30/01/2026
ঝাড়খণ্ড নম্বরের গাড়ি, ফাঁকা আসন ও অনুপস্থিত শুভেন্দু— রাজনগরে বিজেপি সভা ঘিরে প্রশ্ন
রাজনগর (বীরভূম):
বীরভূমের রাজনগরে বিজেপির আয়োজিত জনসভাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে জোর চর্চা। বহুল প্রচারিত এই সভাকে ঘিরে যে বড় সমাবেশের প্রত্যাশা তৈরি করা হয়েছিল, বাস্তব চিত্রে তার ছাপ তেমনভাবে ধরা পড়েনি। সভাস্থলে উপস্থিতির সংখ্যা ছিল সীমিত, একাধিক চেয়ার ফাঁকা পড়ে থাকতে দেখা যায়।
সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ বিষয়, সভায় উপস্থিত ছিলেন না রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর অনুপস্থিতি নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই নানা প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে রাজনৈতিক মহলে।
এছাড়াও সভাস্থলের আশপাশে ঝাড়খণ্ড নম্বরযুক্ত একাধিক গাড়ির উপস্থিতি নতুন করে বিতর্ক উসকে দিয়েছে। তৃণমূল কংগ্রেসের অভিযোগ, প্রকৃত জনসমর্থনের অভাব ঢাকতে বিজেপি রাজ্যের বাইরে থেকে লোক এনে ভিড় দেখানোর চেষ্টা করেছে।
স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্বের বক্তব্য, রাজনগরে বিজেপির যদি সাংগঠনিক শক্তি ও জনভিত্তি সত্যিই মজবুত হতো, তাহলে বাইরের রাজ্যের গাড়ির প্রয়োজন পড়ত না। তাঁদের দাবি, স্থানীয় মানুষের আগ্রহের অভাবেই এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সভার আগে জোরদার প্রচার চালানো হলেও উপস্থিতি ছিল প্রত্যাশার তুলনায় অনেকটাই কম। দলীয় কর্মীর সংখ্যাও ছিল সীমিত, যা বিজেপির সাংগঠনিক দুর্বলতার ইঙ্গিত বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা।
এখন প্রশ্ন উঠছে— সভায় ভিড় কম হওয়ার আশঙ্কাতেই কি শুভেন্দু অধিকারী দূরে ছিলেন? রাজনগরে বিজেপির সংগঠনের বাস্তব চিত্র কি এই সভার মধ্য দিয়েই প্রকাশ্যে এসেছে?
তৃণমূল কংগ্রেসের দাবি, এই সভা বাংলায় বিজেপির বর্তমান অবস্থানকে স্পষ্ট করে দিয়েছে। তাদের বক্তব্য, রাজ্যের মাটিতে দাঁড়িয়ে বিজেপি এখন আর নিজেদের শক্তি প্রমাণ করতে পারছে না।
এই ঘটনার বিষয়ে বিজেপির তরফে এখনও পর্যন্ত কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি। ফলে জল্পনা ও প্রশ্ন আরও জোরদার হচ্ছে।
রাজনৈতিক মহলে এখন একটাই আলোচনা— তবে কি বাংলায় বিজেপির রাজনৈতিক জমি ধীরে ধীরে সরে যাচ্ছে?