বল পড়ে ব্যাট নড়ে

বল পড়ে ব্যাট নড়ে A bengali Cricket blog (first of its own kind) run by some cricket crazy fans of Kolkata, the city of Joy. Do like ,comment and share. Bengali Daily cricket blog

আজকের দিনে ১৯২৭ সালে কটকে জন্মেছিলেন বাংলার বাঁ হাতি ফাস্ট মিডিয়াম প্রেমাংশু মোহন চ্যাটার্জি। ৩২ টি প্রথম শ্রেণির খেলায় ...
10/08/2025

আজকের দিনে ১৯২৭ সালে কটকে জন্মেছিলেন বাংলার বাঁ হাতি ফাস্ট মিডিয়াম প্রেমাংশু মোহন চ্যাটার্জি। ৩২ টি প্রথম শ্রেণির খেলায় ১৩৪ টি উইকেট পান তিনি। আসামের জোড়হাটে তিনি এক ইনিংসে ১০ উইকেট নেন যা আজও রঞ্জি ট্রফি তথা ভারতীয় ক্রিকেটের ইতিহাসে শ্রেষ্ঠ বোলিং এর নিদর্শন (১৯.৫-১১-২০-১০) এবং সারা পৃথিবীর ২৪৭ বছরের প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটের ইতিহাসে ষষ্ঠ সেরা বোলিং এর নিদর্শন।

এর পর মধ্যপ্রদেশের বিরুদ্ধে ম্যাচে ১৫ উইকেট নেন।

'অটোবায়োগ্রাফি অফ অ্যান আননোন
ক্রিকেটার' গ্রন্থে (৮৪ পাতা) সুজিত মুখার্জী একটি ম্যাচের বর্ণনা দিয়ে লেখেন :
'The ball was by no means new when I went in, but I found it curving and dipping as if with a life of its own. Premangshu [sic] bowled round the wicket and barely at medium pace, but was apparently able to swing the ball all day on any ground in Calcutta ... three times I looked for the ball everywhere, and three times my bat was nowhere near the ball as it swung in, pitched and whisked away ... The fourth ball was of fuller length, way outside the off-stump, and I put my left leg right across and prepared to push it firmly away into the covers. I am sure I went through all the motions correctly, but again missed the ball – which, this time, did not miss my leg-stump' ।

জন্মদিনের শ্রদ্ধা জানাই।

আজ মোহনবাগান দিবস। ১৯১১ সালে আজকের দিনে ফুটবল মাঠে শুরু হয়েছিলো ভারতীয়দের ক্রীড়া জগতে জয়যাত্রা। ফুটবলে বিখ্যাত হলেও গঙ্গ...
29/07/2025

আজ মোহনবাগান দিবস। ১৯১১ সালে আজকের দিনে ফুটবল মাঠে শুরু হয়েছিলো ভারতীয়দের ক্রীড়া জগতে জয়যাত্রা। ফুটবলে বিখ্যাত হলেও গঙ্গাপারের ক্লাবটির ক্রিকেটে অবদান কম না। বহু বিখ্যাত ও কিংবদন্তি ক্রিকেটার ক্লাবে খেলেছেন। ১৮৮৯ সালে ক্লাবের যিনি প্রথম ক্যাপ্টেন ছিলেন সেই মনিলাল সেন প্রথম দুজন বাঙালির একজন যাঁরা ওভার আর্ম বোলিং করতেন।
বিগত ১৯৫২-৫৩ সাল থেকে সি এ বি সিনিয়র নক আউট ও ১৯৫৩-৫৪ সালে সি এ বি ফার্স্ট ডিভিশন খেলা শুরু হলে তারপর থেকে বিগত ৬৭ বছরে সি এ বির সমস্ত প্রতিযোগিতা মিলিয়ে প্রায় তিন অঙ্কে পৌঁছেছে ট্রফির সংখ্যা। এমনকি ভিন রাজ্যের ক্রিকেট প্রতিযোগিতাও আছে।

এই ক্লাবে খেলেছেন মনিলাল সেন, গোষ্ঠপাল (ক্রিকেট ফুটবল দুটোই), মন্টু ব্যানার্জী (টেস্ট), মুস্তাক আলী (টেস্ট), ভিনু মানকর (টেস্ট), বিজয় হাজারে (টেস্ট), বিজয় মঞ্জেরেকর (টেস্ট), বাদল দত্ত, দাত্তু ফারকর (টেস্ট), নির্মল চ্যাটার্জি, পুঁটু চৌধুরী (টেস্ট), প্রবীর সেন (টেস্ট), সুব্রত গুহ (টেস্ট), শ্যামসুন্দর মিত্র, প্রকাশ ভান্ডারী (টেস্ট), প্রকাশ পোদ্দার (বেসরকারি টেস্ট), গোপাল বসু (odi), রাজু মুখার্জী, পলাশ নন্দী, প্রণব নন্দী, অরুনলাল (টেস্ট), অশোক মালহোত্রা (টেস্ট), চেতন শর্মা (টেস্ট ও odi), উৎপল চ্যাটার্জি (odi), জাভাগল শ্রীনাথ (টেস্ট ও odi), সুব্রত ব্যানার্জী (টেস্ট ও odi), ইন্দুভূষন রায়, সাবা করিম (টেস্ট ও odi), সৌরভ গাঙ্গুলী (টেস্ট ও odi), দেবাং গান্ধী (টেস্ট ও odi), লক্ষ্মীরতন শুক্লা (odi), চামিন্দা ভাস (শ্রীলঙ্কা, টেস্ট ও odi), অশোক দিন্দা (odi ও t20), মনোজ তিওয়ারি (odi ও t20), ঋদ্ধিমান সাহা (টেস্ট ও odi), মহম্মদ সামি (টেস্ট,odi ও t20), বিরাট কোহলি (টেস্ট, odi ও t20) দের মতো ক্রিকেটার।

বিশ্বকাপ ক্রিকেটে ১০ টি হ্যাটট্রিকের তিনটে মোহনবাগানের ক্রিকেটারদের করা (চেতন শর্মা, চামিন্দা ভাস ও মহম্মদ সামি)।

আগামী দিনে আরো সাফল্য আসুক এটাই শুভেচ্ছা।

ছবিতে আছে :১৯৫২-৫৩ সালের প্রথম সিনিয়র নক আউট ও ১৯৫৩-৫৪ সালের প্রথমবার ফার্স্ট ডিভিশন জয়ের রিপোর্ট। যুগান্তর পত্রিকা।

আর আছেন বাংলার প্রাক্তন কোচ ও রঞ্জি জয়ী দলের সদস্য প্রাক্তন টেস্ট ক্রিকেটার অরুনলাল এবং ভারতের এশিয়া জয়ী ফুটবল দলের প্রাক্তন অধিনায়ক, সন্তোষ ট্রফি জয়ী বাংলা দলের প্রাক্তন অধিনায়ক ও রঞ্জি রানার্স বাংলা দলের প্রাক্তন অধিনায়ক, পঞ্চাশের দশকে যাঁর পায়ের জাদুতে ময়দান কাঁপত, ষাটের দশকে যাঁর বোলিং-এ আত্মসমর্পণ করেছিলো দিগ্বিজয়ী ওয়েস্ট ইন্ডিজ সেই মোহনবাগান রত্ন চুনী গোস্বামী।

'ওল্ড-ট্র্যাফোর্ডে ভারতের একদা ট্র্যাজেডির আখ্যান রবিবারে আরেকবার নতুন চেহারায় ফিরে আসবে কিনা সেটা অবশ্যই সময় বলবে। সব ক...
27/07/2025

'ওল্ড-ট্র্যাফোর্ডে ভারতের একদা ট্র্যাজেডির আখ্যান রবিবারে আরেকবার নতুন চেহারায় ফিরে আসবে কিনা সেটা অবশ্যই সময় বলবে। সব কাহিনির শেষ পাতায় চোখের জলের দাগ থাকে না। আবার এ-ও ঠিক যে স্বস্তির চৌহদ্দিতে শেষ প্যারাগ্রাফকে এনে ফেলতেও প্রচুর ঘাম-শ্রম-মেধা-ধৈর্য জরুরি। লোকেশ রাহুল আর শুভমান গিলের ব্যাট দেড়শো কোটির দেশকে দু’টো সেশন ভরসা জুগিয়েছে। দেখতে দেখতে মনে হচ্ছিল, সাড়ে তিন দশক বাদে ওল্ড-ট্র্যাফোর্ডে শচিন ফিরে এসেছেন। তাঁর অদৃশ্য উপস্থিতি রাহুল-গিলের ব্যাটের প্রতি ইঞ্চিতে হয়তো রবিবারও অনুভূত হবে।'
লিখলেন অনীশ মুখোপাধ্যায়।

https://ballporebyatnore.blogspot.com/2025/07/blog-post.html

 #আজকের_দিনে  ইংল্যান্ডের চেস্টারটনে জন্মানো জনৈক উইলিয়াম ও তার স্ত্রী অ্যান ক্রিকেট কতটা বুঝতেন বলা মুস্কিল। কিন্তু উইল...
25/07/2025

#আজকের_দিনে

ইংল্যান্ডের চেস্টারটনে জন্মানো জনৈক উইলিয়াম ও তার স্ত্রী অ্যান ক্রিকেট কতটা বুঝতেন বলা মুস্কিল। কিন্তু উইলিয়ামের মৃত্যুর মাত্র কয়েকমাসের মাথায় জন্মানো তার পুত্র হেনরি নাকি ক্রিকেট খেলতেন বলা জানা যায়।
হেনরি বিয়ে করে এলিজাবেথ কে। যিনি ছোট ছোট ছেলেমেয়েদের স্কুল চালাতেন।
এদের ছেলে হেনরি বিয়ে করেন আবিস্কারক জর্জ পোকক-এর মেয়ে মার্থা কে। হেনরি ডাক্তার। ক্রিকেট খেলতেন। নিজের চেনা-পরিচিত, শ্যালক প্রভৃতিদের নিয়ে পশ্চিম গ্লস্টারশায়ার ক্রিকেট ক্লাব তৈরী করেন।
মার্থাও ক্রিকেট পাগল। তার স্বপ্ন ছিল পাঁচ ছেলেকে ডাক্তার বানাবেন আর ক্রিকেটার করবেন। তার স্বপ্ন সত্যি হয়।
ঊনবিংশ শতাব্দীর শুরুতে জন্মানো এক ইংরেজ গ্রাম্য মহিলা (সে যুগের ভারতীয় গ্রাম্য মহিলাদের কথা ভাবুন ) যে ভাবে ক্রিকেট বুঝতেন তা ভাবলে অবাক হতে হয়।
১৮৬০ অথবা ১৮৬১ সালে মার্থা 'অল ইংল্যান্ড ইলেভেন' এর সেক্রেটারি জর্জ পারকে চিঠি লিখে বলেছেন ---'আমি আপনাকে এই চিঠি লিখছি যাতে আপনি আমার পুত্র ই.এম. (এডওর্য়াড মিলস) কে দলে গ্রহণ করেন। সে একজন দারুন মারকুটে ব্যাট আর দারুন কাচ লোফে। সে নিশ্চ্য় খুব ভালো খেলবে এবং দলের জন্য কৃতিত্বের সাক্ষর রাখবে। আপনি শুনলে আগ্রহী হবেন আমার আর এক পুত্র সম্পর্কে , এখন তার বয়স বারো বছর, সময়ের সাথে সাথে সে অনেক বড় খেলোয়াড় হবে তার দাদাদের থেকে কারণ সে ব্যাকফুটে দারুন খেলে এবং সোজা ব্যাটেও দারুন খেলে।'
বিষয়টি ভাববার। তখন সবাই হয় ফ্রন্টফুটে খেলতো না হলে ব্যাকফুটে। যে ব্যাকফুটে খেলতো সে ফ্রন্ট ফুটে খেলতো না। আর সোজা ব্যাটে খেলা ফ্রন্টফুটের লক্ষণ। ক্রিকেট কতটা টেকনিক্যালি ভালো বুঝলে মার্থা তার পুত্র সম্পর্কে ওই কথা বলেন কারণ তিনি জানতেন যে ওই উভয় ধাঁচের ব্যাটিং করার লোক ওই যুগে কেউ নেই।
বাস্তবিক তার ওই পুত্রই আসলে ব্যাটিং এ উভয় ধাঁচের ব্যাটিং করে এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনেন।
ওই পুত্রের নাম ডব্লু জি গ্রেস। রত্নগর্ভা মার্থা, ই. এম., জি.এফ., ডব্লু .জি. এই তিনজন টেস্ট ক্রিকেটারের মা। বড় ছেলে হেনরি আর মেজো ছেলে আলফ্রেড শুধু টেস্ট খেলেনি যদিও প্রথম শ্রেণীর খেলায় খেলেছেন।
মার্থার মৃত্যু দিন গ্লস্টারশায়ার বনাম ল্যাঙ্কাশায়ারের ম্যাচ বন্ধ হয়ে যায় (১৮৮৪, ২৫ সে জুলাই)।

[রমণী ও ক্রিকেট-সুমিত গঙ্গোপাধ্যায়, 'ক্রিকেট সমুদ্রের ধার ঘেঁষে '( উত্তরণ পালবিশার্স) গ্রন্থ থেকে অংশবিশেষ]

সালটা ২০০০/০১। বাংলার হয়ে তিনটি লিস্ট এ ম্যাচ খেলেও নজরের আড়ালে ছিলেন ২৩ বছরের এই যুবক। পরের মরশুমে আগস্ট মাসে বুচিবাবু ...
25/07/2025

সালটা ২০০০/০১। বাংলার হয়ে তিনটি লিস্ট এ ম্যাচ খেলেও নজরের আড়ালে ছিলেন ২৩ বছরের এই যুবক।

পরের মরশুমে আগস্ট মাসে বুচিবাবু ট্রফির খেলায় সি এ বি দলের হয়ে খেলতে যান। ongc (১৮৮) এর বিরুদ্ধে cab যখন ধুঁকছে (১৫১/৬) তখন চার ঘণ্টা ব্যাট করে লক্ষ্মীরতন শুক্লার সঙ্গে ১৫৭ যোগ করেন। নিজে করেন ৬৮। ফলে ongc দ্বিতীয় ইনিংসে বেধড়ক পিটিয়ে (৫১ ওভারে ৪৪৮/৫) রান তুললেও cab দ্বিতীয় ইনিংসে (১৭২/৩) ম্যাচ অতি সহজে ড্র করে।

পরের ম্যাচেই অনিল কুম্বলে নেতৃত্বাধীন কর্ণাটক স্টেট ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশনের হয়ে ডেভিড জনসন, সুনীল জোশী ও বিজয় ভরদ্বাজ নামেন। ksca তোলে ২৩২। জবাবে cab ৩৫৫। যুবকটি করেন ১০৪ মিনিটে ৩৮।

পরের ম্যাচ সেমিফাইনাল। বদ্রিনাথ, বালাজি, সুজিত সোমসুন্দরের জলি রোভার্স। cab মাত্র ৫২ রানে ৪ উইকেট হারায় কিন্তু সৈকত মুখার্জী ৬৬, উৎপল চ্যাটার্জী অপরাজিত ৬০ ও এই যুবকটি ৫৯ করেন। ফলে cab ২৮১ তোলে । সৌরাশিষ লাহিড়ী ৫ উইকেট নেওয়ায় জলি রোভার্স ১৯৩ রানে অল আউট হলেও cab দ্বিতীয় ইনিংসে ভয়াবহ বিপর্যয়-এর সামনে পড়ে (৭ উইকেটে ২৮ মাত্র)। এমন সময় উৎপল চ্যাটার্জী (৫০) আবার জুটি বাঁধেন এই ছেলেটির সঙ্গে (৪৪)। ফলে cab ১১৫/৮ হয় ও কিছু পরে ১৩৩ অল আউট। জলি রোভার্স ৯৬ রানে আউট হলে cab ১২৫ রানে জিতে ফাইনালে ওঠে।

ফাইনালে সামনে পড়লো নিউজিল্যান্ড 'এ'। সেই দলে ৮ জন টেস্ট প্লেয়ার। ২ জন odi প্লেয়ার। একমাত্র খেলোয়াড় যিনি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেননি তাঁর নাম শেন বন্ড। নিউজিল্যান্ড বিশাল রান করে। cab-র ৩৮ রানে ৬ উইকেট হয়ে যায়। ছেলেটি এই অবস্থায় ৭৭ বলে ৭৩ করে ও দ্বিতীয় ইনিংসে বেলের উইকেট নেয়। এইভাবে ওই মরশুমেই রঞ্জি দলে জায়গা পায়। তাঁর নাম সঞ্জীব সান্যাল।

প্রথম সিজনেই ৭ ম্যাচে ৬২.৪৬ গড়ে ৩৭৩ করেন ও ৪ উইকেট নেন। সেই সময় ওড়িশা খুব শক্তিশালী। রাউল ও শিবসুন্দর দুজনেই ডবল সেঞ্চুরি করায় ওড়িশা ২০৩ ওভারে ৬৭১/৬ তোলে। বাংলার দরকার ছিল অল আউট না হওয়া। দীপ দাশগুপ্ত (১৩৭) যখন আউট হন তখন খেলা শেষ হতে প্রায় সোয়া দুই ঘন্টা। বাংলা ৩১৫/৬। উৎপল চ্যাটার্জী ও সঞ্জীব সান্যাল সময় কাটিয়ে দেন। প্রায় ঘন্টা চারেক ব্যাট করে তিনি ৩৮ অপরাজিত করেন।

কোয়ার্টার ফাইনালে প্রথম ইনিংসে ইডেনে গুজরাটের বিরুদ্ধে লাঞ্চের পরে যখন বাংলা ৯১/৫ , ফিরে গেছেন তিন টেস্ট ব্যাটসম্যান দেবাং গান্ধী, দীপ দাশগুপ্ত ও সৌরভ গাঙ্গুলী, সঙ্গে রোহন গাভাস্কার ও , তখন শুভময় দাস (৭৩) কে সঙ্গে নিয়ে ১৭৬ রানের জুটি গড়ে ২৬৭ অবধি টেনে নিয়ে যান সঞ্জীব (১২৩)। এরপর লক্ষ্মী (৫০) পিটিয়ে দলকে ৩৫৩ অবধি টানেন। গুজরাটের হেম জোশীপুরা, নীলেশ মোদীরা ২৩২/৩ অবধি টানলেও সৌরাশিষ (৭৩/৬) তাঁদের আটকে দেয় ৩২৩ এ। উৎপল চ্যাটার্জী একটা উইকেট পেলেও রান আটকে দেন আর ১১ নম্বর ব্যাটসম্যান ললিত প্যাটেল যে একটা ৬ মেরে ৭ করেছিল তাঁকে আউট সুইং (আজ্ঞে হ্যাঁ) এ বিভ্রান্ত করে আউট করেন। বাংলা দ্বিতীয় ইনিংসে বিশাল রান করে। সবাই রান পান। শুভময় দাস (১০৭) সেঞ্চুরি পেলেও এবার সেঞ্চুরি হারান সঞ্জীব (৯২)। দ্বিতীয় ইনিংসে ৫ উইকেট পড়ে গিয়েছিল যার দুটো পেয়েছিলেন সঞ্জীব।

সেমিফাইনালে রেলের কাছে বাংলা হারলেও সঞ্জীব ও শুভময় আবার হাফ সেঞ্চুরি করেন ও টানা তৃতীয় বার সেঞ্চুরি পার্টনারশিপ দেন (১০৫/৬- ২১০/৭)। সেই মরশুমে মনে রাখার মতো লিস্ট এ হয়নি।

পরের সিজনে সঞ্জীব পুরোপুরি ব্যর্থ। কিন্তু তারপরের সিজনে (২০০৩/০৪) রঞ্জিতে ৩৮.৩৩ গড়ে ৩৪৫ রান তোলেন। ৯ উইকেট পান। রঞ্জি একদিনের ম্যাচে ৭ ম্যাচে ১৬ উইকেট পান। দেওধর ট্রফিতে ৩ ম্যাচে ৮ উইকেট পান।

রেলের চাকরির জন্য রেলের হয়ে খেলার চাপ শুরু হয়। ২০০৪/০৫ মরশুমে রঞ্জিতে ২৪৮ রান আহামরি না হলেও দলীপ ট্রফিতে ৪ উইকেট নেন, একদিনের রঞ্জিতে (তখনও বিজয় হাজারে শুরু হয়নি, উইলস বন্ধ) ৩১ গড়ে ১২৪ করেন ও ৭ উইকেট নেন, দেওধরে ৪৭ গড়ে ১৪১ করেন ও ৪ উইকেট নেন। ধোনি এই বছর দলীপে এক ইনিংসে ৭ টা ক্যাচ নিয়ে রেকর্ড করেন।

পরের বছর একটাই রঞ্জি ম্যাচ। যদিও লিস্ট এ খেলায় ৬ ম্যাচে ১২ উইকেট। বাংলা ছেড়ে রেল পাড়ি দিলেন সঞ্জীব। তখন ২৫ টি ফার্স্ট ক্লাস ম্যাচে বাংলা ও পূর্বাঞ্চলের হয়ে ৩৪.৫৬ গড়ে ১১০৬ রান ও ২৪ উইকেট। লিস্ট এ ম্যাচে ৩৫ খেলায় ২৫.২২ গড়ে ৪৫৪ রান হলেও ৫১ উইকেট। সবধরনের খেলায় cab, বাংলা ও পূর্বাঞ্চলের হয়ে ৭৯ ম্যাচে ৩০.৩৫ গড়ে ২১৫৫ রান ও ৯৫ উইকেট। লিস্ট এ ম্যাচে বোলিং এ স্ট্রাইক রেট ২৮.৪৩।

রেলে গিয়ে প্রথম শ্রেণির ম্যাচে ভালোই খেলা হলো। প্রথম সিজনেই ১২৯ গড়ে ২৫৮ রান। পরের সিজনে ৫৫.১৪ গড়ে ৩৮৬। কিন্তু পরের দুই সিজন খেললেও তার পরে আর খেলা হলো না প্রথম শ্রেণির খেলায়। ৫০ ম্যাচে ৩৮ গড়ে ২৩২৮ রান ১৬টা ৫০ ও ৩ টে ১০০। উইকেট ৫৩ টা। রেল ছাড়াও মধ্যাঞ্চলের হয়ে দলীপে খেলেন।

রেলে গিয়ে প্রথম বার লিস্ট এ খেলায় ৪ ম্যাচে ৬৩ রান করেন ও ৩ উইকেট নেন। পরের মরশুম খেলেননি। তারপরের মরশুম ভালো হয়নি।

এরপরে বাংলায় ফেরেন ও এক মরশুম লিস্ট এ খেলেন। ৬ ম্যাচে ১০ উইকেট নেন। ৫০ টি লিস্ট এ ম্যাচে বাংলা, রেল, পূর্বাঞ্চলের হয়ে ৬৭৭ করেন ব্যাট হাতে কিন্তু ৬৪ উইকেট নেন।

২০০৬/০৭ সালে ভারতে টি-২০ শুরু হলে রেলের হয়ে ৩৪.৭৫ গড়ে ৮ ম্যাচে ১৩৯ রান করে ১৪ উইকেট নেন। কিন্তু এরপরে ৫ মরশুম খেলেননি। ২০১২/১৩ সালে বাংলায় ফেরেন, ৮ ম্যাচে ১২ উইকেট নেন, পরের মরশুমে শেষবার বাংলার হয়ে নামেন। ৭ ম্যাচে ৬ উইকেট। ২৩ ম্যাচে ৩৩ গড়ে ২৩১ রান ও ৩২ উইকেট পান। স্ট্রাইক রেট ১৪.০৬।

সঞ্জীব সান্যাল হতে পারতেন বাংলার সেরা অল রাউন্ডার, লক্ষীরতন শুক্লার যোগ্য সঙ্গী। কিন্তু চোট-আঘাত ও রেলে চলে যাওয়া কেরিয়ারে বিপুল ক্ষতি করে।

আজ ৪৮ বছরে পড়লেন। শুভ জন্মদিন 'ক্রাইসিস ম্যান অফ ওয়ন্স আপন আ টাইম'।

সেই ১৮২০-২২ সালের মধ্যে কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের হয়ে তিনটে প্রথম শ্রেণির ম্যাচ খেলেছিলেন ক্রিস্টোফার নেভিল। তাঁর ভাইপোর ...
23/07/2025

সেই ১৮২০-২২ সালের মধ্যে কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের হয়ে তিনটে প্রথম শ্রেণির ম্যাচ খেলেছিলেন ক্রিস্টোফার নেভিল। তাঁর ভাইপোর নাতি ফিলিপ বোয়ার ১৯১৯ সাল থেকে পরের কয়েকবছর অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের হয়ে ও লেভশন-গাওয়ারের দলের হয়ে পাঁচটা প্রথম শ্রেণির ম্যাচ খেলেন।

১৯৪৯ সালে আজকের দিনে জন্মেছিলেন ফিলিপের দৌহিত্র, ক্রিকেট দুনিয়ার অন্যতম শ্রেষ্ঠ অল-রাউন্ডার ক্লাইভ রাইস। ১৯৬৯ সালে ট্রান্সভালের দ্বিতীয় দলে খেলা শুরু করে পরের বছর প্রথম দলে সুযোগ পান। ১৯৭১-৭২ সালে অস্ট্রেলিয়া সফরে টেস্ট খেলার সুযোগ পেয়েও হারান কারণ দক্ষিণ আফ্রিকা সাসপেন্ড হয়।

১৯৭৩ সালে ল্যাংকশায়ারের দ্বিতীয় দলের হয়ে ও ১৯৭৪ সালে একই বছরে নটিংহ্যামশায়ার ও নর্দ্যাম্পটনশায়ারের দ্বিতীয় দলের হয়ে সেকেন্ড ইলেভেন চ্যাম্পিয়নশিপে খেলেন। ৭টি খেলায় ৩৭.১০ গড়ে ৩৭১ রান করেন (সর্বোচ্চ অপরাজিত ১২৩) ও ২২ উইকেট নেন (সেরা ৭/১৫)। এই সময় তিনি ল্যাঙ্কাশায়ার লীগ ও ওয়র্সলে কাপ মিলিয়ে রামসবটমের হয়ে ২৭ ম্যাচে ৫৫৩ রান করেন ও ৭০ উইকেট নেন ।

১৯৭৫ সালে নটিংহ্যামে যোগ দেন। দেশে কারি কাপে তার অধিনায়কত্বে ট্রান্সভাল ৫ বার কারি কাপ জেতে, দুইবার নিশান কাপও যেতে। নটিংহ্যাম দু'বার কাউন্টি চ্যাম্পিয়ন হয়। বেনসন হেজেস ও জেতে।

ওই সময় রিচার্ড হ্যাডলি নটিংহ্যামে যোগ দিলে রাইস ও হ্যাডলি দুজনে মিলে লারউড-বিল ভোসের স্মৃতি ফেরান ১৭০ উইকেট নিয়ে, সঙ্গে ২২০০ রান।

ইতিমধ্যে ১৯৭৮ সালে কেরি প্যাকারের ওয়ার্ল্ড সিরিজ ক্রিকেট খেলতে চলে যান। সেখানে তিনটি wsc টেস্টে ১৫১ রান ও করেন আর ৭ টি উইকেট নেন। ১১টি wsc odi ম্যাচে ২০০ রান করেন ও ১৩ টি উইকেট নেন। ফলে টি সি সি বি তাঁকে সাসপেন্ড করে, সাস্পেন্সন কাটিয়ে ফেরেন ১৯৭৯ সালে।

শুধু নটিংহ্যামের হয়েই ১৭,০৫৩ রান করেছেন ও ৪৭৬ উইকেট নিয়েছেন। কাউন্টির প্রতি মরশুমে হাজার রান করেছেন। প্রথম শ্রেণির খেলায় মোট ২৬,৩৩১ রান ও ৯৩০ উইকেট পান। ৪৮ টি শতরান (সর্বোচ্চ ২৪৬), সেরা ৬২ রান ৭ উইকেট। শেষ কাউন্টি সিজন ছিল ১৯৮৭।

তিনি ই লিস্ট এ ম্যাচে প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে ৫০০০ এর বেশি রান করেন ও ৫০০ ওপর উইকেট নেন। ১৩৪৭৪ রান করেন ও ৫১৭ উইকেট নেন। ১১ টি শতরান। তারমধ্যে শেষটি জীবনের শেষ মরশুমে ম্যালকম মার্শালের নেতৃত্বে নাটালের হয়ে ট্রান্সভালের বিরুদ্ধে ৪৪ বছর বয়সে ১৯৯৩/৯৪ সালে। ওই বছর প্রথম শ্রেণির খেলা থেকেও অবসর নেন। তখন ট্রান্সভাল ছেড়ে নাটাল, তখন নাটালে মার্শাল, রাইস ছাড়াও বেনকেনস্টাইন, নীল জনসন, শন পোলক।

১৯৭০ সালে সাসপেন্ড হলেও দক্ষিণ আফ্রিকায় একবছর ছাড়া ছাড়া কিছু কম্বাইন্ড টিম '৭০ এর দশকে খেলতে যেত। রেবেল দল গুলি গোটা '৮০ এর দশক জুড়ে গেছে। এই দলগুলির বিরুদ্ধে ২১ টি বেসরকারি 'টেস্ট'( ৮৩১ রান ও ৪০ উইকেট) এবং ৩৫ টি বেসরকারি odi (৮৫৮ রান ও ৩৭ উইকেট) খেলেন। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই নিজে অধিনায়ক ছিলেন।

এই ম্যাচ গুলো অতীব গুরুত্বপূর্ণ ছিল। কারণ প্রথমত: এই ম্যাচ গুলিতে উদীয়মান ও অভিজ্ঞ আন্তর্জাতিক খেলোয়াড় খেলতেন। দ্বিতীয়ত: দক্ষিণ আফ্রিকা এই ম্যাচ গুলোয় 'ক্যাপ' দিত, ফলে বহু ক্যাপ প্লেয়ার আছে দক্ষিণ আফ্রিকার যাঁরা সরকারি টেস্ট বা odi খেলেন নি। তৃতীয়ত : এই ম্যাচ গুলো খেলে দক্ষিণ আফ্রিকা বার বার আই সি সির কাছে মূলস্রোতে ফেরার দাবি করতো, দেখাতো যে তাঁদের দেশে ক্রিকেটের কাঠামো তৈরি আছে। চতুর্থত: পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা, ওয়েস্ট ইন্ডিজের খেলোয়াড় দেশে এনে দেখাতো অশ্বেতাঙ্গ নিয়ে তাঁদের দেশ সম্পর্কে সব কিছু আসলে রটনা। ফলে এই অশ্বেতাঙ্গ রা দক্ষিণ আফ্রিকায় খেলার জন্য সাসপেন্ড হলে, দক্ষিণ আফ্রিকার ধন কুবের রা তাঁদের বিপুল অর্থ দিয়ে নিজেদের ক্লাবে খেলাতো। পঞ্চমত : মূলস্রোতে ফিরে দক্ষিণ আফ্রিকা বার বার এই ম্যাচ গুলিকে স্বীকৃতি দেওয়ার দাবি তোলে। অবশেষে ১৯৯৪/৯৫ নাগাদ এগুলি ফার্স্ট ক্লাস ও লিস্ট এ স্বীকৃতি পায়। দক্ষিণ আফ্রিকা অবশ্য টেস্ট ও odi স্বীকৃতি চেয়েছিল।

যাই হোক, ১৯৯১-৯২ সালে ভারতের বিপক্ষে তিনটি মাত্র সরকারি odi খেলেন রাইস। বিশ্বকাপে অধিনায়ক না করায় দল থেকে সরে যান ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে একমাত্র টেস্টেও খেলেননি।

কপিলদেব, হ্যাডলি, ইমরান, বোথাম ছাড়াও আসলে সেটা ছিলো 'পঞ্চ-চৌখস'-এর যুগ। আমাদের দুর্ভাগ্য আমরা তা উপভোগ করতে পারিনি। এখানে বলে রাখা ভালো যদি বেসরকারি 'টেস্টে' রাইসের পারফরম্যান্স এর সঙ্গে এই চারজনের তুলনা হয় তাহলে দেখা যাবে টেস্টে ব্যাটিং এ শুধু গড়ে হ্যাডলির থেকে ভালো, বোলিং এ কপিল বা বোথাম ধারে কাছে নেই গড়ে ও স্ট্রাইক রেটে, ইমরান গড়ে সামান্য পিছিয়ে, হ্যাডলি এগিয়ে, কিন্তু স্ট্রাইক রেটে দুজনেই সামান্য এগিয়ে। আর একদিনের ম্যাচে ? ব্যাটিং গড়, বোলিং গড়, স্ট্রাইক রেটে এই চারজনের প্রত্যেকের থেকে বহু এগিয়ে রাইস।

মনে রাখতে হবে এর মধ্যে ৭ টি বেসরকারি 'টেস্ট' ও ৯ টি বেসরকারি 'odi' খেলায় তিনি বল করেন নি। শুধু ব্যাট করেন। তবে পুরোদস্তুর অল রাউন্ডার হয়ে ফিরে ১৯৮৫/৮৬ সালে অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে চতুর্থ একদিনের ম্যাচে অস্বাভাবিক খেলেন। প্রথমে ব্যাট হাতে ৩৪ রান, এরপর বল হাতে ৪৫ রানে ৪ উইকেট ও তিনটি রান আউট। ওই সিরিজে একদিনের ম্যাচে ৬ খেলায় ১১১.৩৩ গড়ে ৩৩৪ করেন (৩/৫০) ও ১৩ উইকেট পান ১৭.২৩ গড়ে, স্ট্রাইক রেট - ২৫.৩। ৪টে রান আউট ও ৩টে ক্যাচ।

'পঞ্চ-চৌখস' এর অদৃশ্যতম আজকে বেঁচে থাকলে ৭৬-এ পড়তেন।

১৯৩২ সালের ২৫শে জুন, ১৯৫২ সালের ৬  ফেব্রুয়ারি,১৯৮৩ সালের ২৫শে জুন, ২০১১ সালের ২রা এপ্রিলের মতো ১৯১১ সালের ১৫ই জুলাই ভারত...
15/07/2025

১৯৩২ সালের ২৫শে জুন, ১৯৫২ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি,১৯৮৩ সালের ২৫শে জুন, ২০১১ সালের ২রা এপ্রিলের মতো ১৯১১ সালের ১৫ই জুলাই ভারতীয় ক্রিকেটের ইতিহাসে এক ঐতিহাসিক দিন।

আজকের দিনে প্রথম ভারতীয় দল প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে প্রথম কোনো ম্যাচে জয়লাভ করে।

সেই সময় যখন না ছিল নিজেদের পতাকা, না ছিল নিজেদের মুদ্রা, এমতাবস্থায় সম্পূর্ন ভারতীয়দের নিয়ে তৈরী দলটির নামও ছিল ভারত।

যদিও এর খবর ইংল্যান্ডের মাত্র তিনটি সংবাদপত্রে প্রকাশ হয় (রেনল্ডস নিউজপেপার - লন্ডন, দ্য রেফারী - লন্ডন ও লয়েড উইকলি নিউজপেপার)।

ভারত লেস্টার এ লেস্টারশায়ারের বিরুদ্ধে প্রথমে ব্যাট করে ৪৮১ করে। প্রথম উইকেটে ১৭৮ তোলেন হোরমাসজি দোরাবজি কাঙ্গা ও মেরহোমজী (৮৬)। কাঙ্গা ১৬৩ করেন। এটি প্রথম শ্রেণির খেলায় তাঁর দ্বিতীয় শতরান। বালুর ভাই শিবরাম ৮৫ করেন, মজিদ খানের ঠাকুরদা সালামুদ্দিন ৪৩ করেন। বালসারা (অপরাজিত ২৪)-র সঙ্গে শেষ উইকেটে ৫০ রান যোগ করেন শিবরাম।

জবাবে লেস্টার মাত্র ২৮৩ তুলে অল আউট হয়। নাইট ৬২ করেন। বালু ৯২ রানে ৫ উইকেট পান, সালামুদ্দিন ৭৯ রানে ৫ উইকেট পান।

ফলো অন ইনিংসে (তিন দিনের ম্যাচে ১৫০ রান কম হলে ফলো অন বাঁচে, লেস্টার ১৯৮ রানে পিছিয়ে ছিল) বালু আরো মারাত্মক হয়ে ৯৩ রানে ৬ উইকেট নেন, সালামুদ্দিন ৭৬ রানে ২ উইকেট নেন। ফলে লেস্টার ২৪৮ রানে অল আউট হয়ে যায়। শার্প ৫৪ করেন।

দ্বিতীয় ইনিংসে ভারত ৩ উইকেট হারিয়ে ৫৩ রান তুলে ৭ উইকেটে জিতে যায়।

টানা ৯ ম্যাচ হারার পরে এই ঐতিহাসিক জয় আসে। সম্পূর্ণ প্রতিনিধিত্বমূলক ভারতীয় দলের এই জয় যদিও স্মৃতির আড়ালে চলে গেছে। অনেক নতুন ভবিষ্যতের সূত্রপাত ছিল এই জয়।

উৎপল চ্যাটার্জির জন্মদিনে বল পড়ে ব্যাট নড়ে এর সম্পাদক Sumit Gangopadhyay এর একটি পুরনো লেখা ব্লগ থেকে তুলে দেওয়া হলো -...
13/07/2025

উৎপল চ্যাটার্জির জন্মদিনে বল পড়ে ব্যাট নড়ে এর সম্পাদক Sumit Gangopadhyay এর একটি পুরনো লেখা ব্লগ থেকে তুলে দেওয়া হলো --------

জ্ঞান হয়েছে থেকে দেখে আসছি বাংলার ক্রিকেটে যদি কাউকে ভরসা করা যায় তাহলে তিনি উৎপল চ্যাটার্জী।কখনও বোলিংয়ে, কখনও লোয়ার অর্ডারে ব্যাটিংয়ে,কখনও নেতৃত্ব দিয়ে দিনের পর দিন বাংলাকে টেনেছেন (এবং পূর্বাঞ্চলকেও) তিনি। ১৯৬৪ সালে আজকের দিনে অর্থাৎ ১৩ই জুলাই কলকাতায় তিনি জন্মগ্রহন করেন ।

একসময় ছোটোবেলায়, প্রতি রঞ্জী ট্রফীর শেষে আতঙ্কে ভুগতাম (১৯৯৭-৯৮ থেকে বিশেষ করে) যে এই বোধহয় কোনোও দিন দেখবো খবরের কাগজে খবর বেরোবে 'উৎপল চ্যাটার্জী অবসর নিচ্ছেন '। তাহলে বাংলার কি হবে? যাই হোক আস্বস্ত হতাম যে তেমনটা এবার হলনা। শেষ ২০০৩/০৪ মরশুমে ব্যাপারটা ঘটেই গেল। যদিও বাংলাকে অবনমন থেকে বাঁচাতে তিনি অবসর ভেঙে ফিরে আসেন ২০০৪/০৫ এ। বাংলা বেঁচে যায়। তিনিও ৪৯৯ থেকে ৫০৪ টি উইকেটে পৌঁছে যান। সেটাই তাঁর শেষ প্রথম শ্রেণী ম্যাচ। সেই সময় এক অদ্ভুত অনুভূতি হয়। কারন রঞ্জী জয়ী বাংলা দলের এর পরে আর একজনই ছিলেন। সৌরভ গাঙ্গুলী। এরপরে আর বছর চারেক তিনি ক্লাব ক্রিকেটে খেলেন। শেষ মরশুমেও ১ ইনিংসে ৮ উইকেট নেন।

আসামের নওগাওতে ১৯৮৪/৮৫ সালে আসামের বিরুদ্ধে 'পেসার উৎপল চ্যাটার্জী'র রঞ্জী অভিষেক। তাঁর বোলিং এর ধরন অ্যালান ডেভিডসনের মতন ছিল বলে তাঁর কোচ তাঁকে 'ডেভিড' বলে ডাকতেন। প্রথম মরশুমেই চোট পেয়ে পেস বোলিং ছেড়ে দিয়ে বাঁ-হাতি অর্থোডক্স বোলার হয়ে যান। '৯০ এর দশকের বাংলার বিখ্যাত বোলার শরদিন্দু মুখার্জী, অনিল কুম্বলে এমনকি ভিনু মানকড়-এর ও একই ব্যাপার।

প্রথম শ্রেণীর ক্রিকেটে ১২৯টি খেলায় ২৬৯৯রান (১/১০০,৯/৫০) ও ৫০৪ উইকেট (ইনিংসে ৫ উইকেট ৩২ বার, ম্যাচে ১০ উইকেট ৮ বার)। লিস্ট -এ ম্যাচে ১১২টা খেলায় ১৬১ উইকেট আর ১টা হাফ সেঞ্চুরি সহ ৮২৫ রান।

প্রথম দুটি ও ডি আই খেলায় ৩ উইকেট নেন ৬৩ রানে। তৃতীয় খেলায় ৮.৫ ওভারে ৫৪ রান দেওয়ার পর আর সুযোগ পাননি।

কিন্তু তিনি বাংলার হয়ে খেলা ছাড়েননি। আন্তর্জাতিক দল থেকে বাদ পড়ার অনেক বছর বাদে '৯৯-'০০ এ রঞ্জীতে কোয়ার্টার ফাইনাল অবধি (বাংলা ঐ অবধি যেতে পেরেছিল) তিনি ৫২টা উইকেট পান। '৮৯ এর রানার্স, '৯০ এর চ্যাম্পিয়ন, '৯৩ সালে জিততে না পারা হয়তো আজও আফসোসের। প্রথম ইনিংসে বল হাতে ৭ উইকেট পেলেও দ্বিতীয় ইনিংসে এক উইকেটও পাননি(কেন সেকথা অন্যদিন)। আর একবার বিহারের বিরুদ্ধে দারুন শতরান করেন।

মনে আছে ত্রিপুরার বিরুদ্ধে বাংলা যখন একদিনের খেলায় ২৪৩/৭, তখন তাঁর ৬৮ রানের আক্রমনাত্মক ইনিংস বাংলাকে ৩৪১ অবধি টেনে নিয়ে যায়।

আমার এখনও মনে আছে ২০০২/০৩ সালে রেলের বিরুদ্ধে উৎপল চ্যাটার্জী ১২৪ রানে ১০ উইকেট নেন। তারপর বাংলার যখন দরকার ১৫৪ রান তখন ধুঁকতে থাকা বাংলাকে জিতিয়ে মাঠ ছাড়েন। লক্ষ্মীরতন শুক্লাকে সঙ্গে নিয়ে এই কাজ সম্পন্ন করেন।

মনে আছে গুজরাটের বিরুদ্ধে রঞ্জী কোয়ার্টারে বাংলা তোলে ৩৫৩। গুজরাট সেই রান তাড়া করে খুব কাছাকাছি চলে যায়। এমনকি ১১ নম্বরে নামা ললিত প্যাটেল ৬ মেরে দিয়েছিল। এবারেও কি সেমিফাইনাল হবে না? ভাবতে ভাবতে উৎপল চ্যাটার্জীর বলে আউট ললিত। কোনও স্পিনার যে এভাবে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে ইনস্যুইং দেবে তা ললিত জানবেন কি করে? জানবেন কি করে যে সামনের বর্ষীয়ান বাঁ-হাতি বোলার একসময় পেসার ছিলেন।

সত্যি কথা বলতে কি এভাবে নি:স্বার্থ ভাবে শুধু বাংলার জন্য খেলতে আর কাউকে দেখিনি। আন্তর্জাতিক ক্রীঢ়াসূচীর কল্যাণে এমন অনেকবার হয়েছে যে সৌরভ গাঙ্গুলীকে পাওয়া যায়নি (৪ মরশুম একটাও ম্যাচ খেলতে পারেননি)। কিন্তু উৎপল চ্যাটার্জী ছাড়া ব্যাপারটা অসম্ভব ছিল।

বাংলা একনিষ্ঠ লড়াকু স্পিনিং অল-রাউন্ডারকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা 'বল পড়ে ব্যাট নড়ে'র পক্ষ থেকে।

   #আজকের_দিনেভারতের অন্যতম সর্বশ্রেষ্ঠ ফিল্ডার একনাথ সোলকার আজকের দিনে ২০০৫ সালে মারা যান। বোম্বে ও সমারসেটের এই ক্রিকে...
26/06/2025

#আজকের_দিনে

ভারতের অন্যতম সর্বশ্রেষ্ঠ ফিল্ডার একনাথ সোলকার আজকের দিনে ২০০৫ সালে মারা যান। বোম্বে ও সমারসেটের এই ক্রিকেটার ভারতীয় স্কুল দলের অধিনায়ক ছিলেন।

প্রথম শ্রেণির খেলায় ৬৮৯৫ রান (৮/১০০) ও ২৭৬ উইকেট ছিলো তাঁর। ৭টি odi ও ২১টি লিস্ট এ খেলায় অংশ নেন। ২৭ টি টেস্টে ১০৬৮ রান করেন। ৫৩টি ক্যাচ নেন।

পৃথিবীতে আর কারো টেস্ট প্রতি ১.৯৭ গড়ে ক্যাচ ধরার রেকর্ড নেই। ক্রিকেট মাঠের মালির পুত্র একনাথ সোলকারকে অনেক শ্রদ্ধা জানাই।

যে সমস্ত দেশ টেস্ট খেলতে পারেনি কিন্তু বিশ্বক্রিকেটে তাঁদের অস্তিত্বের প্রমান রেখে গেছে তার অন্যতম হলো কেনিয়া।সেই কেনিয়া...
25/06/2025

যে সমস্ত দেশ টেস্ট খেলতে পারেনি কিন্তু বিশ্বক্রিকেটে তাঁদের অস্তিত্বের প্রমান রেখে গেছে তার অন্যতম হলো কেনিয়া।

সেই কেনিয়ার এখনো অবধি সেরা ক্রিকেটার স্টিভ টিকোলো আজকের দিনেই ১৯৭১ সালে জন্মান।

ক্রিকেট পরিবারের ছেলে স্টিভের দাদা টম কেনিয়ার ক্যাপটেন ছিলেন মরিস ওদুম্বের আগে। ১৯৯৬ সালের বিশ্বকাপে স্টিভ ও তাঁদের আর এক ভাই ডেভিড কেনিয়ার হয়ে খেলতে আসেন।

প্রথম খেলায় ভারতের বিরুদ্ধে ১ টা ছয় সহ ৬৫ করেন। শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে ৯৬ আর সেই ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে জয়লাভ করা ম্যাচে ২৯ করেন।

১৯৯৭-৯৮ আই সি সি ট্রফির ফাইনালে বাংলাদেশের কাছে হেরে গেলেও ১৪৭ করেন।

২০০২ সালে আই সি সি চ্যাম্পিয়ন ট্রফিতে ৯৩ ও ৬৯ করেন।

২০০৩ সালে তারই অধিনায়কত্বে সেমি ফাইনাল খেলে কেনিয়া একমাত্র অ্যাসোসিয়েট সদস্য দেশ হিসেবে।

পরে আফ্রিকা একাদশের হয়েও খেলেছেন দেশের হয়ে একদিনের খেলায় সর্বোচ্চ রানকারি ও দ্বিতীয় সর্বোচ্চ উইকেট দখলকারি ক্রিকেটার ।

প্রথম অ্যাসোসিয়েট সদস্য দেশ থেকে ১০০টি odi খেলা ও ২৫০০ রান করা ক্রিকেটার স্টিভ টিকোলো।

৬২টি প্রথম শ্রেণির খেলায় ৪৭২৮ রান (১১/১০০) ও ৮৫ টা উইকেট। লিস্ট এ খেলায় ৬১০৫ রান (৯/১০০) ও ১৬৮ উইকেট ।

একদিনের আন্তর্জাতিক খেলায় ১৩৫ ম্যাচে ৩৪২৮ রান (৩/১০০) ও ৯৪ উইকেট। আন্তর্জাতিক t20 খেলায় ৩৪৫ রান ও ১২ উইকেট। t20 খেলায় ৮৪৪ রান ও ২১ উইকেট।

আই সি সি ট্রফির খেলায় ৭১৯ রান ও ১৯ উইকেট।

জন্মদিনের শুভেচ্ছা।

১৯২৪ সালে আজকের দিনে সিলেটে জন্মেছিলেন বাংলার প্রাক্তন অধিনায়ক, কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় ও কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রিকেট ...
21/06/2025

১৯২৪ সালে আজকের দিনে সিলেটে জন্মেছিলেন বাংলার প্রাক্তন অধিনায়ক, কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় ও কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রিকেট ব্লু পুণ্যব্রত (বাদল) দত্ত।

১৯৪৪/৪৫ সালে তিনি বাংলার হয়ে রঞ্জি খেলা শুরু করেন যুক্ত প্রদেশের বিরুদ্ধে, অভিষেকেই ৫৮। ওই মরশুমে তিনি শক্তিশালী হোলকারের বিরুদ্ধে খেলতে নামেন ও ডেনিস কম্পটন, সি এস নাইডু, বাউসাহেব নিম্বলকার এবং হীরালাল গায়কোয়াড় কে আউট করেন।

পরের বছর তিনি সম্মিলিত বিশ্ববিদ্যালয়ের হয়ে অস্ট্রেলিয়ান সার্ভিসেসের বিরুদ্ধে খেলতে নামেন। সেই দলে পাকিস্তানের প্রথম ক্যাপ্টেন আব্দুল হাফিজ কারদার, ইমতিয়াজ আহমেদ, রুসি মোদী, গাভাস্কারের মামা মাধব মন্ত্রী, সাদু সিন্ধে (শারদ পাওয়ারের শ্বশুর), মধুসূদন রেগে,দাত্তু ফাদকর,রাজেন্দ্রনাথ এবং পালওয়ানকর বালুর ছেলে যশবন্ত পালওয়ানকর ছিলেন।

কিছুদিন বাদেই কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের হয়ে পাঞ্জাব ইউনিভার্সিটি, লাহোরের বিরুদ্ধে ৩১ ও ২৭ করেন। লাহোরের দলে মকসুদ আহমেদ, ফজল মামুদ, নজর মহম্মদ, কারদার, খান মহম্মদ, সুজাউদ্দিনের মতো ভবিষ্যতের পাকিস্তান দলের ক্রিকেটাররা ছিলেন।

ওই মরশুমেই তিনি রঞ্জিতে যুক্ত প্রদেশের বিরুদ্ধে ৬৩ ও ৫১ করেন। এরপরেই তিনি কেমব্রিজ চলে যান।

সেখানে প্রথম ট্রায়াল ম্যাচে ৮১ রান করেন ৪ উইকেট নেন। দ্বিতীয় ম্যাচে ৫ উইকেট নেন। শেষে কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের হয়ে লর্ডসে এম সি সির বিরুদ্ধে খেলতে নেমে দু ইনিংসে ৪ উইকেট পান। এরমধ্যে ৩ টে প্রথম ইনিংসে, যার একটা আবার কম্পটন ও অন্যটি রবার্টসন।

কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের হয়ে ১৩ টি প্রথম শ্রেণির ম্যাচ খেলেন। কেমব্রিজশায়ারের হয়ে মাইনর কাউন্টি খেলেন। বাংলার হয়ে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে ৩৭ গড়ে ১০৭০ রান করেন ৪টি শতরান সহ। মোট ৩৪টি প্রথম শ্রেণির খেলায় ১৪৫৯ রান ও ৪১টি উইকেট পান। বাঁ হাতি অর্থোডক্স বল করতেন। আজও রঞ্জি ফাইনালে বাংলার হয়ে ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ রান তাঁর।

সত্তরের দশক অবধি কলকাতায় মোহনবাগানের হয়ে খেলেছেন।
১০১ তম জন্মদিনে অনেক শুভেচ্ছা।

Address

Kolkata

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when বল পড়ে ব্যাট নড়ে posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Business

Send a message to বল পড়ে ব্যাট নড়ে:

Share

Category