S.Sports75

S.Sports75 খেলাধুলার সকল খবরা খবর সবার আগে পেতে লাইক এবং ফলো করে দিন

20/10/2024

এ জীবনে সাকিব আল হাসানের
কোন কিছু পাওয়ার আর নেই..!

একজন ক্রিকেটার এর জন্য, তার ভক্তরা রক্ত
দিয়েছে যা এই ক্রিকেট ইতিহাসে অমর হয়ে থাকবে!

Shakib ভাই একবার একটা কথা বলেছিল
'আমার সমর্থকরা পৃথিবীর সেরা ও শ্রেষ্ঠ সমর্থক'

কথাটা কেনো বলেছিলেন এখন বুঝতে পারছেন তো
সেটা বাস্তবে প্রমাণ করে দিয়েছে সাকিব ফ্যানরা.!🖤

07/08/2024

গত ১৬ বছরে পাচার হয়েছে
৯৩,৭৬০,৩৪৮,০০০ মার্কিন ডলার
বাংলাদেশি টাকায় ১১,০০২,১৫৮,০১৯,৫০৩,২০ টাকা

- বাংলাভিশন।

- মেসি ভাই আমার বাচ্চাটাকে একটু কোলে নিন! 😊- আমি একটা পিক তুলি! 😇- মেসি → ওকে 😍
30/08/2021

- মেসি ভাই আমার বাচ্চাটাকে
একটু কোলে নিন! 😊
- আমি একটা পিক তুলি! 😇
- মেসি → ওকে 😍

255 appearances for Pakistan ⭐️8,674 runs 🏏11 centuries 💯A World Cup winner 🏆A globe-trotting cricket commentator 🎙Happy...
14/08/2021

255 appearances for Pakistan ⭐️
8,674 runs 🏏
11 centuries 💯
A World Cup winner 🏆
A globe-trotting cricket commentator 🎙

Happy Birthday Ramiz Raja 🎂


বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের সব প্লেয়াররা ছুটিতে 😘🌸নিউজল্যান্ড সিরিজের জন্য নিজেকে প্রস্তুত রাখতে একাই অনুশীলন চালিয়ে যাচ...
12/08/2021

বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের
সব প্লেয়াররা ছুটিতে 😘🌸

নিউজল্যান্ড সিরিজের জন্য নিজেকে প্রস্তুত রাখতে একাই অনুশীলন চালিয়ে যাচ্ছেন আমাদের প্রিয় মুশি ভাই....! ♥

আশা করছি আপনার থেকে ভালো
কিছু পাবে বাংলাদেশ টিম ❤

শুভ কমনা মিঃ ডিপেন্ডেবল
মুশফিকুর রহিম 💙❤



সিডনি বার্নস: বোলিংয়ের ব্র‍্যাডম্যান--------------------------------------------১.টেস্ট ইতিহাসের সর্বোচ্চ রেটিং পয়েন্টধা...
19/04/2021

সিডনি বার্নস: বোলিংয়ের ব্র‍্যাডম্যান
--------------------------------------------

১.

টেস্ট ইতিহাসের সর্বোচ্চ রেটিং পয়েন্টধারী (৯৩২) বোলার তিনি। কেবল টেস্ট ক্রিকেট নয়; সব ধরনের ক্রিকেট মিলিয়েই তাঁকে 'সর্বকালের সেরা' বোলার মানেন অনেকেই। তিনি মিডিয়াম পেসার নাকি স্পিনার ছিলেন তা নিয়েও আছে রহস্য। প্রখ্যাত ক্রিকেট লিখিয়ে নেভিল কার্ডাস যার সাপের ফণা তোলা বিষাক্ত ডেলিভারির নামকরণ করেছিলেন ‘বার্নস-বল’। তিনি আর কেউ নন; ক্রিকেট ইতিহাসের সবচাইতে স্কিলফুল ও বৈচিত্র্যময় বোলার সিডনি ফ্রান্সিস বার্নস।

২৭ টেস্টে মাত্র ১৬.৪৩ গড়ে ১৮৯ উইকেট! অর্থাৎ ম্যাচপ্রতি ৭টি করে উইকেট! স্ট্রাইক রেট মাত্র ৪১.৬৫! অর্থাৎ প্রতিটি উইকেটের জন্য বার্নসকে বল করতে হয়েছে ৭ ওভারেরও কম!

এই ছোট্ট ক্যারিয়ারেই তিনি ইনিংসে পাঁচ উইকেট নিয়েছেন ২৪ বার আর ম্যাচে দশ উইকেট ৭ বার!

ক্যারিয়ারের বেশিরভাগ সময় খেলেছেন মাইনর কাউন্টিতে। সমসাময়িকদের তুলনায় তাঁর ফার্স্ট ক্লাস ম্যাচের সংখ্যা খুব বেশি না। ১৩৩টি ফার্স্ট ক্লাস ম্যাচ খেলে ঝুলিতে পুরেছেন ৭৩৩ উইকেট! গড় মাত্র ১৭.০৯! ইনিংসে পাঁচ উইকেট পেয়েছেন ৬৮ বার আর ম্যাচে দশ উইকেট ১৮ বার!

টেস্ট, ফার্স্ট ক্লাস, কাউন্টি চ্যাম্পিয়নশীপ, ল্যাঙ্কাশায়ার লীগ, স্টেফোর্ডশায়ার লীগ ও মাইনর কাউন্টি মিলিয়ে বার্নসের ক্যারিয়ারে সর্বমোট উইকেটের সংখ্যাটা ছাড়িয়ে গেছে ৬ হাজার! আরও নির্দিষ্ট করে বললে ৬২২৯! অথচ গড় মাত্র ৮.৩৩!

মাত্র আট গড়ে ছয় সহস্রাধিক উইকেটের এই পরিসংখ্যানই বলে দিচ্ছে, কতটা ভয়ানক উইকেটশিকারি বোলার ছিলেন সিডনি বার্নস!

২.

সিডনি বার্নসের জন্ম ১৮৭৩ সালের ১৯ এপ্রিল, ইংল্যান্ডের স্টেফোর্ডশায়ারে। প্রতিযোগিতামূলক ক্রিকেটে হাতেখড়ি ১৮৮৮ সালে, স্মেথউইক ক্রিকেট ক্লাবের হয়ে।

মজার ব্যাপার হল, তাঁর ক্যারিয়ারের শুরুটা হয়েছিল ডানহাতি অফ স্পিনার হিসেবে! অফ স্পিনের পাশাপাশি লেগ স্পিনের হাতটাও মন্দ ছিল না।

১৮৯৪ সালে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে অভিষেক, ওয়ারউইকশায়ারের হয়ে। ততদিনে তাঁর পরিচয় একজন পুরোদস্তুর ফাস্ট বোলার। খুব বেশিদিন অবশ্য খেলতে পারেন নি সেখানে। ওয়ারউইকশায়ার ক্লাবের অপেশাদার আচরণের কারণে মাত্র তিন ম্যাচ খেলেই কাউন্টি চুক্তি বাতিল করেছিলেন তিনি। ক্লাবের তরফ থেকে প্রস্তাবিত চুক্তির শর্তাবলী নিয়েও নাখোশ ছিলেন বার্নস।

১৮৯৫ সালে কাউন্টি ক্রিকেট ছেড়ে বার্নস যোগ দেন ল্যাঙ্কাশায়ার লীগের দল রিশটনে। ১৮৯৯ সাল পর্যন্ত সেখানেই কাটিয়েছেন। রিশটনের হয়ে ৩৮ ম্যাচ খেলে পেয়েছেন ৪১১ উইকেট। ১৮৯৮ মৌসুমে তাঁর শিকার ছিল ৯৬ উইকেট, মাত্র ৮.৪৬ গড়ে!

ওয়ারউইকশায়ারে থাকতে বার্নস ছিলেন মূলত ফাস্ট বোলার। তবে রিশটন ক্লাবে আসার পর পেস কমিয়ে হয়ে যান মিডিয়াম পেসার। তখন থেকেই পেসের সাথে স্পিন মিশিয়ে নানারকম পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালাতেন তিনি।

১৯০০ সালে ল্যাঙ্কাশায়ার লীগেরই আরেক ক্লাব বার্নলিতে যোগ দেন সিডনি। ততদিনে অবশ্য ল্যাঙ্কাশায়ারের হয়ে কাউন্টি অভিষেকটাও হয়ে গেছে তাঁর।

৩.

বার্নসের টেস্ট অভিষেক ১৯০১ সালে, অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে একরকম হঠাৎ করেই। তাঁর অপ্রত্যাশিতভাবে টেস্ট দলে ডাক পাওয়ার পেছনের গল্পটাও বেশ ইন্টারেস্টিং। চলুন গল্পটা একবার শুনেই আসি।

১৯০১ সালের অ্যাশেজ সফরের জন্য ইংল্যান্ডের অধিনায়ক মনোনীত হন আর্চি ম্যাকলারেন। যিনি আবার ছিলেন ল্যাঙ্কাশায়ারেরও অধিনায়ক। দল নির্বাচনের ক্ষেত্রে তাঁকে দেয়া হয়েছিল পূর্ণ স্বাধীনতা।

ফ্রন্টলাইন বোলার হিসেবে আর্চির প্রথম পছন্দ ছিল ইয়র্কশায়ারের বাঁহাতি পেস জুটি জর্জ হার্স্ট এবং উইলফ্রেড রোডস। কিন্তু ইয়র্কশায়ার সভাপতি লর্ড হক তাঁর দলের সেরা দুই বোলারকে ছাড়তে মোটেও রাজি ছিলেন না। আর্চির তখন হঠাৎ মনে পড়ল বার্নসের কথা। কিছুদিন আগেই না ল্যাঙ্কাশায়ারের হয়ে লেস্টারশায়ারের বিপক্ষে ৭০ রানে ৬ উইকেট নিয়েছিল সে!

ল্যাঙ্কাশায়ার অধিনায়ক হিসেবে বার্নসকে খুব কাছ থেকে দেখার অভিজ্ঞতা থেকেই আর্চি ম্যাকলারেন ভাবলেন ওঁকে একবারটি বাজিয়ে দেখলে কেমন হয়। যেই ভাবা সেই কাজ! তৎক্ষণাৎ তিনি লোক মারফত বার্নসকে ডেকে পাঠালেন জাতীয় দলের নেটে। বার্নসের বোলিংয়ে কিছুক্ষণ প্র‍্যাক্টিসও করলেন। বেশিরভাগ বলেই অবশ্য পরাস্ত হলেন; শরীরে আঘাতও পেলেন বেশ ক'বার। নেট সেশন শেষে ম্যাকলারেনকে তাই 'সরি' জানাতে ছুটে এলেন বার্নস। আর এসেই অধিনায়কের মুখ থেকে শুনলেন সুখবরটা! ”অভিনন্দন বার্নস, তুমি আমাদের সাথে অস্ট্রেলিয়া যাচ্ছ।"

১৯০১-০২ অ্যাশেজের দলে বার্নসের অন্তর্ভুক্তিকে বলতে হবে একটা বিরাট চমক। মাত্র ৭টি ফার্স্ট ক্লাস ম্যাচ খেলার অভিজ্ঞতাসম্পন্ন একজন খেলোয়াড়কে একবার দেখেই দলে নেয়াটাকে স্রেফ পাগলামি বলেও উড়িয়ে দিতে চাইলো অনেকে। উইজডেনের ভাষায়, "the most daring experiment in the history of the game".

৪.

তো অ্যাশেজ শুরু হয়ে গেল। বার্নস অভিষিক্ত হলেন সিরিজের প্রথম ম্যাচেই, ভেন্যু ছিল সিডনি। অধিনায়কের সিদ্ধান্তকে সঠিক প্রমাণ করতে একদমই সময় নিলেন না বার্নস; অভিষেকেই ৫ উইকেট নিয়ে বাজিমাত করলেন প্রথম ইনিংসেই! প্রতিপক্ষের সেরা দুই ব্যাটসম্যান ভিক্টর ট্রাম্পার ও ক্লেম হিলের উইকেটসহ! ইংল্যান্ড জিতল এক ইনিংস ও ১২৪ রানের বিশাল ব্যবধানে।

উল্লেখ্য, বার্নসের সাথে ওই একই ম্যাচে অভিষিক্ত হন বাঁহাতি স্পিন লিজেন্ড কলিন ব্লাইথ এবং লেগ স্পিনার লেন ব্রাউন্ডও। এই তিন ডেব্যুট্যান্ট মিলেই ধস নামিয়েছিল অস্ট্রেলিয়ান শিবিরে। অস্ট্রেলিয়ার ২০ উইকেটের সবগুলোই জমা পড়েছিল বার্নস (৬), ব্লাইথ (৭) আর ব্রাউন্ডের (৭) ঝুলিতে!

মেলবোর্নে দ্বিতীয় টেস্টে ইংল্যান্ড ২২৯ রানে হেরে গেলেও বার্নস ছিলেন বিধ্বংসী ফর্মে। দুই ইনিংস মিলিয়ে একাই নিয়েছিলেন ১৩ উইকেট (৬/৪২ ও ৭/১২১)!

পরের ম্যাচের ভেন্যু ছিল অ্যাডিলেড। কিন্তু দুর্ভাগ্য বার্নসের! হাঁটুর ইনজুরিতে পড়ে ওই ম্যাচ তো বটেই, ওই সিরিজেই আর খেলা হলো না তাঁর। ক্যারিয়ারের প্রথম অ্যাশেজটা শেষ হয়ে গেল তৃতীয় টেস্টেই।

৫.

হাঁটুর ইনজুরি থেকে সেরে উঠতে বার্নসের লেগে গিয়েছিল অনেকটা সময়। পুরোপুরি ফিট না হওয়া সত্ত্বেও ১৯০২ সালে হোম অ্যাশেজের দলে রাখা হয় বার্নসকে। তবে এক ম্যাচের বেশি খেলতে পারেন নি। ওই এক ম্যাচেই নিয়েছিলেন ৭ উইকেট।

ইনজুরির কারণে ফিটনেস নিয়ে সমস্যা থাকলেও ১৯০২ ও ১৯০৩ সালের ফার্স্ট ক্লাস মৌসুমে খুব একটা খারাপ করেন নি বার্নস। ১৯০২ মৌসুমে ২১.৫৬ গড়ে ৯৫ উইকেট আর ১৯০৩ মৌসুমে নেন ১৭.৮৫ গড়ে ১৩১ উইকেট। নাহ, ঠিক বার্নস লেভেলের পারফরম্যান্স হয় নি, কী বলেন?

১৯০৪ মৌসুমে বেতন-ভাতা নিয়ে ল্যাঙ্কাশায়ার ক্লাব কর্তৃপক্ষের সাথে দ্বন্দ্বে জড়িয়ে শেষমেশ চুক্তি বাতিল করেন বার্নস। ক্লাব ছেড়ে ফিরে গেলেন মাইনর কাউন্টিতে। রাগে-অভিমানে জীবনে আর কোনদিন মেজর কাউন্টিতে অংশ নেন নি তিনি। যার বিরূপ প্রভাব পড়েছিল তাঁর আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারেও।

একটা তথ্য দিয়ে রাখি, বার্নসের ক্যারিয়ারের শুরু ও শেষের মাঝখানে ইংল্যান্ড টেস্ট খেলেছে মোট ৫৮টি, এর মধ্যে বার্নস খেলতে পেরেছেন কেবল ২৭টিতে! সেই ২৭ টেস্টেই তাঁর শিকার ১৮৯ উইকেট! ৫৮টার মধ্যে অন্তত ৪০টা টেস্টও যদি খেলতে পারতেন, হয়ত ছাড়িয়ে যেতেন ৩০০ উইকেটের মাইলফলকটাও।

৬.

অবশেষে তিনি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফিরলেন তাও প্রায় বছর পাঁচেক পর, ১৯০৭-০৮ সালের এ্যাশেজ ট্যুর দিয়ে। অস্ট্রেলিয়ার কাছে ১-৪ ব্যবধানে এ্যাশেজ খোয়ালেও চার ম্যাচে বার্নসের শিকার ছিল ২৬ গড়ে ২৪ উইকেট। প্রত্যাবর্তন সিরিজ হিসেবে খারাপ বলা যাবে না মোটেও।

উল্লেখ্য, সিরিজের যে একটা মাত্র টেস্টে ইংলিশরা জিতেছিল, সেটাও বার্নসেরই কৃতিত্বে। বল হাতে দ্বিতীয় ইনিংসে বার্নস নিয়েছিলেন ৭২ রানে ৫ উইকেট। আর ব্যাট হাতে ১০ নম্বরে নেমে খেলেছিলেন অপরাজিত ৩৮ রানের ম্যাচ উইনিং নক!

সেই নক নিয়ে ছোট্ট করে বলি একটু। চতুর্থ ইনিংসে ইংল্যান্ডের সামনে লক্ষ্য ছিল ২৮২ রানের। কিন্তু ২৪৩ রান তুলতেই পড়ে যায় ৯ উইকেট! এমতাবস্থায় দলকে উদ্ধার করতে এগিয়ে আসেন 'ব্যাটসম্যান' সিডনি বার্নস (৩৮*)। 'নাম্বার ইলেভেন' আর্থার ফিল্ডারকে (১৮*) নিয়ে অবিচ্ছিন্ন দশম উইকেট জুটিতে যোগ করেন ৩৯ রান, দলকে পাইয়ে দেন ১ উইকেটের নাটকীয় এক জয়।

১৯০৯ সালে ঘরের মাটিতে ফিরতি এ্যাশেজ। তিন টেস্ট খেলে বার্নস নেন ১৭ উইকেট; আর ইংল্যান্ড পায় 'ব্যাক টু ব্যাক' অ্যাশেজ হারের স্বাদ।

৭.

১৯১১ সালে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে (৪-১) অ্যাশেজ শিরোপা পুনরুদ্ধার করে ইংল্যান্ড। ২২.৮৮ গড়ে ৩৪ উইকেট নিয়ে সিরিজের সেরা বোলার ছিলেন সিডনি বার্নস।

১৯১২ সালে অস্ট্রেলিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা ও স্বাগতিক ইংল্যান্ডকে নিয়ে আয়োজন করা হয় ইতিহাসের প্রথম ও শেষ ত্রিদেশীয় টেস্ট সিরিজ। সিরিজ নির্ধারণী শেষ ম্যাচে অস্ট্রেলিয়াকে ২৪৪ রানে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয় ইংল্যান্ড। পাঁচ ম্যাচে তিনবার ইনিংসে ৫ উইকেটসহ মাত্র ১০.৩৫ গড়ে বার্নস নেন ৩৯ উইকেট!

১৯১৪ সালের মার্চ। স্বাগতিক দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজে নিজের আগের সব কীর্তিকে ছাপিয়ে গেলেন বার্নস। ৪ টেস্টে তিনবার ১০ উইকেটসহ মাত্র ১০.৯৩ গড়ে বার্নস একাই নিলেন ৪৯ উইকেট! বার্নসের বয়স তখন খুব বেশি না, মাত্র ৪০!

টেস্টে এক সিরিজে সর্বাধিক উইকেট প্রাপ্তির রেকর্ডও এটাই। দ্বিতীয় স্থানে আছেন বার্নসেরই স্বদেশি অফ স্পিনার জিম লেকার; ১৯৫৬ এ্যাশেজে যিনি পাঁচ ম্যাচে নিয়েছিলেন ৪৬ উইকেট।

উল্লেখ্য, চার ম্যাচে মোট আট ইনিংসে বল করেছিলেন বার্নস, এর মধ্যে সাতবারই পেয়েছিলেন ৫ বা তার বেশি উইকেট!

বার্নসের ক্যারিয়ার সেরা বোলিং নৈপুণ্যটি এসেছিল জোহান্সবার্গে। ১৫৯ রান খরচায় তুলে নিয়েছিলেন ১৭ উইকেট! টেস্ট ইতিহাসের সেরা ম্যাচ ফিগারের তালিকায় যার অবস্থান দ্বিতীয়। ৯০ রানে ১৯ উইকেট নিয়ে তালিকার এক নম্বরে আছেন জিম লেকার।

দক্ষিণ আফ্রিকা সফর শেষ না হতেই বেজে ওঠে প্রথম বিশ্বযুদ্ধের দামামা। স্যার জ্যাক হবস, উইলফ্রেড রোডস, অব্রে ফকনার, চার্লি ম্যাককার্টনিদের মত সিডনি বার্নসের জীবন থেকেও হারিয়ে যায় ছয়-ছয়টি বছর।

৮.

যুদ্ধ যখন শেষ হল, বার্নসের বয়স তখন ৪৭ বছর। এদিকে সামনেই অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে অ্যাশেজ। ১৯২০-২১ অ্যাশেজের দল ঘোষণা করা হল, যথারীতি সে দলে জায়গা পেলেন মধ্যবয়সী বার্নসও! কিন্তু শেষ মুহূর্তে বেঁকে বসলেন তিনি। জুড়ে দিলেন অদ্ভুত এক শর্ত! স্ত্রী এবং সন্তানদের অস্ট্রেলিয়া ভ্রমণ ও হোটেলে থাকা-খাওয়ার যাবতীয় বন্দোবস্ত করে দিতে হবে, নইলে তিনি খেলবেন না। ইংলিশ ক্রিকেট কর্তৃপক্ষ তাতে সম্মত না হওয়ায় শেষমেশ বার্নসও স্কোয়াড থেকে নিজের নাম প্রত্যাহার করে নিলেন। বার্নসের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার কার্যত ওখানেই শেষ।

জাতীয় দল ও কাউন্টিতে আর কখনও না খেললেও এত সহজে ক্রিকেট ছাড়ার পাত্র নন বার্নস। স্থানীয় লীগ ও মাইনর কাউন্টিতে খেলা চালিয়ে যান আরও বেশ কয়েক বছর। পরবর্তীতে ওয়েলসের হয়েও ফার্স্ট ক্লাস ক্রিকেট খেলেছেন তিনি। সবচেয়ে অবাক করা ব্যাপার হচ্ছে, এত বছর খেলেও তাঁর পারফরম্যান্সের ধারাবাহিকতায় এতটুকু ছেদ পড়ে নি কোনদিন।

৯.

পাঠক, আপনারা যারা এতক্ষণ ধৈর্য ধরে লেখাটি পড়লেন, তাঁদের বলব আরেকটু ধৈর্য ধরতে। কারণ লেখার সবচেয়ে ইন্টারেস্টিং পার্টটা এখনো বাকি৷ বার্নস কেমন বোলার ছিলেন, কী তার বৈচিত্র‍্য, কী তার রহস্য সেই সম্পর্কে কি একবারও জানতে ইচ্ছে করছে না আপনাদের? শুনুন তবে বলছি। পেস বিবেচনা করলে বার্নস ছিলেন একজন মিডিয়াম পেসার। গতি কত হতে পারে? এই ধরুন ঘন্টায় আনুমানিক ৭০ মাইল বা তারও কম থেকে সর্বোচ্চ ৮০ মাইল। সাবেক ইংরেজ অলরাউন্ডার স্যার অ্যালেক বেডসারের গতির সাথেও তাঁর সাদৃশ্য খুঁজে পেয়েছেন অনেকে।

সিডনি বার্নসকে বলা হত কম্পলিট বোলার। বোলিংয়ের বেসিক স্কিল যতগুলো আছে অর্থাৎ সুইং, সিম এবং স্পিন—একাধারে তিনটিতেই পারদর্শী ছিলেন তিনি! বিষাক্ত সুইংয়ের সাথে তিনি নাকি স্পিনের মায়াজাল মেশাতে পারতেন! কি অবাক হচ্ছেন? নিজের চোখকে বিশ্বাস করতে পারছেন না? আসলে অবাক হওয়ার কিছু নেই।

একটা বলকে দু’দিকেই কথা বলাতে পারতেন বার্নস অর্থাৎ ইনসুইং, আউটসুইং দুটোতেই ছিলেন সমান দক্ষ। সবচেয়ে ভয়ঙ্কর ছিল লেট সুইং। এমনকি নিখুঁত ইয়র্কার পর্যন্ত দিতে পারতেন।

পেসার হিসেবে এত এত স্কিল আর বৈচিত্র্য থাকা সত্ত্বেও বার্নস কিনা নিজেকে একজন 'স্পিনার' পরিচয় দিতেই স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করতেন! তিনি বারবারই বলেছেন, তাঁর সাফল্যের রহস্য ছিল স্পিন!

উইজডেন বলছে, “Barnes was creative, one of the first bowlers really to use the seam of a new ball and combine swing so subtly with spin that few batsmen could distinguish one from the other.”

অস্ট্রেলিয়ার বাঁহাতি ব্যাটিং লিজেন্ড ক্লেম হিলের মতে, “On a perfect wicket Barnes could swing the new ball in and out "very late", could spin from the ground, pitch on the leg stump and miss the off.”

১০.

সিডনি বার্নস পেসার হলেও তাঁর মধ্যে একজন কোয়ালিটি স্পিনারের সবরকম গুণাবলী বিদ্যমান ছিল। তিনি ছিলেন এমন একজন পেসার, যিনি স্বাভাবিকের চেয়ে লম্বা রানআপে দৌড়ে এসে 'স্পিন' বল করতেন।

সবচেয়ে বড় কথা, একই একশনে স্পিন বোলিংয়ের বেসিক ৩টা ডেলিভারি অর্থাৎ অফ স্পিন, লেগ স্পিন এবং টপ স্পিন করতে পারতেন তিনি, যা তাঁকে বিশ্বের সেরা বোলারের স্বীকৃতি এনে দিয়েছিল।

এ সম্পর্কে উইজডেন বলছে, “With all three balls coming out of the front of the hand at considerable speed it would be almost impossible for the batsman to differentiate between them.”

যেহেতু তিনি বলকে স্পিন করাতে পারতেন সেহেতু তাঁকে একজন স্পিনার বলা যেতেই পারে। তা সিডনি বার্নস ঠিক কোন ধরনের স্পিনার ছিলেন? ফিঙ্গার স্পিনার নাকি রিস্ট স্পিনার? এর উত্তরে বলব, বার্নস ছিলেন একজন পিওর ফিঙ্গার স্পিনার, যিনি কব্জি না বাঁকিয়েই কেবলমাত্র আঙুলের সাহায্যে (finger twisting) লেগ ব্রেক, অফ ব্রেক সব করতে পারতেন। জনাব নেভিল কার্ডাস যথার্থই বলেছেন, “He fingered a cricket ball sensitively, like a violinist his fiddle.”

১১.

একটা ব্যাপার লক্ষণীয়, বার্নসের সবগুলো ডেলিভারিই ছিল 'ফ্রন্ট অফ দ্য হ্যান্ড' একশনের। 'ব্যাক অফ দ্য হ্যান্ড' একশনে গুগলি দিতে পারতেন না তিনি। অবশ্য তার প্রয়োজনও ছিল না, যেহেতু তিনি রিস্ট স্পিনার নন।

এ বিষয়ে বার্নসের ভাষ্য ছিল, "আমি গুগলি পারতাম না। কখনও শেখার চেষ্টাও করি নি।"

বার্নসের স্টক ডেলিভারি ছিল 'মিডিয়াম পেসড লেগ ব্রেক'। যা প্রচলিত 'আউটসুইঙ্গার' থেকেও ভয়ঙ্কর ছিল। লেগ স্টাম্পের বাইরে পিচ করা বলকে অনায়াসে 'টপ অফ দ্য অফ স্টাম্পে' হিট করাতে পারতেন তিনি। মাঝেমধ্যে নাকি বল এতটাই টার্ন করত যে উইকেটকিপারও নাগাল পেতেন না; সরাসরি স্লিপ ফিল্ডারের কাছে চলে যেত।

বার্নসের বলে 'ক্লিন বোল্ড' হওয়ার অভিজ্ঞতা ব্যক্ত করতে গিয়ে ক্লেম হিল একবার বলেছিলেন, "The ball pitched outside my leg-stump, safe to the push off my pads, I thought. Before I could 'pick up' my bat, my off-stump was knocked silly."

গতির কারণে বার্নসের স্পিনিং 'ব্রেক' ডেলিভারিগুলোকে 'কাটার' বলে রায় দিয়েছেন অনেকে। কিন্তু বার্নস তাঁর ব্রেকগুলোকে কাটার মানতে নারাজ।

৭০-৭৫ মাইল গতিতে বলে স্পিন ইমপার্ট করা খুবই কঠিন ব্যাপার। অথচ এই কাজটাই দিনের পর দিন অবলীলায় করে যেতে পারতেন বার্নস। একবার কল্পনা করুন তো, মাইক গ্যাটিংকে করা শেন ওয়ার্নের 'শতাব্দীসেরা' বলটা ৭০ মাইল গতিতে করলে কেমন হত?

১২.

শারীরিকভাবে বার্নস ছিলেন বেশ লম্বা (ছয় ফুটেরও বেশি), চওড়া কাঁধ, সুগঠিত বাহু ও সুঠাম দেহের অধিকারী। স্মুথ ইজি রানআপ, হাই রিলিজ পয়েন্ট (অনেকটা ম্যাকগ্রার মত) এবং কুইক আর্ম একশন। 'এক্সট্রা বাউন্স' এবং 'লেট ডিপ' আদায় করে নিতে পারতেন খুব সহজেই।

প্রখ্যাত ক্রিকেটলেখক ও ধারাভাষ্যকার জন আর্লট বলেছেন, “বার্নস ওয়াজ পারফেক্টলি বিল্ট টু বি এ বোলার।”

লাইন-লেন্থের ওপর বার্নসের ছিল অবিশ্বাস্য নিয়ন্ত্রণ, শর্ট বল দিতেনই না বলতে গেলে। সাথে ছিল বুদ্ধিদীপ্ত 'চেঞ্জ অফ পেস'। তাঁর প্রতিটা ডেলিভারির জন্যই ছিল ফাস্টার এবং স্লোয়ার দুই ধরনের ভ্যারিয়েশন।

বার্নস যে শুধু স্কিল আর বৈচিত্র্যেই সেরা ছিলেন তা নয়, তিনি অপ্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন চাতুর্য ও বুদ্ধিমত্তার দিক থেকেও। যেকোন ব্যাটসম্যানের দুর্বলতা পড়ে ফেলতে তাঁর দুই মিনিটও সময় লাগত না।

বার্নসের বোলিংয়ের উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য ছিল 'সারপ্রাইজ অ্যাটাক'। সুযোগ বুঝে ব্যাটসম্যানের দুর্বল জায়গায় অতর্কিত হামলা করতেন।

জন আর্লটের ভাষায়, “বার্নসের প্রতিটা ডেলিভারিই ছিল ব্যাটসম্যানকে ফাঁদে ফেলার অব্যর্থ প্রচেষ্টা, যা একটা সুনির্দিষ্ট কৌশলগত প্যাটার্ন মেনে চলত।”

বার্নস সবচেয়ে বেশি ভয়ঙ্কর ছিলেন আনকভার্ড স্টিকি উইকেটে। তবে ব্যাটিং সহায়ক ফ্লাট পিচেও নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়েছেন অসংখ্যবার। আর দক্ষিণ আফ্রিকার কৃত্রিম ম্যাটিং উইকেটে তিনি ছিলেন কার্যত আনপ্লেয়েবল!

১৩.

শেষ করা যাক একটি চমকপ্রদ তথ্য দিয়ে। বার্নস তাঁর ক্যারিয়ারের শেষ টেস্ট খেলেছেন ১৯১৪ সালে। তার ঠিক চৌদ্দ বছর পর ১৯২৮ সালে ইংল্যান্ড সফরে আসে টেস্ট পরিবারের নবীনতম সদস্য ওয়েস্ট ইন্ডিজ। বার্নসের বয়স তখন ৫৫।

আপনাদের বিশ্বাস করতে কষ্ট হবে জানি, কিন্তু বিশ্বাস করুন ওই ৫৫ বছর বয়সেই ক্যারিবীয়দের বিপক্ষে প্রস্তুতি ম্যাচ খেলতে মাঠে নেমেছিলেন বার্নস! শুধু খেললেন না, দলকে জেতালেনও! ১১৮ রান খরচায় নিলেন ১২ উইকেট!

বিস্ময়ের গল্পের এখানেই শেষ নয়। ওই ঘটনার বছর দুয়েক পর দক্ষিণ আফ্রিকা এল ইংল্যান্ড সফরে। একটি প্রস্তুতি ম্যাচের প্রতিপক্ষ ছিল ওয়েলস। বার্নসও ছিলেন সে দলে। যথারীতি আরও একবার দেখালেন বুড়ো হাড়ের ভেল্কি! মাত্র ৪১ রানে ৮ উইকেট নিয়ে সাতান্ন বছরের 'বুড়ো' বার্নস মনে করিয়ে দিলেন ক্রিকেটের সেই অমর বাণী 'ফর্ম ইজ টেম্পোরারি বাট ক্লাস ইজ পার্মানেন্ট'!

আসলে বার্নসের বেলায় শুধু ক্লাস না, ফর্মও ছিল পার্মানেন্ট। তাঁর সম্পর্কে বলা উচিত, “ফর্ম এন্ড ক্লাস বোথ আর পার্মানেন্ট"!

শুভ জন্মদিন, সিডনি বার্নস ❤

>--------------- কালেক্ট ---------------<

☞ SHAKIBIAN SAHED 75

Address

Noakhali Sadar Upazila

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when S.Sports75 posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Business

Send a message to S.Sports75:

Share

Category