29/04/2026
আগামীকাল নৃসিংহ চতুর্দশী, আজ খুব সহজেই নৃসিংহ চতুর্দশী পালনের নিয়ম জেনে রাখুন:-
ভগবান শ্রী নৃসিংহদেব প্রহল্লাদ মহারাজকে উদ্দেশ্য করে এই উক্তিটি করেন – যে ব্যাক্তি নৃসিংহ চতুর্দশী ব্রত তিথি জেনেও পালন করেন না, চন্দ্র, সূর্য যতদিন থাকবে ততদিন তাকে নরক যন্ত্রনা ভোগ করতে হবে।
*এক নৃসিংহ চতুর্দশী = ১০,০০০ দূর্গা অষ্টমীর উপবাস*
*এক নৃসিংহ চতুর্দশী= ১০০০ একাদশীর সমান।*
কলিযুগে শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু একাদশীকে মহাব্রত বলেছে।
এখন আমরা জানবো কিভাবে এই ব্রত পালন করবো।
🚩- আগের দিন অর্থ্যাৎ আজ নিরামিষ আহার করবেন। নেশাজাতীয় যে কোন দ্রব্য চা, কফি, তামাক জাতীয় দ্রব্য অবশ্যই বর্জন করবেন।
🚩- রাতে ঘুমোতে যাওয়ার আগে অবশ্যই দন্তমার্জন করে তারপর ঘুমাতে যাবেন।
🚩- উপবাসের দিন ব্রহ্ম মুহুর্তে (মোটামুটি ভোর ৪ টা থেকে ৪ঃ৩০ টা) নিদ্রা ত্যাগ করে শৌচকর্ম ও স্নানাদি সম্পন্ন করে নেবেন।
🚩- বৈশাখী শুক্লা চতুর্দশী ব্রত পালনকারীরা পাপাচারীদের সঙ্গে কথা বলবে না, মিথ্যা আলাপ বর্জন করবে, স্ত্রীসম্ভাষণ বর্জন করবে, দ্যূতক্রীড়া (বা জুয়াখেলা) ত্যাগ করে ভগবানের রূপগুণলীলার কথা স্মরণ করবে।
🚩- সন্ধ্যা বা গৌধূলী লগ্ন পর্যন্ত নির্জলা উপবাস করবেন। গোধূলি লগ্নে শ্রীনৃসিংহদেবের অভিষেক নৃসিংহদেবকে দুধ, দই, ঘি, মধু, মিছরির জল এবং ফলের রস দিয়ে অভিষেক করবেন (নৃসিংহদেবের চিত্রপটে অভিষেক করা যাবে)। তারপর অভিষেকের চরণামৃত দিয়ে উপবাস ভেঙ্গে একাদশীর ন্যায় অনুকল্প প্রসাদ গ্রহণ করা যেতে পারে। নৃসিংহদেবের শ্রী বিগ্রহ বা চিত্রপট না থাকলে শ্রী নারায়ণ বিগ্রহ বা চিত্রপটে ভোগ নিবেদন করে (পঞ্চশস্য ব্যতীত একাদশীর মতো) প্রসাদ গ্রহণ করা যেতে পারে। যেমন ভিন্ন প্রকারের ফল, জল, দুধ, দই, ভেজা বাদাম, ভাজা বাদাম, আলুর দম বা তরকারি, সবজি, সবজির স্যুপ, ইত্যাদি। এছাড়া আলু ছোট করে টুকরো করে বাদাম দিয়ে এক বিশেষ ভোগ দিতে পারেন। (রান্না ঘি দিয়ে করলে উত্তম, তবে সূর্যমুখী তেল বা বাদাম তেল ব্যবহার করতে পারেন)। তবে নির্জলা ব্রতই উত্তম।
কিন্তু ব্রতের দিন অন্ন, রুটি, লুচি, পরোটা গ্রহণ করা যাবে না। তবে অবশ্যই নৃসিংহদেবকে “পান্কম” নিবেদন করতে পারেন। “পনকম্” হলো শীতল জল, তাল-মিছরি, লেবুর রস এবং আদা দিয়ে তৈরি একরকম পানীয় যা নৃসিংহদেবের অত্যন্ত প্রিয়।
নিচে পান্কম বানানোর রেসিপি দেয়া হলোঃ-
● চার কাপ ঠাণ্ডা জল
● অর্ধেক চামুচ এলাচি ক্রাশ করা
● এক চামুচ আদা রস
● অল্প কেশর
● একটি লেবু
● এক বাটি গুঁড়
এই সবগুলো উপাদান এক সাথে মিশিয়ে তারপর ছেঁকে ভগবান নৃসিংহ দেবকে নিবেদন করতে পারেন।
বি.দ্রঃ-ভক্তসংখ্যানু্যায়ী উপকরণের পরিমাণ বাড়বে।
🚩- নৃসিংহ লীলা মহিমা পাঠ করবেন, নৃসিংহদেবের ১০৮ টি নাম অবশ্যই পাঠ করবেন (নিচে দেওয়া আছে)। যারা সদা গ্রহাদির পীড়ন ভোগ করছেন তারা নৃসিংহ চতুর্দশী তিথিতে উপবাস থেকে ১০৮ জোড়া তুলসীপাতা দ্বারা নৃসিংহ দেবের অষ্টোত্তর শতনাম (১০৮) পাঠ করে চরণে অর্পণ করলে সমস্ত অপগ্রহাদির উপদ্রুব বিদূরিত হয়৷
🚩- বেশি বেশি হরিনাম জপ (কমপক্ষে ১৬ মালা, যেখানে ১মালা = ১০৮ বার) করবেন।
হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে,
হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে।
🚩- বাড়িতে শ্রীমদ্ভাগবত থাকলে শ্রীমদ্ভাগবতের ৭ (সপ্তম) স্কন্ধের ৮ম অধ্যায় শ্রীনৃসিংহদেবের আবির্ভাব লীলা পাঠ করুন। অথবা শুদ্ধভক্তের নিকট থেকে শ্রবণ করুন। ব্রতের দিন নৃসিংহদেবের প্রণাম মন্ত্র এবং স্তব পাঠ করুন (নিচে দেওয়া আছে। মনে রাখবেন নৃসিংহদেব অত্যন্ত কৃপালু।তিনি ভক্তের মনোবাসনা অবশ্যই পূরণ করবেন। তিনি অত্যন্ত করুণাময়। তিনি তাঁর ভক্তকে সর্ববিপদ থেকে রক্ষা করেন, যেমন—-তাঁর ভক্ত প্রহ্লাদকে রক্ষা করেছিলেন।
🚩- পরিশেষে উপবাসের পর দিন সূর্যোদ্বয়ের পর অন্ন ভোগ নিবেদন করে সেই অন্ন প্রসাদ গ্রহন করে এই ব্রত সুসম্পন্ন করবেন।
হরেকৃষ্ণ।
❤ আপনি নিজে এই ব্রতটি পালন করুন এবং অন্যকেও পালন করতে সহযোগীতা করুন। দুরারোগ্য রোগ থেকে মুক্তি পেতে, বৈশাখী চতুর্দশীতে পালন করুন এই নিয়মগুলি।
জয় শ্রী নৃসিংহদেব 🌿🌺