19/03/2026
রমজানের শেষ প্রান্তে এসে একটা অদ্ভুত অনুভূতি কাজ করে।
একদিকে ঈদের আনন্দ।
অন্যদিকে বিদায়ের কষ্ট।
এক মাস সিয়াম, তারাবিহ, তাহাজ্জুদ, কুরআন, ইস্তিগফার, কান্না—সবকিছুর পর যখন শাওয়ালের চাঁদ ওঠে, তখন শুধু নতুন মাসই শুরু হয় না, এক অর্থে রমজানের পরীক্ষার ফলও প্রকাশ পেতে শুরু করে।
অনেক আলেম ঈদের রাতকে “লাইলাতুল জাইযা” বা পুরস্কারের রাত বলেও উল্লেখ করেছেন।
তাই এই রাতকে অবহেলা করবেন না।
আবার এমনও ভাববেন না যে, বড় কোনো আয়োজন না হলে ইবাদত হবে না।
কারণ ইবাদতের সৌন্দর্য হলো—সত্যি মন নিয়ে আল্লাহর দিকে ফিরে যাওয়া।
---
ঈদের রাতের আসল সুযোগ কোথায়?
এই রাতের সবচেয়ে বড় সুযোগ হলো—রমজান শেষ হওয়ার আগে শেষবারের মতো অন্তর খুলে আল্লাহর কাছে দাঁড়ানো।
রমজানে হয়তো আপনি অনেক কিছু করতে পেরেছেন।
হয়তো অনেক কিছু করতে পারেননি।
হয়তো কিছু রাত খুব ভালো গেছে।
হয়তো কিছু রাত হারিয়ে গেছে ঘুমে, ক্লান্তিতে, গাফিলতিতে।
কিন্তু ঈদের আগের রাত যেন আপনার শেষ আবেদন হয়ে ওঠে—
ইয়া আল্লাহ, আমি যতটুকু পেরেছি করেছি।
যা পারিনি—তুমি মাফ করো।
যা কম পড়েছে—তুমি পূর্ণ করো।
যা ভেঙেছে—তুমি জোড়া লাগাও।
আর যা কবুল হওয়া দরকার—তুমি কবুল করো।
এই রাতের সবচেয়ে সুন্দর আমল তাই হলো—
নফল নামাজ,
কুরআন তিলাওয়াত,
ইস্তিগফার,
দরুদ,
তওবা,
আর মন খুলে দোয়া।
---
তাহলে কী করবেন?
খুব সহজ।
আজ রাতকে আপনি তিন ভাগে ভেবে নিতে পারেন।
প্রথম ভাগ — শুকরিয়া
দ্বিতীয় ভাগ — তওবা
তৃতীয় ভাগ — দোয়া
---
প্রথমে শুকরিয়া
বলুন—
আলহামদুলিল্লাহ।
রমজান পেয়েছি।
রোজা রাখতে পেরেছি।
কুরআন খুলেছি।
দোয়া করেছি।
তোমার দরজায় ফিরেছি।
অনেক মানুষ গত বছর ছিল, এ বছর নেই।
আপনি আছেন।
এটাই বড় নিয়ামত।
---
তারপর তওবা
রমজানের ভেতরেও হয়তো গুনাহ হয়েছে।
চোখে, জিহ্বায়, মনে, আচরণে—অনেক ভুল হয়েছে।
তাই এই রাতে বেশি বেশি পড়ুন—
أَسْتَغْفِرُ اللَّهَ
উচ্চারণ: আস্তাগফিরুল্লাহ
অর্থ: আমি আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাই।
আর পড়ুন—
اللَّهُمَّ إِنَّكَ عَفُوٌّ تُحِبُّ الْعَفْوَ فَاعْفُ عَنِّي
উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা ইন্নাকা আফুউউন তুহিব্বুল আফওয়া ফা‘ফু আন্নি
অর্থ: হে আল্লাহ, তুমি ক্ষমাশীল, ক্ষমা করতে ভালোবাসো, আমাকে ক্ষমা করো।
(জামে আত-তিরমিজি: ৩৫১৩)
যদিও এই দোয়াটি মূলত লাইলাতুল কদরের জন্য বেশি পরিচিত, ক্ষমা চাওয়ার দোয়া হিসেবে এটি সব সময়ই গভীর ও উপকারী।
---
তারপর দোয়া
আজ রাতে বেশি বেশি চাইবেন