26/01/2026
বড় ঘরের ছেলে দক্ষিণেশ্বরে এসেছে বন্ধুর সাথে। একটু শান্তি পাওয়ার জন্যেই তো ঠাকুর বাড়ীতে আসা। সাধের সোনার ঘড়িটি যে হারিয়ে গেছে! তাছাড়া লোক সেবায় নাম লেখাতেও চায়।
শ্রীরামকৃষ্ণদেব সেই সময় ভক্ত সঙ্গে পঞ্চবটীতে। ঠাকুরের কাছে উপস্থিত দুই বন্ধু। খানিক বাদে ঠাকুর ছেলেটিকে বললেন, গঙ্গা থেকে এক ঘটি জল নিয়ে এসো দেখি। অবাক হয়ে গেল দুজনেই। হঠাৎ এক ঘটি জল কেন! বন্ধুর আকুতি, আমি এনে দিই ঠাকুর! তোকে কি সরাসরি বলতে পারতুম না!----ঠাকুর বলে উঠলন। পুনরায় একই কথা----এক ঘটি গঙ্গা জল।
প্রথমে ইতস্তত করলেও খানিক ভেবে তাই করল ছেলেটি। জল নিয়ে এসে দাঁড়াতেই ঠাকুর পা দুখানি বাড়িয়ে দিয়ে বললেন, ধুয়ে দাও, বড় ময়লা হয়েছে। এবারেও আশ্চর্য হয়ে গেল যুবক। জল আনার পরে আবার পা ধোওয়া! তবু সযত্নে ঠাকুরের পা দুখানি ধুয়ে দিল ধনী ঘরের বড়লোক ছেলে।
লোকসেবায় নাম লেখাতে এসেছে। ঠাকুর কী যাচাই করলেন! দেখে নিলেন মন থেকে অহং গেছে কিনা! নাকি তাঁর পদসেবার মধ্যে দিয়ে লোকসেবার উদ্বোধন করিয়ে দিলেন! তাঁর লীলা বোঝা দায়।
পরের ঘটনার সবটাই ইতিহাস। সেদিনের সেই বড় ঘরের ছেলে আর কেউ নন, সারদাপ্রসন্ন মিত্র। সন্ন্যাসী হওয়ার পরে হলেন স্বামী ত্রিগুণাতীতানন্দ। সঙ্গী বন্ধুটি ছিলেন রাজা মহারাজজী, স্বামী ব্রহ্মানন্দ। স্বামী ত্রিগুণাতীতানন্দজী মহারাজের শুভআবির্ভাব তিথিতে শ্রীশ্রীঠাকুর ও তাঁর এই সেবক সহ গুরুভ্রাতাদের আভূমিলুন্ঠিত প্রণাম নিবেদন করি। জয় মা ভবতারিণী।