04/09/2026
খুঁটি পূজো ১৪৩৩ 🌼🌼
বাংলার সমাজ-সংস্কৃতি অনুসারে, আগেকার দিনে বনেদি বাড়িগুলোতে দুর্গাপুজোর ঢাকে কাঠি পড়ত রথযাত্রার দিন। ‘পশ্চিমবঙ্গের পূজা-পার্বণ ও মেলা’ জাতীয় লোকসংস্কৃতির আকর গ্রন্থগুলোর বিবরণ অনুযায়ী, রথযাত্রার শুভ তিথিতে প্রতিমা তৈরির জন্য প্রথম কাঠের ফ্রেমে মাটির প্রলেপ দেওয়া হতো, যাকে বলা হতো কাঠামো পূজা।
আধুনিক যুগে বারোয়ারি পুজোর প্যান্ডেল বা মণ্ডপ সংস্কৃতির বিস্তারের ফলে, প্রতিমার কাঠামোর চেয়ে মণ্ডপ তৈরির বাঁশ বা খুঁটি পুজো করার চল শুরু হয়।
খুঁটি পূজার মূল মন্ত্র ও আচার বাস্তু শাস্ত্র থেকেই অনুপ্রাণিত। যে স্থানে মণ্ডপ তৈরি হচ্ছে, সেই ভূমিকে পবিত্র করা এবং নেতিবাচক শক্তি দূর করার জন্য ভূমিসূক্ত পাঠ ও খুঁটিতে সিঁদুর-ধান-দূর্বা দিয়ে বন্দনা করা হয়।
আদিম সমাজে যেকোনো বড় উৎসব বা যজ্ঞের আগে একটি প্রধান যূপকাষ্ঠ বা স্তম্ভ স্থাপন করে তাকে পুজো করা হতো, যা শক্তির প্রতীক। কালক্রমে এটিই মণ্ডপ নির্মাণের 'খুঁটি পূজা' হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে।