03/10/2025
ভট্টাচার্য পাড়া সর্বজনীন পুজো কমিটির পক্ষ থেকে আমি বোধিব্রত চক্রবর্তী এই পুজো কমিটির একজন সদস্য । কয়েকটা বিষয় না বললেই না ,সেই কারণেই আজকের এই পোস্ট , একটু বড় হবে.... তবুও সবটা পড়ে দেখার অনুরোধ রইলো🙏🙏🙏🙏
প্রতিবার পুজোর তিন থেকে চার মাস আগে আমরা নিজেরাও জানিনা পুজোটা হবে কি হবে না ,একটা দোটানা অবস্থায় থাকে ।শেষ মুহূর্তে খুব আনন্দের সঙ্গে হৈ হৈ করে আমরা পুজোটা কাটাই।
এর বিহাইন্ড দা সিনের যে কারিগর..... কারিগর বলতে বোঝাচ্ছি বিপুল পরিমাণ অর্থের যোগান দেওয়া।
পাড়া থেকে সাকুল্য চাঁদা ওঠে 60 থেকে 70 হাজার টাকা।
সেই 2016 সাল থেকে আমাদের সঙ্গে পাশে রয়েছেন বহরমপুর পৌরসভার পৌরপিতা শ্রী নারু গোপাল মুখার্জি মহাশয় তার অবদান অনস্বীকার্য।
আমাদের পাড়ার ছেলে বিক্রম সরকার যাকে চিন্টুদা বলে সবাই চেনে, উনি প্রতিবছর ঠাকুর তৈরির দাম দেন শুধু ঠাকুর তৈরির দাম না, তারপরের ঘাটতিটা উনিই পূরণ করেন। এ বছর যখন পুজো হবে না তখন উনি কিন্তু বলেছিলন পুজো হবেই , পুজো করবোই ,তারপর আর ফিরে তাকাতে হয়নি। জলের মতো অর্থ দিয়ে গিয়েছেন।
আর এই পুজোর সেক্রেটারি সুজয় সরকার, মুন্নাদা বলে সবাই চেনে। উনার স্ত্রী পিএফ থেকে লোন নিয়ে পুজো করার জন্য বলেছেন, এবং পিএফ থেকে লোন নিয়ে পুজোতে ইনভেস্ট করছেন।
তমাল ভট্টাচার্য মিল্টু দা, সুদূর বাঁকুড়ায় চাকরি করেন সেখান থেকে পুজোর টানে প্রত্যেক সপ্তাহে কলকাতায় পড়ে থেকে এড তুলে, চাঁদা তুলে যোগান দেয়। পাড়ার তাপস সান্যাল, মন্টুদা এই বয়সেও সর্বতোভাবে সকলের সঙ্গে থেকে যাবতীয় দায়িত্ব পালন করেন, পাশাপাশি যতটা সম্ভব উনার পক্ষে উনি ব্যক্তিগতভাবে অর্থ রাশি প্রদান করেন।
ভালো লাগে এটা দেখেই সারা বছর যাদের দেখতে পাই না, তাদের এই পুজোর চারটে দিন দাঁড়িয়ে থেকে মাতব্বরি যখন দেখি তখন খুব ভালো লাগে ।
আর আমি তো বে-পাড়ার বাসিন্দা। ১২ বছর ধরে এই পাড়ায় ঘাঁটি গেড়েছি ,আমরা একটু হই হই করতে ভালোবাসি যতটা সম্ভব আমার পক্ষে কন্ট্রিবিউট করা আমি সেটা করি।
তাই যখন পাড়ার কিছু কিছু মানুষের কথা শুনি তখন কেমন লাগে সেটা ভাষায় প্রকাশ করা যায় না। পরিশেষে একটা কথা বলি এই পুজো যারা করেন উদ্যোক্তা ,সত্যি তারা পাগল ।পাগল না হলে এ ধরনের বড় আয়োজন করা সম্ভব না। আর তার মধ্যেও অনেকেই আছেন যারা সুযোগ খোঁজেন।
আর আরো একজন মানুষ স্বপন সরকার সবার প্রিয় স্বপন দা, মুখে এক গাল হাসি নিয়ে দিনরাত 24 ঘণ্টা গাধার মত পরিশ্রম করে যান।
আর আমাদের পাপ্পু দা, মানে সিদ্ধার্ত চক্রবর্তী এ বছরের ঠাকুরের যাবতীয় বেনারসি শাড়ির ব্যবস্থা উনি করেছেন। উনিতো সর্বতোভাবে থাকেন উনাকে নিয়ে আলাদা করে কিছু বলার থাকে না।
আর আরো একজনের কথা না বললেই নয় , তিনি হচ্ছেন বুড়ি পিসি। মানে তাপসী চক্রবর্তী ।চাঁদা তোলা থেকে আরম্ভ করে পুজার যোগার থেকে আরম্ভ করে পূজোর ব্যবস্থাপনা সবটাই আরো দু চারজন সঙ্গী সাথীকে নিয়ে করেন। হ্যাঁ, চিৎকার করেন, একটু রূঢ় কথা বলেন ,কিন্তু সকলের ভালোর জন্যই। এই মহিলার অবদান কিন্তু কোন অংশে কম না।
পুজোর চারটে দিন চেষ্টা করা হয়েছে প্রতিদিন রাত্রে বেলায় একটু ডাল ভাত আলু পোস্ত ছেচরা তরকারি দিয়েও পুজো কমিটির সঙ্গে যারা অঙ্গাঙ্গি ভাবে জড়িত তাদেরকে বসে পাত পেড়ে খাওয়ানো। অষ্টমীর ভোগ বাড়ি বাড়ি পৌঁছে দেওয়া। সর্বোপরি নবমীতে মাছ ভাতের যোগান দেওয়া ,শুধু তাই না দশমীর দিনেও রাত্রে বেলায় পোলাউ চিকেন খাওয়ানো । মুদিখানা থেকে সামান্য কিছু মালপত্র বেঁচে গেছে সেটা আমরা চেষ্টা করব কালীপুজোর আগে বা কালীপুজোর পরে সকলকে নিয়ে একটা গেট টুকগেদার করার। একটু খাওয়া দাওয়া হবে, আর এই পুজোটা আমরা কিভাবে করেছি তাতে পয়সা কিভাবে জোগাড় করেছি আর সারা বছর কিভাবে ঋণের বোঝা মাথায় নিয়ে চলতে হয় সেটাও আমরা আলোচনা স্তরে নিয়ে আসবো। সকলকে বলি একটা কথা , সাথে থাকবেন না পাশে থাকবেন না ভালো কথা, কিন্তু দয়া করে মুখটা বন্ধ রাখবেন।
মাকে আজকে আমরা কথা দিয়েছি নতুন কোন ভাবনা নতুন কিছু নিয়ে 2026 এ আবার তোমাকে নিয়ে আসব এই ভট্টাচার্য পাড়ায় যা মুর্শিদাবাদ বাসীর মনে গেঁথে থাকবে। শুধু মা একটু শক্তি দাও, সাহস দাও আর সকলের কথা উপেক্ষা করার সামর্থ্য দাও।
কারোর খারাপ লেগে থাকলে আন্তরিকভাবে দুঃখিত।🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏