Islamar alo

Islamar alo Islam

19/05/2026

এক মানুষের উপর অপর মানুষে হক্ক কি কি

অনুমান,বিদ্রুপ,অপবাদ,গিবত,পরনিন্দা,অন্যায়,মিমাংসা,ইনসাফ,ন্যায় বিচার
إِنَّمَا ٱلۡمُؤۡمِنُونَ إِخۡوَةࣱ فَأَصۡلِحُواْ بَيۡنَ أَخَوَيۡكُمۡۚ وَٱتَّقُواْ ٱللَّهَ لَعَلَّكُمۡ تُرۡحَمُونَ নিশ্চয় মুমিনরা পরস্পর ভাই ভাই। কাজেই তোমরা তোমাদের ভাইদের মধ্যে আপোষ- মীমাংসা করে দাও। আর তোমরা আল্লাহকে ভয় কর, আশা করা যায় তোমরা অনুগ্রহপ্রাপ্ত হবে। Al-Hujurat ৪৯:১০
وَإِن طَآئِفَتَانِ مِنَ ٱلۡمُؤۡمِنِينَ ٱقۡتَتَلُواْ فَأَصۡلِحُواْ بَيۡنَهُمَاۖ فَإِنۢ بَغَتۡ إِحۡدَىٰهُمَا عَلَى ٱلۡأُخۡرَىٰ فَقَٰتِلُواْ ٱلَّتِي تَبۡغِي حَتَّىٰ تَفِيٓءَ إِلَىٰٓ أَمۡرِ ٱللَّهِۚ فَإِن فَآءَتۡ فَأَصۡلِحُواْ بَيۡنَهُمَا بِٱلۡعَدۡلِ وَأَقۡسِطُوٓاْۖ إِنَّ ٱللَّهَ يُحِبُّ ٱلۡمُقۡسِطِينَআর যদি মুমিনদের দু’দল যুদ্ধে লিপ্ত হয়, তাহলে তোমরা তাদের মধ্যে মীমাংসা করে দাও। অতঃপর যদি তাদের একদল অপর দলের উপর বাড়াবাড়ি করে, তাহলে যে দলটি বাড়াবাড়ি করবে, তার বিরুদ্ধে তোমরা যুদ্ধ কর, যতক্ষণ না সে দলটি আল্লাহর নির্দেশের দিকে ফিরে আসে। তারপর যদি দলটি ফিরে আসে তাহলে তাদের মধ্যে ইনসাফের সাথে মীমাংসা কর এবং ন্যায়বিচার কর। নিশ্চয় আল্লাহ ন্যায়বিচারকারীদের ভালবাসেন। Al-Hujurat ৪৯:৯
يَآأَيُّهَا ٱلَّذِينَ ءَامَنُواْ لَا يَسۡخَرۡ قَوۡمࣱ مِّن قَوۡمٍ عَسَىٰٓ أَن يَكُونُواْ خَيۡرࣰا مِّنۡهُمۡ وَلَا نِسَآءࣱ مِّن نِّسَآءٍ عَسَىٰٓ أَن يَكُنَّ خَيۡرࣰا مِّنۡهُنَّۖ وَلَا تَلۡمِزُوٓاْ أَنفُسَكُمۡ وَلَا تَنَابَزُواْ بِٱلۡأَلۡقَٰبِۖ بِئۡسَ ٱلِٱسۡمُ ٱلۡفُسُوقُ بَعۡدَ ٱلۡإِيمَٰنِۚ وَمَن لَّمۡ يَتُبۡ فَأُوْلَٰٓئِكَ هُمُ ٱلظَّٰلِمُونَহে ঈমানদারগণ, কোন সম্প্রদায় যেন অপর কোন সম্প্রদায়কে বিদ্রূপ না করে, হতে পারে তারা বিদ্রূপকারীদের চেয়ে উত্তম। আর কোন নারীও যেন অন্য নারীকে বিদ্রূপ না করে, হতে পারে তারা বিদ্রূপকারীদের চেয়ে উত্তম। আর তোমরা একে অপরের নিন্দা করো না এবং তোমরা একে অপরকে মন্দ উপনামে ডেকো না। ঈমানের পর মন্দ নাম কতইনা নিকৃষ্ট! আর যারা তাওবা করে না, তারাই তো যালিম। Al-Hujurat ৪৯:১১
يَآأَيُّهَا ٱلَّذِينَ ءَامَنُواْ ٱجۡتَنِبُواْ كَثِيرࣰا مِّنَ ٱلظَّنِّ إِنَّ بَعۡضَ ٱلظَّنِّ إِثۡمࣱۖ وَلَا تَجَسَّسُواْ وَلَا يَغۡتَب بَّعۡضُكُم بَعۡضًاۚ أَيُحِبُّ أَحَدُكُمۡ أَن يَأۡكُلَ لَحۡمَ أَخِيهِ مَيۡتࣰا فَكَرِهۡتُمُوهُۚ وَٱتَّقُواْ ٱللَّهَۚ إِنَّ ٱللَّهَ تَوَّابࣱ رَّحِيمࣱ হে মুমিনগণ, তোমরা অধিক অনুমান থেকে দূরে থাক। নিশ্চয় কোন কোন অনুমান তো পাপ। আর তোমরা গোপন বিষয় অনুসন্ধান করো না এবং একে অপরের গীবত করো না। তোমাদের মধ্যে কি কেউ তার মৃত ভাইয়ের গোশ্ত খেতে পছন্দ করবে? তোমরা তো তা অপছন্দই করে থাক। আর তোমরা আল্লাহকে ভয় কর। নিশ্চয় আল্লাহ অধিক তাওবা কবূলকারী, অসীম দয়ালু। Al-Hujurat ৪৯:১২
وَتَعَاوَنُواْ عَلَى ٱلۡبِرِّ وَٱلتَّقۡوَىٰۖ وَلَا تَعَاوَنُواْ عَلَى ٱلۡإِثۡمِ وَٱلۡعُدۡوَٰنِۚ وَٱتَّقُواْ ٱللَّهَۖ إِنَّ ٱللَّهَ شَدِيدُ ٱلۡعِقَابِ সৎকর্ম ও তাকওয়ায় তোমরা পরস্পরের সহযোগিতা কর। মন্দকর্ম ও সীমালঙ্ঘনে পরস্পরের সহযোগিতা করো না। আর আল্লাহকে ভয় কর। নিশ্চয় আল্লাহ আযাব প্রদানে কঠোর। Al-Ma'idah ৫:২
والَّذِينَ يُؤْذُونَ المُؤْمِنِينَ والْمُؤْمِنَاتِ بِغَيْرِ مَا اكْتَسَبُوا فَقَدِ احْتَمَلُوا بُهْتاناً وإثْماً مُبِيناً যারা বিনা অপরাধে বিশ্বাসী পুরুষ ও নারীদেরকে কষ্ট দেয়, তারা অবশ্যই মিথ্যা অপবাদ এবং স্পষ্ট অপরাধের বোঝা বহন করে। (সূরা আহযাব ৫৮)
وَعَنْ عَبدِ اللهِ بنِ عَمْرِو بنِ العَاصِ رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا قَالَ : قَالَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ المُسْلِمُ مَنْ سَلِمَ المُسْلِمُونَ مِنْ لِسَانِهِ وَيَدِهِ وَالمُهَاجِرُ مَنْ هَجَرَ مَا نَهَى اللهُ عَنْهُ متفق عَلَيْهِআব্দুল্লাহ ইবনে আমর ইবনে আস (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, প্রকৃত মুসলিম সেই, যার মুখ ও হাত হতে মুসলিমগণ নিরাপদে থাকে। আর প্রকৃত মুহাজির (দ্বীন বাঁচানোর উদ্দেশ্যে স্বদেশ ত্যাগকারী) সেই ব্যক্তি, যে আল্লাহর নিষিদ্ধ কর্মসমূহ ত্যাগ করে।বুখারী ৯, ৬৪৮৪, মুসলিম ১৭০
عن فَضَالَةَ بْنِ عُبَيْدٍ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ فِي حَجَّةِ الْوَدَاعِ أَلَا أُخْبِرُكُمْ بِالْمُؤْمِنِ مَنْ أَمِنَهُ النَّاسُ عَلَـى أَمْوَالِهِمْ وَأَنْـفُسِهِمْ وَالْمُسْلِمُ مَنْ سَلِمَ النَّاسُ مِنْ لِسَانِـهِ وَيَدِهِ وَالْمُجَاهِـدُ مَنْ جَاهَـدَ نَفْسَهُ فِـيْ طَاعَـةِ اللهِ وَالْـمُهَـاجِرُ مَنْ هَجَرَ الْـخَطَايَا وَالـذَّنُوْبَফাযবালাহ বিন উবাইদ (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিদায়ী হজ্জে বলেছেন, আমি কি তোমাদেরকে মুমিন কে তা বলে দেব না? (প্রকৃত মুমিন হল সেই), যার (অত্যাচার) থেকে লোকেরা নিজেদের জান-মালের ব্যাপারে নিরাপত্তা লাভ করতে পারে। (প্রকৃত) মুসলিম হল সেই ব্যক্তি, যার জিব ও হাত হতে লোকেরা শান্তি লাভ করতে পারে। (প্রকৃত) মুজাহিদ হল সেই ব্যক্তি, যে আল্লাহর আনুগত্য করতে নিজের মনের বিরুদ্ধে জিহাদ করে। আর (প্রকৃত) মুহাজির (হিজরতকারী) হল সেই ব্যক্তি, যে সমস্ত পাপাচরণকে হিজরত (বর্জন) করে।আহমাদ ২৩৯৫৮, প্রমুখ, সিলসিলাহ সহীহহাহ ৫৪৯
وَعَنهُ قَالَ : قَالَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ مَنْ أَحَبَّ أَنْ يُزَحْزَحَ عَنِ النَّارِ وَيُدْخَلَ الجَنَّةَ فَلْتَأْتِهِ مَنِيَّتُهُ وَهُوَ يُؤْمِنُ بِاللهِ وَاليَومِ الآخِرِ وَلْيَأْتِ إِلَى النَّاسِ الَّذِي يُحِبُّ أَنْ يُؤْتَى إِلَيْهِ رواه مسلمউক্ত রাবী (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে পছন্দ করে যে, তাকে জাহান্নাম থেকে দূরে রাখা হোক এবং জান্নাতে প্রবেশ করানো হোক, তার মরণ যেন এমন অবস্থায় হয় যে, সে আল্লাহ ও তাঁর রসূলের প্রতি ঈমান রাখে এবং অন্যের প্রতি এমন ব্যবহার দেখায়, যা সে নিজের জন্য পছন্দ করে।মুসলিম ৪৮৮২
عَنْ أَبِى بَرْزَةَ الأَسْلَمِىِّ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ يَا مَعْشَرَ مَنْ آمَنَ بِلِسَانِهِ وَلَمْ يَدْخُلِ الإِيمَانُ قَلْبَهُ لاَ تَغْتَابُوا الْمُسْلِمِينَ وَلاَ تَتَّبِعُوا عَوْرَاتِهِمْ فَإِنَّهُ مَنِ اتَّبَعَ عَوْرَاتِهِمْ يَتَّبِعِ اللهُ عَوْرَتَهُ وَمَنْ يَتَّبِعِ اللهُ عَوْرَتَهُ يَفْضَحْهُ فِى بَيْتِهِআবূ বারযাহ আসলামী (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, হে সেই মানুষের দল; যারা মুখে ঈমান এনেছে এবং যাদের হৃদয়ে ঈমান স্থান পায়নি (তারা শোন)! তোমরা মুসলিমদের গীবত করো না এবং তাদের দোষ খুঁজে বেড়ায়ো না। কারণ, যে ব্যক্তি তাদের দোষ খুঁজবে, আল্লাহ তার দোষ ধরবেন। আর আল্লাহ যার দোষ ধরবেন তাকে তার ঘরের ভিতরেও লাঞ্ছিত করবেন।আহমাদ ৪/৪২০, আবূ দাউদ ৪৮৮০, আবূ য়্যা’লা, সহীহুল জামে’ ৭৯৮৪
عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ لاَ ضَرَرَ وَلاَ ضِرَارَইবনে আব্বাস (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, কারো জন্য অপরের কোন প্রকার ক্ষতি করা বৈধ নয়। কোন দু’জনের জন্য পদ্ধতিশোধমূলক পরস্পরকে ক্ষতিগ্রস্ত করাও বৈধ নয়।আহমাদ ২৮৬৫, ইবনে মাজাহ ২৩৪০, ২৩৪১, হাসান সহীহ
عَنْ حُذَيْفَةَ بن أُسَيْدٍ أَنّ النَّبِيَّ ﷺ قَالَ مَنْ آذَى الْمُسْلِمِينَ فِي طُرُقِهِمْ وَجَبَتْ عَلَيْهِ لَعْنَتُهُمْহুযাইফাহ বিন আসীদ (বা উসাইদ) (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি মুসলিমদেরকে তাদের রাস্তার ব্যাপারে কষ্ট দেবে, সে ব্যক্তির উপর তাদের অভিশাপ অনিবার্য হয়ে যাবে।ত্বাবারানীর কাবীর ২৯৭৮, সহীহ তারগীব ১৪৮
عَنْ أَبِى سَعِيدٍ قَالَ : اعْتَكَفَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ فِى الْمَسْجِدِ فَسَمِعَهُمْ يَجْهَرُونَ بِالْقِرَاءَةِ فَكَشَفَ السِّتْرَ وَقَالَ أَلاَ إِنَّ كُلَّكُمْ مُنَاجٍ رَبَّهُ فَلاَ يُؤْذِيَنَّ بَعْضُكُمْ بَعْضًا وَلاَ يَرْفَعْ بَعْضُكُمْ عَلَى بَعْضٍ فِى الْقِرَاءَةِ أَوْ قَالَ فِى الصَّلاَةِআবূ সাঈদ (রাঃ) বলেন, একদা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মসজিদে ই’তিকাফে ছিলেন। তিনি শুনলেন লোকেরা জোরেশোরে ক্বিরাআত পড়ছে। সুতরাং তিনি পর্দা সরিয়ে বললেন, শোনো! তোমাদের প্রত্যেকেই আল্লাহর সাথে মুনাজাত করছ। অতএব তোমরা একে অপরকে কষ্ট দিয়ো না এবং একে অপরের উপর ক্বিরাআতে (অথবা নামাযে) শব্দ উঁচু করো না।আহমাদ ৩/৯৪, আবূ দাঊদ ১৩৩৪, নাসাঈ, ইবনে মাজাহ, সানাদ সহীহ
عَنْ أَبِـى ذَرٍّ قَالَ قُلْتُ يَا رَسُولَ اللهِ أَىُّ الأَعْمَالِ أَفْضَلُ قَالَ الإِيمَانُ بِاللهِ وَالْجِهَادُ فِى سَبِيلِهِ قَالَ قُلْتُ أَىُّ الرِّقَابِ أَفْضَلُ قَالَ أَنْفَسُهَا عِنْدَ أَهْلِهَا وَأَكْثَرُهَا ثَمَنًا قَالَ قُلْتُ فَإِنْ لَمْ أَفْعَلْ قَالَ تُعِينُ صَانِعًا أَوْ تَصْنَعُ لأَخْرَقَ قَالَ قُلْتُ يَا رَسُولَ اللهِ أَرَأَيْتَ إِنْ ضَعُفْتُ عَنْ بَعْضِ الْعَمَلِ قَالَ تَكُفُّ شَرَّكَ عَنِ النَّاسِ فَإِنَّهَا صَدَقَةٌ مِنْكَ عَلَى نَفْسِكَআবূ যার্র (রাঃ) বলেন, একদা আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে জিজ্ঞাসা করলেন, সবচেয়ে ভালো কাজ কী? উত্তরে তিনি বললেন, আল্লাহর প্রতি ঈমান ও তাঁর রাস্তায় জিহাদ করা। আমি বললাম, কোন্ শ্রেণীর ক্রীতদাস মুক্ত করা সবচেয়ে ভালো? তিনি বললেন, যা মূল্যে সবচেয়ে বেশী এবং তার পরিবারের নিকট উত্তম। আমি বললাম, ’’আমি যদি তা না পারি? তিনি বললেন, তবে কোন কারিগরের সহযোগিতা কর অথবা যে কারিগর নয় তার কাজ করে দাও। আমি বললাম, তাও যদি না পারি? তিনি বললেন, তাহলে মানুষকে কষ্ট দেওয়া হতে বিরত থাকবে। আর সেটা হবে তোমার পক্ষ থেকে কৃত সদকাহ।বুখারী ২৫১৮, মুসলিম ২৬০
খালেদ বিন অলীদ (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি দুনিয়াতে মানুষকে সবচেয়ে বেশি শাস্তি বা কষ্ট দেয়, কিয়ামতের দিন সে সবচেয়ে বেশি আযাব ভোগ করবে।আহমাদ ১৬৮১৯, শুআবুল ঈমান বাইহাক্বী ৫৩৫৬, সহীহুল জামে’ হা/ ৯৯৮
عَنْ أَبِـيْ ذَرٍّ جُندُبِ بنِ جُنَادَةَ عَنِ النَّبيّ ﷺ فِيمَا يَروِيْ عَنِ اللهِ تَبَارَكَ وَتَعَالَى أنَّهُ قَالَ يَا عِبَادِيْ إنِّـيْ حَرَّمْتُ الظُلْمَ عَلَى نَفْسِيْ وَجَعَلْتُهُ بيْنَكُمْ مُـحَرَّماً فَلَا تَظَالَمُوا رواه مسلمআবূ যার্র জুনদুব বিন জুনাদাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর সুমহান প্রভু হতে বর্ণনা করেছেন, তিনি (আল্লাহ) বলেন, হে আমার বান্দারা! আমি অত্যাচারকে আমার নিজের জন্য হারাম করে দিয়েছি এবং আমি তা তোমাদের মাঝেও হারাম করলাম। সুতরাং তোমরাও একে অপরের প্রতি অত্যাচার করো না।মুসলিম ৬৭৩৭

15/05/2026

 তাকওয়ার গুরুত্ব ও একমাত্র আল্লকেই ভয় করার নির্দেশ:

[ বর্তমান পৃথিবীতে AI কে মানুষ দৃয় বিশ্বাস করে ও মানে , চিকিৎসা ও ঔষধের উপর বিশ্বাস করে,বিজ্ঞানকে দৃয় বিশ্বাস করে ও মানে, মানুষের তৈরী নিয়ম পদ্ধতিকে [গণতন্ত্র, সমাজতন্ত্র,ধর্মনিরপেক্ষতা,] দৃয় বিশ্বাস করে ও মানে,
আল্লাহর ভয় মানুষের অন্তর থেকে বাহির করে প্রত্যেক দেশে প্রশাসন,রাজনৈতিক দল, ক্ষমতা বা সক্ষমতা প্রভাব বিস্তার , সুখ- শান্তি,অর্থ, মানুষকে [ আল্লাহ প্রদত্ত জ্ঞান থেকে বিরত রেখে ] জ্ঞানহীন করে পৃথিবীর প্রত্যেক বস্তুর দিকে ব্যস্ত করে মানুষের নিধারিত সময় নষ্ট করে ।ভবিষতে দাজ্জালকেও মানুষ দৃয় বিশ্বাস করবে ও মানবে,]

1. রবকেই ভয় করলে কালিমা রক্ষা হবে?
2. এক বরকেই ভয় করা নির্দেশ
3. কাকে ভয় করবেন ? আল্লাকে না গইরুল্লাকে ?
4. আল্লাহর নির্দেশ কি?
5. আল্লাহকে ভয় করতে কে নির্দেশ দিয়েছিল ?রাসুল সা: কে কে নির্দেশ দিয়েছিল ?
6. আল্লাহ মানুষকে কিসের জন্য সর্তক করেন ?
7. আল্লাহর চাওয়া কি ? মানুষ তাকে ভয় করবে।
8. কারা আল্লাহকে ভয় করবে?
9. কে আল্লাহকে ভয় করে?
10. আল্লাহকে ভয় কর। ৮+৩=১১ টি আয়াত

রবকেই ভয় করলে কালিমা রক্ষা হবে?
أَنْ أَنذِرُوٓا۟ أَنَّهُۥ لَآ إِلَٰهَ إِلَّآ أَنَا۠ فَٱتَّقُونِ যেন তোমরা সতর্ক কর যে, আমি ছাড়া কোন ইলাহ নেই। অতএব, তোমরা আমাকে ভয় কর। An-Nahl ১৬:২

এক বরকেই ভয় করা নির্দেশ
وَلْيَتَّقِ ٱللَّهَ رَبَّهُনিজ রব আল্লাহর তাকওয়া অবলম্বন করে। Al-Baqarah ২:২৮৩
وَأَنَا۠ رَبُّكُمْ فَٱتَّقُونِ আর আমি তোমাদের রব, অতএব তোমরা আমাকে ভয় কর।Al-Mu'minun ২৩:৫২

কাকে ভয় করবেন ? আল্লাকে না গইরুল্লাকে ?
أَفَغَيْرَ ٱللَّهِ تَتَّقُونَ অতএব তোমরা কি আল্লাহ ছাড়া অন্যকে ভয় করবে?An-Nahl ১৬:৫২

আল্লাহর নির্দেশ কি ?
وَإِيَّاكُمْ أَنِ ٱتَّقُوا۟ ٱللَّهَۚ তোমাদেরকে আমি নির্দেশ দিয়েছি যে, তোমরা আল্লাহকে ভয় কর। An-Nisa' ৪:১৩১

আল্লাহকে ভয় করতে কে নির্দেশ দিয়েছিল ?রাসুল সা: কে নির্দেশ দিয়েছিল ?
أَوْ أَمَرَ بِٱلتَّقْوَىٰٓ অথবা তাকওয়ার নির্দেশ দেয়?Al-'Alaq ৯৬:১২

আল্লাহ মানুষকে কিসের জন্য সর্তক করেন ?
أَفَلَا تَتَّقُونَ তবুও কি তোমরা তাকওয়া অবলম্বন করবে না’?Al-Mu'minun ২৩:২৩, ’Al-Mu'minun ২৩:৮৭

আল্লাহর চাওয়া কি ? মানুষ তাকে ভয় করবে।
وَلَعَلَّهُمْ يَتَّقُونَ আশা করা যায় তারা সাবধান হবে’।Al-A'raf ৭:১৬৪ Az-Zumar ৩৯:২৮ إِن كُنتَ تَقِيًّا যদি তুমি মুত্তাকী হও’।Maryam ১৯:১৮

কারা আল্লাহকে ভয় করবে?
يَٰٓأَيُّهَا ٱلنَّاسُ ٱتَّقُوا۟ رَبَّكُمْۚ হে মানুষ, তোমরা তোমাদের রবকে ভয় কর। ।Al-Hajj ২২:১

কে আল্লাহকে ভয় করে?
يَٰعِبَادِ فَٱتَّقُونِ ‘হে আমার বান্দারা, তোমরা আমাকেই ভয় কর’।Az-Zumar ৩৯:১৬

আল্লাহ কাদের সম্পর্কে জানেন?
وَٱللَّهُ عَلِيمٌۢ بِٱلْمُتَّقِينَ আর আল্লাহ মুত্তাকীদের সম্পর্কে সম্যক জ্ঞাত।Aal-e-Imran ৩:১১৫
هُوَ أَعْلَمُ بِمَنِ ٱتَّقَىٰٓ কে তাকওয়া অবলম্বন করেছে, সে সম্পর্কে তিনিই সম্যক অবগত।An-Najm ৫৩:৩২

এক আল্লাহকেই ভয় কর। ৮+৩=১১ টি আয়াত
وَٱتَّقُوا۟ ٱللَّهَ আর আল্লাহর তাকওয়া না।Al-Ma'idah ৫:১০৮ At-Talaq ৬৫:১ Al-Ma'idah ৫:৯৬ Al-Hashr ৫৯:৭ Al-Hijr ১৫:৬৯ Hud ১১:৭৮ Al-Hujurat ৪৯:১২ Aal-e-Imran ৩:১২৩
وَٱتَّقِ ٱللَّهَ আল্লাহকে ভয় কর’। Al-Ahzab ৩৩:৩৭ Al-Ma'idah ৫:৪, Al-Ahzab ৩৩:৫৫

 ৫। লসফলকাম কে ?
وَٱتَّقُوا۟ ٱللَّهَ لَعَلَّكُمْ تُفْلِحُونَ আল্লাহকে ভয় কর, যাতে তোমরা সফল হও।Al-Baqarah ২:১৮৯

ছাহাবীগণ উপদেশ চাইলে নবী করীম (ছাঃ) তাদেরকে তাক্বওয়াশীল হতে বলেন,
عَنِ الْعِرْبَاضِ بْنِ سَارِيَةَ صَلَّى بِنَا رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ذَاتَ يَوْمٍ ثُمَّ أَقْبَلَ عَلَيْنَا بِوَجْهِهِ فَوَعَظَنَا مَوْعِظَةً بَلِيغَةً ذَرَفَتْ مِنْهَا الْعُيُونُ وَوَجِلَتْ مِنْهَا الْقُلُوبُ فَقَالَ قَائِلٌ يَا رَسُولَ اللهِ كَأَنَّ هَذِهِ مَوْعِظَةُ مُوَدِّعٍ فَاَوْصِنَا فَقَالَ أُوصِيكُمْ بِتَقْوَى اللهِ وَالسَّمْعِ وَالطَّاعَةِ وَإِنْ كَانَ عَبْدًا حَبَشِيًّا فَإِنَّهُ مَنْ يَعِشْ مِنْكُمْ بَعْدِي فَسَيَرَى اخْتِلَافًا كَثِيرًا فَعَلَيْكُمْ بِسُنَّتِي وَسُنَّةِ الْخُلَفَاءِ الرَّاشِدِيْنَ الْمَهْدِيِّيْنَ تَمَسَّكُوْا بِهَا وَعَضُّوْا عَلَيْهَا بِالنَّوَاجِذِ وَإِيَّاكُمْ وَمُحْدَثَاتِ الْأُمُورِ فَإِنَّ كُلَّ مُحْدَثَةٍ بِدْعَةٌ وَكُلَّ بِدْعَةٍ ضَلَالَةٌ. ইরবায ইবনে সারিয়া (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, একদা রাসূল (ছাঃ) আমাদের ছালাত আদায় করালেন। অতঃপর আমাদের দিকে মুখ করে আমাদের উদ্দেশ্যে এমন এক মর্মস্পর্শী নছীহত করলেন, যাতে চক্ষু সমূহ অশ্রু প্রবাহিত করল এবং অন্তর সমূহ ভীত-বিহক্ষল হল। এ সময়ে এক ব্যক্তি বলে উঠল, হে আল্লাহর রাসূল! এ মনে হচ্ছে বিদায় গ্রহণের শেষ উপদেশ। আমাদের আরও কিছু উপদেশ দিন। তখন নবী করীম (ছাঃ) বললেন, আমি তোমাদেরকে আল্লাহকে ভয় করার, তাক্বওয়াশীল হওয়ার উপদেশ দিচ্ছি এবং নেতার কথা শুনতে ও তার আনুগত্য করতে উপদেশ দিচ্ছি, নেতা বা ইমাম হাবশী গোলাম হলেও। আমার পর তোমাদের মধ্যে যারা জীবিত থাকবে, তারা অল্প দিনের মধ্যেই অনেক মতবিরোধ দেখতে পাবে। তখন তোমরা আমার সুন্নাতকে এবং সৎপথ প্রাপ্ত খুলাফায়ে রাশেদীনের সুন্নাতকে আঁকড়ে ধরবে এবং তাকে শক্তভাবে ধরে থাকবে। অতএব সাবধান তোমরা দ্বীনের ব্যাপারে কিতাব ও সুন্নাহর বাইরে নতুন কথা হতে বেঁচে থাকবে। কেননা প্রত্যেক নতুন কথাই বিদ‘আত এবং প্রত্যেক বিদ‘আতই ভ্রষ্টতা’ (আহমাদ ১৬৬৯৪, আবূ দাঊদ ৪৬০৭, তিরমিযী ২৬৭৬, ইবনু মাজাহ্ ৪২, মিশকাত হা/ ১৬৫)।

19/01/2026

নূর বলতে ইসলাম কি কি বিষয় বুঝায়

1. মেরাজে রাসুল সাঃ আল্লাহ নুর দেখেছিল
2. আল্লাহ নূর
3. ফেরেশতাদেরকে নূর দ্বারা সৃষ্টি
4. আদম আঃ প্রত্যেকের দুই চোখের মাঝখানে নূরের ঔজ্জ্বল্য সৃষ্টি করলেন,
5. কিতাবের নুর অবতীর্ণ
6. কুরআনকে নুর বলা হয়েছে
7. রাসূল প্রেরন
8. চন্দ্র সূর্য
9. পৃথিবী সৃষ্টার নূর
10. কলেমা আমলনামার জন্য নূর হবে/রাসূল সা: এর চাচার মৃতূ সময়:
11. ন্যায় বিচারকগণ
12. অন্ধকার থেকে আলোর দিকে বের করে আনেন।
13. ওযুর অঙ্গ সমূহের নূর চমকাবে
14. সালাত হলো নূর বা আলো।
15. আল্লাহর জন্য পরস্পরকে ভালোবাসে
16. বার্ধক্য কিয়ামতের দিন তার জন্য নূর হবে।

نُورٍ ---শব্দটি কুরআনে মোট ৩৩ বার এসেছে ।
তরঙ্গ শব্দ ও আলো,ইন্টারনেট মানুষ যা তৈরী করেছে এর চেয়ে দ্রুত আল্লাহকে ডাকলে আল্লাহ শুনতে পায়।
মেরাজে রাসুল সাঃ আল্লাহ নুর দেখেছিল
قَالَ قُلْتُ لأَبِي ذَرٍّ لَوْ رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم لَسَأَلْتُهُ فَقَالَ عَنْ أَىِّ شَىْءٍ كُنْتَ تَسْأَلُهُ قَالَ كُنْتُ أَسْأَلُهُ هَلْ رَأَيْتَ رَبَّكَ قَالَ أَبُو ذَرٍّ قَدْ سَأَلْتُ فَقَالَ ‏ "‏ رَأَيْتُ نُورًا ‏"আবূ যার (রাযিঃ) বললেন, এ কথা তো আমি তাকে জিজ্ঞেস করেছিলাম, তিনি বলেছেন, আমি নূর দেখেছি। মুসলিম ৩৩৩-(২৯২ (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৪১ ইসলামিক সেন্টারঃ ৩৫২)
قَالَ: كَانَ بَيْنِي وَبَيْنَهُ سَبْعُونَ أَلْفَ حِجَابٍ مِنْ نُورٍ. তাঁর মধ্যে মাত্র সত্তর হাজার নূরের পর্দা ছিল। তারগীব ১/১৩১, হাকিম ১/৭, ৮, আহমাদ ৪/৮১।মেশকাত ৭৪১
আল্লাহ নূর
ٱللَّهُ نُورُ ٱلسَّمَٰوَٰتِ وَٱلْأَرْضِۚ
আল্লাহ আসমানসমূহ ও যমীনের নূর। তাঁর An-Nur 24:35
ফেরেশতাদেরকে নূর দ্বারা সৃষ্টি
عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏ "‏ خُلِقَتِ الْمَلاَئِكَةُ مِنْ نُورٍ وَخُلِقَ الْجَانُّ مِنْ مَارِجٍ مِنْ نَارٍ وَخُلِقَ آدَمُ مِمَّا وُصِفَ لَكُمْ ‏"‏ ‏আয়িশাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ ফেরেশতাদেরকে নূর দ্বারা সৃষ্টি করা হয়েছে আর জিন জাতিকে সৃষ্টি করা হয়েছে নির্ধুম অগ্নিশিখা হতে এবং আদম (আঃ) কে সৃষ্টি করা হয়েছে ঐ বস্তু হতে যে সম্পর্কে তোমাদেরকে বর্ণনা করা হয়েছে। মুসলিম ৬০-(২৯৯৬), মুসনাদে আহমাদ ৭৪৯১, আস্ সুনানুল কুবরা লিন্ নাসায়ী ৭৭৫১, সহীহুল জামি' ৩২৩৮, মুসান্নাফ আবদুর রাযযাক ২০৯০৪, মুসনাদে আবদ ইবনু হুমায়দ ১৪৭৯, মুসনাদে বাযযার ২৪৭৫, সহীহ ইবনু হিব্বান ৬১৫৫, শু’আবূল ঈমান ১৪৩, আস্ সুনানুল কুবরা লিল বায়হাকী ১৮১৬৪। আহমাদ ২১৫২৫, ২১৫৫৯, ২১৫৭৫, ২২২৭৬

আদম আঃ প্রত্যেকের দুই চোখের মাঝখানে নূরের ঔজ্জ্বল্য সৃষ্টি করলেন,
আরাফ৭:১৭২ আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যখন আল্লাহ তা’আলা আদম (আঃ)-কে সৃষ্টি করলেন তখন তিনি তার পিঠ মাসেহ করলেন। এতে তার পিঠ থেকে তার সমস্ত সন্তান বের হলো, যাদের তিনি কিয়ামত পর্যন্ত সৃষ্টি করবেন। وَجَعَلَ بَيْنَ عَيْنَىْ كُلِّ إِنْسَانٍ مِنْهُمْ وَبِيصًا مِنْ نُورٍ ثُمَّ عَرَضَهُمْ عَلَى آدَمَতিনি তাদের প্রত্যেকের দুই চোখের মাঝখানে নূরের ঔজ্জ্বল্য সৃষ্টি করলেন, অতঃপর তাদেরকে আদম (আঃ)-এর সামনে পেশ করলেন।তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৩০৭৬ [আল মাদানী প্রকাশনী] হাকিম ২/৫৮৫-৮৬। সহীহঃ আয যিলাল (২০৬), তাখরীজুত তাহাবীয়াহ (২২০, ২২১)। আয যিলাল ২০৬, তাখরিজুত তাহাবীয়া ২২০, ২২১,
কিতাবের নুর অবতীর্ণ
قُلْ مَنْ أَنزَلَ ٱلْكِتَٰبَ ٱلَّذِى جَآءَ بِهِۦ مُوسَىٰ نُورًا وَهُدًى لِّلنَّاسِۖ বল, ‘কে নাযিল করেছে সে কিতাব, যা মূসা নিয়ে এসেছে মানুষের জন্য আলো ও পথনির্দেশস্বরূপ, Al-An'am 6:91 Al-Ma'idah 5:15
إِنَّآ أَنزَلْنَا ٱلتَّوْرَىٰةَ فِيهَا هُدًى وَنُورٌۚ নিশ্চয় আমি তাওরাত নাযিল করেছি, তাতে ছিল হিদায়াত ও আলো, Al-Ma'idah 5:44
وَءَاتَيْنَٰهُ ٱلْإِنجِيلَ فِيهِ هُدًى وَنُورٌ وَمُصَدِّقًا لِّمَا بَيْنَ يَدَيْهِ مِنَ ٱلتَّوْرَىٰةِ وَهُدًى وَمَوْعِظَةً لِّلْمُتَّقِينَ তাকে দিয়েছিলাম ইনজীল, এতে রয়েছে হিদায়াত ও আলো এবং (তা ছিল) তার সম্মুখে অবশিষ্ট তাওরাতের সত্যায়নকারী, হিদায়াত ও মুত্তাকীদের জন্য উপদেশস্বরূপ। Al-Ma'idah 5:46
يَٰٓأَيُّهَا ٱلنَّاسُ قَدْ جَآءَكُم بُرْهَٰنٌ مِّن رَّبِّكُمْ وَأَنزَلْنَآ إِلَيْكُمْ نُورًا مُّبِينًا হে মানুষ, তোমাদের রবের পক্ষ থেকে তোমাদের নিকট প্রমাণ এসেছে এবং আমি তোমাদের নিকট স্পষ্ট আলো নাযিল করেছি। An-Nisa' 4:174 Ash-Shura 42:52 At-Taghabun 64:8 Al-A'raf 7:157 Al-Hadid 57:28 Al-Hadid 57:28
কুরআনকে নুর বলা হয়েছে
আবদুল্লাহ ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদিন জিবরীল আমীন (আঃ) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে বসে ছিলেন। এ সময় উপরের দিক হতে দরজা খোলার শব্দ [জিবরীল (আঃ)] শুনলেন। তিনি উপরের দিকে মাথা উঠালেন এবং বললেন, আসমানের এ দরজাটি আজ খোলা হলো। এর আগে আর কখনো তা খোলা হয়নি। (রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ) এ দরজা দিয়ে একজন মালাক (ফেরেশতা) নামলেন। তখন জিবরীল (আঃ) বললেন, যে মালাক (আজ) জমিনে নামলেন, আজকে ছাড়া আর কখনো তিনি জমিনে নামেননি। (রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,) তিনি সালাম করলেন। أَبْشِرْ بِنُورَيْنِ أُوتِيتَهُمَا لَمْ يُؤْتَهُمَا نَبِيٌّ قَبْلَكَ فَاتِحَةُ الْكِتَابِ وَخَوَاتِيمُ سُورَةِ الْبَقَرَةِ তারপর আমাকে বললেন, আপনি দু’টি নূরের সুসংবাদ গ্রহণ করুন। এটা আপনার আগে আর কোন নবীকে দেয়া হয়নি। (তাহলো) সূরা আল ফাতিহাহ্ ও সূরা আল বাকারাহ্’র শেষাংশ। আপনি এ দু’টি সূরার যে কোন বাক্যই পাঠ করুন না কেন নিশ্চয়ই আপনাকে তা দেয়া হবে। মুসলিম ৮০৬, নাসায়ী ৯১২, মু‘জামুল কাবীর লিত্ব ত্ববারানী ১২২৫৫, মুসতাদারাক লিল হাকিম ২০৫২, সহীহ আত্ তারগীব ১৪৫৬।

আবূ সা’ঈদ আল্ খুদরী (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ من قَرَأَ سُورَة الْكَهْف فِي يَوْم الْجُمُعَة أَضَاء لَهُ النُّور مَا بَيْنَ الْجُمْعَتَيْنِ» যে ব্যক্তি জুমার দিন সূরা আল কাহাফ পড়বে, তার (ঈমানের) নূর এ জুমাহ্ হতে আগামী জুমাহ্ পর্যন্ত চমকাতে থাকবে। সুনানুল কুবরা লিল বায়হাক্বী ৫৯৯৬, ইরওয়া ৬২৬, সহীহ আত্ তারগীব ৭৩৬, সহীহ আল জামি‘ ৬৪৭০, আদ্ দা‘ওয়াতুল কাবীর ৫২৬।

রাসূল প্রেরন At-Tahrim 66:8
চন্দ্র সূর্য Nuh 71:16 Az-Zumar 39:69 Yunus 10:5An-Nisa' ৪:৭৮ Al-An'am ৬:৫৯

পৃথিবী সৃষ্টার নূর
أَنْتَ نُورُ السَّمَوَاتِ وَالأَرْضِ আসমানসমূহ এবং যমীনের নূর আপনিই। বুখারি ৭৩৮৫ [১১২০] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৮৭০, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৮৮২) (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৮৬৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৮৮১)
«إِنَّ اللَّهَ عَزَّ وَجَلَّ خَلَقَ خَلْقَهُ فِي ظُلْمَةٍ، فَأَلْقَى عَلَيْهِمْ مِنْ نُورِهِ، فَمَنْ أَصَابَهُ مِنْ ذَلِكَ النُّورِ اهْتَدَى، وَمَنْ أَخْطَأَهُ ضَلَّ، فَلِذَلِكَ أَقُولُ: جَفَّ الْقَلَمُ عَلَى عِلْمِ اللَّهِ» “নিশ্চয়ই আল্লাহ তাআলা তাঁর সৃষ্টিকে অন্ধকারে সৃষ্টি করেছেন। তারপর তিনি তাদের উপর তাঁর নূর (আলো) নিক্ষেপ করেছেন। অতঃপর যার ওপর সেই নূর পৌঁছেছে, সে হিদায়াতপ্রাপ্ত হয়েছে; আর যার ওপর তা পৌঁছায়নি, সে পথভ্রষ্ট হয়েছে। এজন্যই আমি বলি— আল্লাহর জ্ঞানের উপর কলম শুকিয়ে গেছে (অর্থাৎ তাকদীর নির্ধারিত হয়ে গেছে)।”তিরমিযী ২৫৬৬ (সহীহ সুনানুত্ তিরমিযী)। আহমাদ ৬৩৫৬,মুসনাদে আহমাদের ৪/১৭৬, ১৯৭ এবং আত্ তিরমিযীর ২/১০৭ ঈমান অধ্যায়ের রয়েছে।
عَمَلِ اللَّيْلِ حِجَابُهُ النُّورُ لَوْ كَشَفَهُ لأَحْرَقَتْ سُبُحَاتُ وَجْهِهِ مَا انْتَهَى إِلَيْهِ بَصَرُهُ مِنْ خَلْقِهِ ‏"‏ ‏ তাঁর পর্দা হচ্ছে নূর (জ্যোতি)। তিনি তাঁর পর্দা তুলে নিলে তাঁর চেহারার জ্যোতি বা মহিমা তাঁর সৃষ্টির দৃষ্টির সীমা পর্যন্ত সব কিছু ভস্মীভূত করে দিত।মুসলিম ১৭৯/১,২; আহমাদ ১৯০৩৬, ১৯০৯০, ১৯১৩৫; ইবনু মাজাহ ১৯৫

কলেমা আমলনামার জন্য নূর হবে/রাসূল সা: এর চাচার মৃতূ সময়:
يَقُولُ ‏ "‏ إِنِّي لأَعْلَمُ كَلِمَةً لاَ يَقُولُهَا أَحَدٌ عِنْدَ مَوْتِهِ إِلاَّ كَانَتْ نُورًا لِصَحِيفَتِهِ আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেছিঃ আমার এমন একটি বাক্য জানা আছে, যা কোন ব্যক্তি তার মৃত্যুর সময় বললে সেটা তার আমলনামার জন্য নূর হবে ।আহমাদ ১৩৮৭, তাখরীজুল মুখতার ১১৪, ১১৯, ২৩৮, ২৩৯, আল-আহকাম ৩৪, ইবনে মাজাহ ৩৭৯৫ আহমাদ ১৩৮৭,
وَمَثَلُ مَا قَبِلُوا مِنْ هَذَا النُّورِএই নূর (ইসলাম) যারা গ্রহণ করেছে তাদের।বুখারি (৫৫৮) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২১১০, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ২১২৭)

قَالَ الْعَبَّاسُ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ: مَعْنَاهُ أَنَّهُ يُنْزَعُ مِنْهُ نُورُ الْإِيمَانِ. ‘আব্বাস (রাঃ) বলেছেন, এর অর্থ হল, তার হতে ঈমানের নূর ছিনিয়ে নেয়া হয়।বুখারি (৫৫৭৮, ৬৭৭২, ৬৮১০) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২২৯৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ২৩১৩)
- قَالَ - فَيَنْطَلِقُ بِهِمْ وَيَتَّبِعُونَهُ وَيُعْطَى كُلُّ إِنْسَانٍ مِنْهُمْ - مُنَافِقٍ أَوْ مُؤْمِنٍ - نُورًا ثُمَّ يَتَّبِعُونَهُ وَعَلَى جِسْرِ جَهَنَّمَ كَلاَلِيبُ وَحَسَكٌ تَأْخُذُ مَنْ شَاءَ اللَّهُ ثُمَّ يَطْفَأُ نُورُ الْمُنَافِقِينَ ثُمَّ يَنْجُو الْمُؤْمِنُونَ فَتَنْجُو أَوَّلُ زُمْرَةٍ وُجُوهُهُمْ كَالْقَمَرِ لَيْلَةَ الْبَدْرِ سَبْعُونَ أَلْفًا لاَ يُحَاسَبُونَ ثُمَّ الَّذِينَ يَلُونَهُمْ كَأَضْوَإِ نَجْمٍ فِي السَّمَاءِ ثُمَّ كَذَلِكَ ثُمَّ تَحِلُّ الشَّفَاعَةُ وَيَشْفَعُونَ حَتَّى يَخْرُجَ مِنَ النَّارِ مَنْ قَالَ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ وَكَانَ فِي قَلْبِهِ مِنَ الْخَيْرِ مَا يَزِنُ شَعِيرَةً فَيُجْعَلُونَ بِفِنَاءِ الْجَنَّةِ وَيَجْعَلُ أَهْلُ الْجَنَّةِ يَرُشُّونَ عَلَيْهِمُ الْمَاءَ حَتَّى يَنْبُتُوا نَبَاتَ الشَّىْءِ فِي السَّيْلِ وَيَذْهَبُ حُرَاقُهُ ثُمَّ يَسْأَلُ حَتَّى تُجْعَلَ لَهُ الدُّنْيَا وَعَشَرَةُ أَمْثَالِهَا مَعَهَا ‏.‏জাহান্নামের পুলের উপর থাকবে কাটাযুক্ত লৌহ শলাকা। আল্লাহ যাকে ইচ্ছা করেন তাকে সেগুলো পাকড়াও করবে। মুনাফিকদের নূর নিভে যাবে। আর মুমিনগণ নাযাত পাবেন। প্রথম দল হবে সত্তর হাজার লোকের, তাদের কোন হিসাবই নেয়া হবে না। তাদের চেহারা হবে পূর্ণিমা রাতের চাদের ন্যায় উজ্জ্বল। তারপর আরেক দল আসবে তাদের মুখমণ্ডল হবে আকাশের উজ্জ্বলতম নক্ষত্রের ন্যায় দীপ্ত। এভাবে পর্যায়ক্রমে সকলে পার হয়ে যাবে। তারপর শাফাআতের অনুমতি প্রদান করা হবে। ফলে সকলেই শাফা’আত করবে। এমনকি যে ব্যক্তি “লা-ইলা-হা ইল্লাল্লা-হ” স্বীকার করেছে এবং যার অন্তরে সামান্য যব পরিমাণ ঈমান অবশিষ্ট আছে তাকেও জাহান্নাম থেকে বের করে আনা হবে। পরে এদেরকে জান্নাতের আঙিনায় জমায়েত করা হবে, আর জান্নাতীগণ তাদের গায়ে পানি সিঞ্চন করবেন, ফলে তারা এমনভাবে সতেজ হয়ে উঠবে যেমনভাবে কোন উদ্ভিদ স্রোতবাহিত পানির ধারে সতেজ হয়ে উঠে। আগুনে পোড়া দাগসমূহ মুছে যাবে। এরপর তারা আল্লাহ তা’আলার নিকট প্রার্থনা জানাবে। আল্লাহ তাদের প্রার্থনা কবুল করবেন। তাদের প্রত্যেককে পৃথিবীর ন্যায় এবং তৎসহ আরো দশগুণ প্রতিদান দেয়া হবে। মুসলিম (হাঃ একাডেমী) ৩৫৭-(৩১৬/১৯১)
(ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৬৫, ইসলামিক সেন্টারঃ ৩৭৬)
ন্যায় বিচারকগণ
قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏ "‏ إِنَّ الْمُقْسِطِينَ عِنْدَ اللَّهِ عَلَى مَنَابِرَ مِنْ نُورٍ عَنْ يَمِينِ الرَّحْمَنِ عَزَّ وَجَلَّ وَكِلْتَا يَدَيْهِ يَمِينٌ الَّذِينَ يَعْدِلُونَ فِي حُكْمِهِمْ وَأَهْلِيهِمْ وَمَا وَلُوا ‏"‏ ‏.‏ আবদুল্লাহ ইবনু আমর (রাযিঃ) বলেন যে, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ ন্যায় বিচারকগণ (কিয়ামতের দিন) আল্লাহর নিকটে নূরের মিম্বারসমূহে মহামহিম দয়াময় প্রভুর ডানপাৰ্শ্বে উপবিষ্ট থাকবেন। তার উভয় হাতই ডান হাত (অর্থাৎ- সমান মহিয়ান)। যারা তাদের শাসনকার্যে তাদের পরিবারের লোকদের ব্যাপারে এবং তাদের উপর ন্যস্ত দায়িত্বসমূহের ব্যাপারে সুবিচার করে। মুসলিম ৪৬১৫-(১৮/১৮২৭) (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৫৭০, ইসলামিক সেন্টার ৪৫৭৩) নাসায়ী ৫৩৭৯, আহমাদ ৬৪৪৯, ৬৪৫৬, ৬৮৫৮

অন্ধকার থেকে আলোর দিকে বের করে আনেন। বিদ্যার দেবী---আলো/ দেবী [স্বরসতী]--------

أَفَمَن شَرَحَ ٱللَّهُ صَدْرَهُۥ لِلْإِسْلَٰمِ فَهُوَ عَلَىٰ نُورٍ مِّن رَّبِّهِۦۚ فَوَيْلٌ لِّلْقَٰسِيَةِ قُلُوبُهُم مِّن ذِكْرِ ٱللَّهِۚ أُو۟لَٰٓئِكَ فِى ضَلَٰلٍ مُّبِينٍ আল্লাহ ইসলামের জন্য যার বক্ষ খুলে দিয়েছেন ফলে সে তার রবের পক্ষ থেকে নূরের উপর রয়েছে, (সে কি তার সমান, যে এরূপ নয়?) অতএব ধ্বংস সে লোকদের জন্য যাদের হৃদয় কঠিন হয়ে গেছে আল্লাহর স্মরণ থেকে। তারা স্পষ্ট বিভ্রান্তিতে নিপতিত।
يُرِيدُونَ لِيُطْفِـُٔوا۟ نُورَ ٱللَّهِ بِأَفْوَٰهِهِمْ وَٱللَّهُ مُتِمُّ نُورِهِۦ وَلَوْ كَرِهَ ٱلْكَٰفِرُونَ তারা তাদের মুখের ফুৎকারে আল্লাহর নূরকে নিভিয়ে দিতে চায়, কিন্তু আল্লাহ তাঁর নূরকে পূর্ণতাদানকারী। যদিও কাফিররা তা অপছন্দ করে।At-Taubah 9:32 Az-Zumar 39:22 يُرِيدُونَ أَن يُطْفِـُٔوا۟ نُورَ ٱللَّهِ بِأَفْوَٰهِهِمْ وَيَأْبَى ٱللَّهُ إِلَّآ أَن يُتِمَّ نُورَهُۥ وَلَوْ كَرِهَ ٱلْكَٰفِرُونَ As-Saf 61:8

وَلَا ٱلظُّلُمَٰتُ وَلَا ٱلنُّورُ আর অন্ধকার ও আলো সমান নয় Fatir 35:20
قُلْ هَلْ يَسْتَوِى ٱلْأَعْمَىٰ وَٱلْبَصِيرُ أَمْ هَلْ تَسْتَوِى ٱلظُّلُمَٰتُ وَٱلنُّورُۗ বল, ‘অন্ধ ও দৃষ্টিমান ব্যক্তি কি সমান হতে পারে? নাকি অন্ধকার ও আলো সমান হতে পারে? নাকি তারা আল্লাহর জন্য এমন কতগুলো Ar-Ra'd 13:16
ٱللَّهُ وَلِىُّ ٱلَّذِينَ ءَامَنُوا۟ يُخْرِجُهُم مِّنَ ٱلظُّلُمَٰتِ إِلَى ٱلنُّورِۖ وَٱلَّذِينَ كَفَرُوٓا۟ أَوْلِيَآؤُهُمُ ٱلطَّٰغُوتُ يُخْرِجُونَهُم مِّنَ ٱلنُّورِ إِلَى ٱلظُّلُمَٰتِۗ أُو۟لَٰٓئِكَ أَصْحَٰبُ ٱلنَّارِۖ هُمْ فِيهَا خَٰلِدُونَ যারা ঈমান এনেছে আল্লাহ তাদের অভিভাবক, তিনি তাদেরকে অন্ধকার থেকে আলোর দিকে বের করে আনেন। আর যারা কুফরী করে, তাদের অভিভাবক হল তাগূত। তারা তাদেরকে আলো থেকে বের করে অন্ধকারে নিয়ে যায়। তারা আগুনের অধিবাসী, সেখানে তারা স্থায়ী হবে। bakara. ২:২৫৬
Al-Ma'idah 5:16 Al-Hadid 57:9 Ibrahim 14:1
Ibrahim 14:5। Al-Ahzab 33:43 At-Talaq 65:11
Al-An'am 6:1
ওযুর অঙ্গ সমূহের নূর চমকাবে
قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏ "‏ أَنْتُمُ الْغُرُّ الْمُحَجَّلُونَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ مِنْ إِسْبَاغِ الْوُضُوءِ فَمَنِ اسْتَطَاعَ مِنْكُمْ فَلْيُطِلْ غُرَّتَهُ وَتَحْجِيلَهُ ‏"‏ ‏.‏পূর্ণাঙ্গরূপে ওযু করার কারণে কিয়ামতের দিন তোমাদের মুখমণ্ডল, হাত ও পায়ের ওযুর স্থান জ্যোতির্ময় হবে। সুতরাং তোমাদের মধ্যে যারা সক্ষম তারা যেন নিজ নিজ মুখমণ্ডল, হাত ও পায়ের জ্যোতি বাড়িয়ে নেয়। মুসলিম (হাঃ একাডেমী)৪৬৭-(৩৪/২৪৬) (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪৭০, ইসলামিক সেন্টারঃ ৪৮৬)
সালাত হলো নূর বা আলো।
ইমানের নুর =আল্লাহর নুর = আসমান-জমিন নুর ==ইসলাম নুর = অন্তরের নুর = শরীরের নুর =
اَللّٰهُمَّ اجْعَلْ فِيْ قَلْبِيْ نُوْرًا، وَفِيْ لِسَانِيْ نُوْرًا، وَفِيْ سَمْعِيْ نُوْرًا، وَفِيْ بَصَرِيْ نُوْرًا، وَمِنْ فَوْقِيْ نُوْرًا، وَمِنْ تَحْتِيْ نُوْرًا، وَعَنْ يَمِيْنِيْ نُوْرًا، وَعَنْ شِمَالِيْ نُوْرًا، وَمِنْ اَمَامِيْ نُوْرًا، وَمِنْ خَلْفِيْ نُوْرًا، وَاجْعَلْ فِيْ نَفْسِيْ نُوْرًا، وَاَعْظِمْ لِيْ نُوْرًا، وَعَظِّمْ لِيْ نُوْرًا، وَاجْعَلْ لِيْ نُوْرًا، وَاجْعَلْنِيْ نُوْرًا، اَللّٰهُمَّ اَعْطِنِيْ نُوْرًا، وَاجْعَلْ فِيْ عَصَبِيْ نُوْرًا، وَفِيْ لَحْمِيْ نُوْرًا، وَفِيْ دَمِيْ نُوْرًا، وَفِيْ شَعْرِيْ نُوْرًا، وَفِيْ بَشَرِيْ نُوْرًا হে আল্লাহ! আপনি আমার অন্তরে নূর (বা আলো) দান করুন, আমার যবানে নূর দান করুন, আমার শ্রবণশক্তিতে নূর দান করুন, আমার দর্শনশক্তিতে নূর দান করুন, আমার উপরে নূর দান করুন, আমার নীচে নূর দান করুন, আমার ডানে নূর দান করুন, আমার বামে নূর দান করুন, আমার সামনে নূর দান করুন, আমার পেছনে নূর দান করুন, আমার আত্মায় নূর দান করুন, আমার জন্য নূরকে বড় করে দিন, আমার জন্য নূর বাড়িয়ে দিন, আমার জন্য নূর নির্ধারণ করুন, আমাকে আলোকময় করুন। হে আল্লাহ! আমাকে নূর দান করুন, আমার পেশীতে নূর প্রদান করুন, আমার গোশ্‌তে নূর দান করুন, আমার রক্তে নূর দান করুন, আমার চুলে নূর দান করুন ও আমার চামড়ায় নূর দান করুন। বুখারী, (ফাতহুল বারীসহ) ১১/১১৬, নং ৬৩১৬; মুসলিম ১/৫২৬, ৫২৯, ৫৩০, নং ৭৬৩
اَللّٰهُمَّ اجْعَلْ لِيْ نُوْرًا فِيْ قَبْرِيْ… وَنُوْرًا فِيْ عِظَامِيْ হে আল্লাহ! আমার জন্য আমার কবরে নূর দিন, আমার হাড়সমূহেও নূর দিন। তিরমিযী ৫/৪৮৩, নং ৩৪১৯।
وَزِدْنِيْ نُوْرًا، وَزِدْنِيْ نُوْرًا، وَزِدْنِيْ نُوْرًا আমাকে নূরে বৃদ্ধি করে দিন, আমাকে নূরে বৃদ্ধি করে দিন, আমাকে নূরে বৃদ্ধি করে দিন। ইমাম বুখারী, আল-আদাবুল মুফরাদ, নং ৬৯৫; পৃ. ২৫৮; আর আলবানী সেটার সনদকে সহীহ আদাবিল মুফরাদে সহীহ বলেছেন, নং ৫৩৬।
وَهَبْ لِيْ نُوْرًا عَلٰى نُوْرٍ আমাকে নূরের উপর নূর দান করুন । হাফেয ইবন হাজার এটাকে তার ফতহুল বারীতে উল্লেখ করেছেন এবং ইবন আবী আসেমের ‘কিতাবুদ দো‘আ’ এর দিকে সম্পর্কিত করেছেন। দেখুন ফাতহুল বারী, ১১/১১৮। আরও বলেছেন, বিভিন্ন বর্ণনা থেকে মোট ২৫ (পঁচিশটি) বিষয় পাওয়া গেল।
وَعَنْ بُرَيْدَةَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «بَشِّرِ الْمَشَّائِينَ فِي الظُّلَمِ إِلَى الْمَسَاجِدِ بِالنُّورِ التَّامِّ يَوْمَ الْقِيَامَةِ» . বুরায়দাহ্ (রাঃ)হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কিয়ামতের (কিয়ামতের) দিনের পূর্ণ জ্যোতির সুসংবাদ দাও তাদেরকে যারা অন্ধকারে মসজিদে যায়। তিরমিযী ২২৩, আবূ দাঊদ ৫৬১, সহীহ আত্ তারগীব ৩১৫।
وَالصَّلاَةُ نُورٌ وَالزَّكَاةُ بُرْهَانٌ وَالصَّبْرُ ضِيَاءٌ وَالْقُرْآنُ حُجَّةٌ لَكَ أَوْ عَلَيْكَ كُلُّ النَّاسِ يَغْدُو فَبَائِعٌ نَفْسَهُ فَمُعْتِقُهَا أَوْ مُوبِقُهَا ‏ সালাত হল নূর, যাকাত হল দলীল, ধৈর্য হল আলোকমালা এবং কুরআন হল তোমার পক্ষে অথবা বিপক্ষের প্রমাণ। প্রত্যেক মানুষ ভোরে উপনীত হয়ে নিজেকে বিক্রয় করে, এতে সে হয় তাকে মুক্ত করে অথবা ধ্বংস করে। মুসলিম ২২৩, তিরমিযী ৩৫১৭, আহমাদ ২২৩৯৫, ২২৪০১; দারিমী ৬৫৩।
فَقَالَ ‏ "‏ أَمَّا صَلاَةُ الرَّجُلِ فِي بَيْتِهِ فَنُورٌ فَنَوِّرُوا بُيُوتَكُمْ ‏ কোন ব্যক্তির ঘরে সালাত পড়া হলো নূর (আলো)। অতএব তোমরা তোমাদের ঘরকে আলোকিত করো। আহমাদ ৮৭ তাহক্বীক্ব আলবানী: যঈফ। তাখরীজ আলবানী: তালীকুর রগীব ১৫৯।
আল্লাহর জন্য পরস্পরকে ভালোবাসে
أَنَّ عُمَرَ بْنَ الْخَطَّابِ، قَالَ: قَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: إِنَّ مِنْ عِبَادِ اللَّهِ لَأُنَاسًا مَا هُمْ بِأَنْبِيَاءَ، وَلَا شُهَدَاءَ يَغْبِطُهُمُ الْأَنْبِيَاءُ وَالشُّهَدَاءُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ، بِمَكَانِهِمْ مِنَ اللَّهِ تَعَالَى قَالُوا: يَا رَسُولَ اللَّهِ، تُخْبِرُنَا مَنْ هُمْ، قَالَ: هُمْ قَوْمٌ تَحَابُّوا بِرُوحِ اللَّهِ عَلَى غَيْرِ أَرْحَامٍ بَيْنَهُمْ، وَلَا أَمْوَالٍ يَتَعَاطَوْنَهَا، فَوَاللَّهِ إِنَّ وُجُوهَهُمْ لَنُورٌ، وَإِنَّهُمْ عَلَى نُورٍ لَا يَخَافُونَ إِذَا خَافَ النَّاسُ، وَلَا يَحْزَنُونَ إِذَا حَزِنَ النَّاسُ وَقَرَأَ هَذِهِ الْآيَةَ (أَلَا إِنَّ أَوْلِيَاءَ اللَّهِ لَا خَوْفٌ عَلَيْهِمْ وَلَا هُمْ يَحْزَنُونَ) [يونس: ٦٢]উমার ইবনুল খাত্তাব (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ নিশ্চয়ই আল্লাহর বান্দাদের মাঝে এমন কিছু লোক আছে যারা নবী নন এবং শহীদও নয়। কিয়ামতের দিন মহান আল্লাহর দরবারে তাদের মর্যাদার কারণে নবীগণ ও শহীদগণ তাদের প্রতি ঈর্ষান্বিত হবেন। সাহাবীগণ বললেন, হে আল্লাহর আমাদের অবহিত করুন, তারা কারা? তিনি বলেন, তারা ঐ সব লোক যারা আল্লাহর মহানুভবতায় পরস্পরকে ভালোবাসে, অথচ তারা পরস্পর আত্মীয়ও নয় এবং পরস্পরকে সম্পদও দেয়নি। আল্লাহর শপথ! তাদের মুখমন্ডল যেমন নূর এবং তারা নূরের আসনে উপবেশন করবে। তারা ভীত হবে না, যখন মানুষ ভীত থাকবে। তারা দুশ্চিন্তায় পড়বে না, যখন মানুষ দুশ্চিন্তাগ্রস্ত থাকবে। তিনি এ আয়াত তিলাওয়াত করলেনঃ ’’জেনে রাখো! আল্লাহর বন্ধুদের কোনো ভয় নেই এবং তারা দুশ্চিন্তাগ্রস্ত হবে না। আবুদাউদ ৩৫২৭’’(সূরা ইউনুসঃ ৬২) তা‘লীকুর রাগীব (৪/৪৭-৪৮)।
মিশকাত তাহকিক ছানী ৫০১১, তা’লীকুর রাগীব ৪/৪৭, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ২৩৯০ [আল মাদানী প্রকাশনী]
বার্ধক্য কিয়ামতের দিন তার জন্য নূর হবে।
وَعَنْ كَعْبِ بْنِ مُرَّةَ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «مَنْ شَابَ شَيْبَةً فِي الْإِسْلَامِ كَانَتْ لَهُ نُورًا يَوْمَ القيامةِ»
কা’ব ইবনু মুররাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি ইসলামের মধ্যে থেকে বৃদ্ধ হয়েছে, তার এ বার্ধক্য কিয়ামতের দিন তার জন্য নূর হবে। তিরমিযী ১৬৩৪, সুনানুন্ নাসায়ী আস্ সুগরা ৩১৪৪, সিলসিলাতুস্ সহীহাহ্ ১২৪৪, আল জামি‘উস্ সগীর ১১২৫৩, সহীহুল জামি‘ ৫৩০৭, সহীহ আত্ তারগীব ওয়াত্ তারহীব ১২৮৬, মুসান্নাফ ইবনু আবূ শায়বাহ্ ২৫৯৫২, সহীহ ইবনু হিব্বান ২৯৮৩, শু‘আবুল ঈমান ৪৩৪১, আল মু‘জামুল কাবীর লিত্ব ত্ববারানী ১৫১৭৮।

Address

Rangpur

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Islamar alo posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Share

Category