01/10/2025
“সত্য ও অহিংসার পথে – মহাত্মা গান্ধীর আদর্শেই আমাদের ভবিষ্যৎ”
আজকের এই শুভ দিনে আমরা এক মহান আত্মাকে স্মরণ করতে একত্রিত হয়েছি—তিনি মহাত্মা গান্ধী, যিনি সত্যিই "জাতির পিতা" হিসেবে আমাদের হৃদয়ে অমর হয়ে আছেন। প্রতি বছর ২রা অক্টোবর তাঁর জন্মদিন আমরা গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে পালন করি, যা গান্ধী জয়ন্তী নামে সমগ্র দেশে উদযাপিত হয়।
গান্ধীজি ছিলেন এক সাধারণ মানুষ, কিন্তু তাঁর চিন্তা, তাঁর দর্শন, তাঁর জীবনযাপন তাঁকে অসাধারণ করে তুলেছিল। তিনি আমাদের শিখিয়েছিলেন—অহিংসা দুর্বলদের অস্ত্র নয়, এটি শক্তিশালীদের সত্যিকারের সাহস। তিনি বলতেন, "চোখের বদলে চোখ নিলে পৃথিবী অন্ধ হয়ে যাবে।"
তিনি সত্য, অহিংসা ও সহিষ্ণুতাকে তাঁর জীবনের মূলমন্ত্র করেছিলেন। স্বাধীনতা সংগ্রামে তিনি যে "অসহযোগ আন্দোলন", "দণ্ডি অভিযান" ও "সত্যাগ্রহ" চালু করেছিলেন, তা ব্রিটিশ সাম্রাজ্যকে কাঁপিয়ে দিয়েছিল। অথচ এক বিন্দু অস্ত্র ব্যবহার না করেই তিনি ভারতবর্ষকে স্বাধীনতার পথে এগিয়ে নিয়ে গিয়েছিলেন।
গান্ধীজীর শিক্ষা কেবল স্বাধীনতার সীমাবদ্ধ ছিল না। তিনি আমাদের দেখিয়েছিলেন—আত্মনির্ভর হওয়াই জাতির প্রকৃত শক্তি। চরকা কেটে সুতো তৈরি, খদ্দর পরিধান—এসবের মাধ্যমে তিনি আমাদের শিখিয়েছিলেন আত্মসম্মান ও আত্মনির্ভরতার গুরুত্ব।
আজকের সমাজে আমরা অনেক সংকটে আছি—অসহিষ্ণুতা, হিংসা, দুর্নীতি, বিভাজন। এই সময় গান্ধীজীর আদর্শ আরও বেশি প্রাসঙ্গিক। যদি আমরা তাঁর পথে চলি, তবে আমাদের সমাজে শান্তি, ঐক্য ও ভ্রাতৃত্ব প্রতিষ্ঠা করতে পারব।
প্রিয় উপস্থিতজন,
এই গান্ধী জয়ন্তীর দিনে আসুন আমরা শপথ করি—
আমরা সত্যকে আঁকড়ে ধরব,
অহিংসাকে জীবনের মূলনীতি করব,
অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়াব,
এবং একটি শান্তিপূর্ণ, ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গড়ে তুলব।
শেষে আমি বলতে চাই, মহাত্মা গান্ধীর জীবন আমাদের শেখায়—একজন মানুষের সততা, দৃঢ়তা ও সাহস সমগ্র জাতিকে বদলে দিতে পারে। তাই তাঁর শিক্ষাকে শুধু আজ নয়, প্রতিদিন আমাদের জীবনে ধারণ করা উচিত।
ধন্যবাদ। জয় হিন্দ।