08/02/2024
দৃশ্যপট - ১:-
দিনটা ২০১৭ সালের ৯ই মার্চ। ইউসিএলের শেষ ১৬ এর ম্যাচে সেদিন মুখোমুখি হয়েছিলো পিএসজি এবং বার্সেলোনা। ১ম লেগে পিএসজির কাছে ৪-০ গোলে ধরাশায়ী হয়ে বিদায়ের দ্বারপ্রান্তে ছিলো বার্সেলোনা। আসরে টিকে থাকতে হলে করতে হতো অসম্ভব কিছু। সেটাই ওদিন করে দেখিয়েছিলো বার্সেলোনা। অতিরিক্ত সময়ে ২ লেগ মিলিয়ে ৫-৫ এ সমতা। গোল করা ছাড়া আর কোন পথ খোলা ছিলো না বার্সেলোনার কাছে। ম্যাচের শেষ বাঁশি বাজার ঠিক আগ মূহুর্তে নেইমারের অ্যাসিস্ট থেকে সার্জি রবার্তোর সেই গোল। ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা এক কামব্যাকের গল্প লিখা হয়েছিলো সেদিন। রূপকথার জন্ম দিয়ে বার্সেলোনা পৌঁছে গিয়েছিলো ইউসিএলের কোয়ার্টার ফাইনালে।
দৃশ্যপট - ২ :
দিনটা ২০১৭ সালের ২৩শে এপ্রিল। লা লিগায় সেদিন এল ক্লাসিকোতে মুখোমুখি হয়েছিলো দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী রিয়াল মাদ্রিদ এবং বার্সেলোনা। লা লিগার শিরোপা দৌড়ে টিকে থাকতে সেই ম্যাচে জয় ভিন্ন অন্য কোন উপায় ছিলো না বার্সেলোনার। ম্যাচে তখন ২-২ গোলে সমতা। অতিরিক্ত সময়ের একেবারে শেষ মিনিটে মেসির বাম পায়ের জাদুকরী শটে বার্সেলোনার জয় একই সাথে শিরোপা লড়াইয়ে যেন প্রাণ ফিরে আসা। তবে সবাই মেসির ঐ বিশেষ মূহুর্তটা কে মনে রাখলে ও সেই গোলের পিছনে রবার্তোর ছিলো গুরুত্বপূর্ণ অবদান। নিজের পজিশন রাইটব্যাক থেকে একাই বলটা কে টেনে নিয়ে গিয়েছিলেন মাঠের মাঝ পর্যন্ত। সেখান থেকে গোমেজ,আলবার পা ঘুরে অবশেষে মেসির সেই ঐতিহাসিক গোল।
যুব পর্যায়ে সান্তেস ক্রিউস এবং জিমন্যাস্টিকের হয়ে খেলার পর ২০০৬ সালে ১৪ বছর বয়সে বার্সেলোনার অ্যাকাডেমি লা মাসিয়ায় আসেন রবার্তো। সেখান থেকে বার্সেলোনার বি দলে তার সুযোগ আসে ২০০৯ সালে। বার্সেলোনার বি দলের হয়ে তিনি খেলেছেন ১০৬ ম্যাচ, করেছেন ৭ গোল। ২০১০ সালের ১০ই নভেম্বর কোপা দেল রে তে সেউটার বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে বার্সেলোনা মূল দলের হয়ে অভিষেক হয় রবার্তোর। একই বছর ২৭শে এপ্রিল রিয়াল মাদ্রিদের বিপক্ষে সেমিফাইনালের ১ম লেগের ম্যাচ দিয়ে ইউসিএলে বার্সেলোনার হয়ে ১ম বারের মতো মাঠে নামেন তিনি। সে ম্যাচে রবার্তো নেমেছিলেন ডেভিড ভিয়ার বদলি হিসেবে। ২০১১ সালের ২১শে মে মালাগার বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে লা লিগায় বার্সেলোনার হয়ে অভিষেক হয় তার। সেই বছরের ৬ই ডিসেম্বর ইউসিএলের গ্রুপ পর্বে বাতে বরিসভের বিপক্ষে ম্যাচে বার্সার হয়ে নিজের ১ম গোলের দেখা পান রবার্তো। মূলত রাইটব্যাক হলে ও দলের প্রয়োজনে রবার্তো খেলে থাকেন মিডফিল্ডে ও। ২০১৫-১৬ মৌসুমে বার্সেলোনার তখনকার কোচ লুইস এনরিকের অধীনে রবার্তো খেলেছিলেন ৭টি ভিন্ন পজিশনে। তাকে নিয়ে এনরিকে বলেছিলেন " রবার্তো আমাদের দলে গোলকিপার ছাড়া বাকি সব পজিশনে খেলার যোগ্যতা রাখে "। সিনিয়র পর্যায়ে ক্লাব ক্যারিয়ারে রবার্তো খেলেছেন এই একটি ক্লাব বার্সেলোনার হয়েই। বার্সেলোনার মূল দলের হয়ে ১৪ বছরের ক্যারিয়ারে এখন ও পর্যন্ত সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে মোট ২৩৭ ম্যাচ খেলেছেন রবার্তো, করেছেন ১২ টি গোল।
দীর্ঘ এই ক্যারিয়ারে বার্সেলোনার হয়ে রবার্তো জিতেছেন অনেক শিরোপা। একনজরে বার্সেলোনার হয়ে রবার্তোর জেতা শিরোপা সমূহ:
* লা লিগা - ৭ বার
(২০১০-১১,২০১২-১৩,২০১৪-১৫,২০১৫-১৬,২০১৭-১৮,২০১৮-১৯,২০২২-২৩)
* কোপা দেল রে - ৬ বার
(২০১১-১২,২০১৪-১৫,২০১৫-১৬,২০১৬-১৭,২০১৭-১৮,২০২০-২১)
* সুপারকোপা দে এস্পানা - ৩ বার
(২০১০,২০১৬,২০২২-২৩)
* ইউসিএল - ২ বার
(২০১০-১১,২০১৪-১৫)
* ইউয়েফা সুপার কাপ - ১ বার
(২০১৫)
* ফিফা ক্লাব বিশ্বকাপ - ১ বার
(২০১৫)
সার্জি রবার্তো বয়সভিত্তিক পর্যায়ে স্পেনের হয়ে খেলেছেন অনূর্ধ্ব - ১৭,১৯,২০,২১ দলে। ২০১৬ সালের মার্চে ইতালি ও রোমানিয়ার বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচের জন্য স্পেনের মূল দলে ১ম বারের মতো ডাক পান তিনি। ইউয়েফা নেশনস লিগের ২০২০-২১ এর আসরে রানার্সআপ হওয়া স্পেন দলের সদস্য ছিলেন রবার্তো। স্পেনের মূল দলের হয়ে ১১ ম্যাচ খেলে রবার্তো করেছেন ১ গোল।
সেই সার্জি রবার্তো ১৯৯২ সালের এই দিনে স্পেনের কাতালুনিয়ার রিউস শহরে জন্মগ্রহণ করেন। আজ তিনি পদার্পণ করলেন নিজের ৩২ তম বসন্তে।
শুভ জন্মদিন সার্জি রবার্তো!
©Md Nayon Ali