাদেব কৈলাশ থেকে এসেছেন এখানে।

১৭৫৬ সাল। সিরাজউদ্দৌলার আক্রমণে ধুলিসাৎ ইংরেজদের প্রথম ফোর্ট উইলিয়াম। কলকাতা হলো সিরাজের আলিনগর। পরের বছরই পলাশীর যুদ্ধে পাশা ওল্টালো। কয়েক বছরের মধ্যেই ইংরেজরা নতুন দুর্গের পরিকল্পনা করলো। এখনের ফোর্ট উইলিয়াম। তখন সেটি গোবিন্দপুর। বাঙালী মধ্যবিত্ত-উচ্চবিত্তদের বাড়ি-ঘর-দোরে ভর্তি। উৎখাত হতে হলো তাঁদের। তৈরী হলো আজকের গড়। থাকলো গড়ের মাঠ। আর উৎখাত হয়ে অধিকাংশ গেলেন উত্তর কলকাতায়। সুতানুটি অঞ্চলে।

ঘোষালবংশ আসেন খিদিরপুরে। প্রায় ১৫০ বিঘা জায়গা জুড়ে তাঁদের রাজপ্রাসাদ ইত্যাদি ক্রমশঃ তৈরী হয়। জয়নারায়ণ ঘোষালের হাতেই রমরমার শুরু মোটামুটি ১৭৮০ থেকে। প্রাসাদ তৈরী করেন বিশাল, যার অধিকাংশই আজ ভগ্নদশায়। তৈরী করেন মুখোমুখি দুটি বিশাল শিবমন্দির এক বিশাল দীঘির পাড়ে। বিশালত্বের এখানেই শেষ না। মন্দিরের শিবলিঙ্গদুটি, যাদের নাম রক্তকমলেশ্বর ও কৃষ্ণচন্দ্রেশ্বর, অন্ততঃ ১২ ফুটের বেশি উঁচু। জানানো হয়, এক-একটি কষ্টিপাথর থেকে এক-একটি শিবলিঙ্গ নির্মাণ। মন্দির এবং চত্বরের বেশ কিছু সৌন্দর্যায়ন হয়েছে, দু'টি মন্দিরের মাঝে এক বিরাট নন্দীমূর্তি বানানো হয়েছে। তবে মন্দিরের ভিতরে এখনও কিছু পুরনো দিনের কারুকাজ চোখে পড়ে।

মন্দিরচত্বরের উল্টোদিকে প্রাচীন আটচালার ভাঙা কয়েকটা থাম। আর দেখা যাবে প্রাসাদের ধ্বংসস্তূপ। ১৭৮২ সালে মুঘল বাদশাহের থেকে জয়নারায়ণ পেলেন 'রাজাবাহাদুর' উপাধি। তখনই প্রাসাদের ভিতর প্রতিষ্ঠা করলেন কুলদেবী পতিতপাবনী দুর্গাদেবীর মূর্তি। এমনই সেই মন্দিরের অবস্থান যেন কুলদেবী প্রাসাদ আর শিবমন্দির সরাসরি দেখতে পান। এই ভাঙাদেউলচত্বরে রয়েছে আরও দুয়েকটি মন্দির। আছে শূন্য পূজামণ্ডপের দু'ধারে অতীত ঐশ্বর্যের স্মৃতিমাখা একজোড়া কামানও। দিনের বেলাতেও নৈঃশব্দে মোড়া প্রায় ২৫০ বছর প্রাচীন এই সৌধ।

কবিতীর্থ নামক একটা অঞ্চল। খিদিরপুরে। তিন কবির নানাসময়ের বাসস্থান : মাইকেল মধুসূদন দত্ত (অবশ্য তখনও তিনি 'মাইকেল' নন), রঙ...
11/12/2025

কবিতীর্থ নামক একটা অঞ্চল। খিদিরপুরে। তিন কবির নানাসময়ের বাসস্থান : মাইকেল মধুসূদন দত্ত (অবশ্য তখনও তিনি 'মাইকেল' নন), রঙ্গলাল বন্দ্যোপাধ্যায়, হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়।

আপাততঃ একজনকে, সবথেকে বিখ্যাত মানুষটির বাসস্থান নিয়েই সামান্য আলোচনা। পিতা রাজনারায়ণ দত্ত যশোরের সাগরদাঁড়ি ছেড়ে (১৮৩০/৩১) কলকাতায় ওকালতি করতে এসে কিছুদিনের মধ্যেই খিদিরপুরে বাড়ি কিনলেন। বড়ো বাড়ি। আনুমানিক চার/পাঁচ হাজার টাকায়। তাঁর স্ত্রী-পুত্র-পরিবার কলকাতার বাড়িতে আসেন সম্ভবতঃ ১৮৩৪/৩৫ সালে, অর্থাৎ বালক মধু তখন ১০/১১ বছরের। তার পর এখানে থেকেই পড়াশুনো। প্রথমে কোনও একটি অজানা স্কুল। এবার হিন্দু কলেজ।

এদিকে বিলেত যাওয়ার প্রবল ইচ্ছেয় শেষ পর্যন্ত ১৮৪৩ সনে খ্রীষ্টধর্ম গ্রহণ করেন। তার পর থেকে এই বাড়িতে তিনি আর থাকেননি। যদিও এক সময় খিদিরপুরেরই আরও একটি বাড়িতে থেকেছিলেন। পৈত্রিক বাড়িতে রাজনারায়ণ দত্ত এবার একের পর এক বিয়ে করেন। সবাই মিলে থাকেন। মধুসূদন ছিলেন মাদ্রাজে (চেন্নাই), মা মারা যাওয়ার খবর পেয়ে এলেন সেই বাড়িতেই। আবার এলেন বাবা মারা যাওয়ার খবর জেনে। প্রিয়তম বন্ধু গৌরদাস বসাক তখন ভেবেছিলেন মধুসূদন আর বেঁচে নেই। আইনী ব্যবস্থা নেওয়ার দায়িত্ব এসেছিলো তাঁরই হাতে। গৌরদাসের চিঠিতেই মধু ফিরলেন ১৮৫৬ সালে। এবার সব ব্যবস্থা হয়ে গেলো বছর পাঁচেক মামলা করে। বাড়ি বিক্রী করলেন। সাত হাজার টাকায়। প্রতিবেশী কবি রঙ্গলাল বন্দ্যোপাধ্যায়ের অনুজ হরিমোহন বন্দ্যোপাধ্যায় কিনলেন।

সেই বাড়ির এখনের দশা দেখলাম, খুঁজে বার করে। বাড়ির কোথাও নেই কোনও স্মারক। ভগ্নস্তূপে পরিণত হওয়া এই বাড়ির টিঁকে থাকা কিছু অংশে কিছু দোকানপাট। সেখানেও হাতে গোণা দু-চার জন জানেন বাড়ির ইতিকথা।

ঐতিহ্য শব্দটার সঙ্গে আমাদের কতটা পরিচিতি আছে সেটা ছবিগুলি জানিয়ে দেবে। খিদিরপুরে বড় রাস্তার উপরেই এই ভগ্নস্তূপ।

আদিগঙ্গাঅষ্টাদশ শতকের মাঝামাঝি সময় থেকে গঙ্গার এই মূল প্রবাহ ক্রমশঃ শুকিয়ে এসে এখনের এই প্রায়-নালার চেহারা নিয়েছে। এখনকা...
02/12/2025

আদিগঙ্গা

অষ্টাদশ শতকের মাঝামাঝি সময় থেকে গঙ্গার এই মূল প্রবাহ ক্রমশঃ শুকিয়ে এসে এখনের এই প্রায়-নালার চেহারা নিয়েছে। এখনকার হুগলি নদীর প্রবাহ আগেকার সরস্বতী নদীর খাত ধরে চলে গেছে।

তবে যতো প্রাচীন মন্দির, ঘাট, শ্মশান সবই এই আদিগঙ্গার ধারে। এক-এক করে নিয়ে আসবো সেই সব ঘাট-মন্দির এদের গল্প।

আজ শুধু একটা ঘাট। তেমন কিছু বড় নয়। ছোটোই। তবু একেই জড়িয়ে আছে নানা ঘটনা। ... বলরাম বসু ঘাট।

ঘাটের কথা ঘাটই বলে। ঘাটের পাথুরে মেঝেতে ঘষে ঘষে লেখা সেই কথাই যা ঘাট বলতে চেয়েছিল কোনও এককালে। আর এখনও ঘাট তা বলছে, উৎসাহী শ্রোতা যদি কখনও শুনতে চান সে কথা সেই আশায়।

গঙ্গার ধারের অনেক ঘাটের মতো এটিও ছিল একটি শ্মশানঘাট। আর যতদূর জানা যায় পুরনো কলকাতার এই ঘাটেই হয়েছিলো সব থেকে বেশী সতীদাহ। কুখ্যাতি। আর এই কথাই ঘাটের পাথরে ঘষে লেখা "সতীদাহ স্থান"। কেন লেখা হয়েছিলো, কে লিখেছিলেন সে'সব নিয়ে অনেক গল্পগাথা চালু, কোনওটারই স্বপক্ষে সে'রকম শক্তিশালী প্রমাণ নেই। বরং যা হতো সেটা বিশেষভাবে প্রমাণিত হয়েছে।

শ্মশান এখন আর না থাকলেও পিণ্ডদান চালু। সে'রকমই এক দৃশ্যের সাক্ষী থাকলাম। কাকেরা বসে তাদের জন্য সুস্বাদু পিণ্ডের সদ্ব্যবহার করছে।

তবে ঘাটের সব কথা ঘাট বলতে পারে না। তার হয়ে আরও কেউ বলে দেন। ঘাটেই এক চায়ের দোকান। বেশ পুরনো। সেই দোকানের মালিক শিকদারমশাই মালপত্র সরিয়ে দেওয়ালের গায়ের একটা পাথরের ফলক দেখিয়ে দিলেন। নোংরা মুছে যেটুকু উদ্ধার করতে পারলাম সেটা হিন্দীতে লেখা। ১২৬৭ সালের কথা আছে। অর্থাৎ রবীন্দ্রনাথের জন্মসময়ের কথা। তাহলে এর সঙ্গে ঘাটের তৈরী হওয়ার সময়ের সম্পর্ক নেই। এখানে আছে ঘাটের তৎকালীন (১২৬৭) স্বত্বাধিকারীদের নাম।

ঘাটের পাশে দুটো শিবমন্দির। মন্দিরের চেহারা একটু ঠিকঠাক করা হয়েছে, কিন্তু মন্দিরদুটোই আসলে স্থানীয় লোকজনের বাড়িঘর। একদিক থেকে ভালই, দেবতার মূর্তির থেকে জীবন্ত মানুষের প্রয়োজন অনেক বেশী।

ঘাটে রয়েছে ঘাটের আরও কথা। ... ১৯১০ সাল। আজ থেকে ১১৫ বছর আগে। তখনও এই শহরে দুর্গাপুজো হতো শুধুই জমিদার বা তথাকথিত বনেদী বাড়িতে। কিন্তু ঐ ১৯১০ সালে এই ঘাটে (সম্ভবতঃ) ১২ জন বন্ধুবান্ধব মিলে শুরু করেন শহরের প্রথম সর্বজনীন দুর্গোৎসব, বারোয়ারী দুর্গাপূজা। এখনও চলছে সেই পুজো। উদ্যোক্তা সেই তখনের "ভবানীপুর সনাতন ধর্মোৎসাহিনী সভা"।

এই ঘাট থেকে দু-তিন মিনিট হাঁটলেই ছিলো রাণী রাসমণির শেষ সময়ের বাসস্থান। স্নানবাড়ি। শেষ কয়েকটা বছর এখানেই কাটান তিনি। তৈরী বর দস্তখৎ করেন শেষ ইচ্ছাপত্র এখানেই, মৃত্যুর একদিন আগে। মারাও যান এখানে। সেই প্রাসাদ আজ ধূলিসাৎ। তবে প্রথম প্রথম তিনি রোজ এই ঘাটেই আসতেন নিত্যস্নানে। পরে অবশ্য স্নানবাড়িরই ঘাট তৈরী করান, যা এই ঘাট থেকে কয়েক মিটার মাত্র দূরে।

(এর পর একেক করে নিয়ে আসবো আদিগঙ্গার ধারের আরও অনেক কিছু। যদি অবশ্য পাঠকের আগ্রহ থাকে।)

Address

Kolkata

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when পুরনো কলকাতার পথে পথে, Purono Kolkatar pathe pathe posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Shortcuts

Share

Category