05/10/2026
স্থান: শহরের একটি ব্যস্ত অলিগলি, চারপাশের হট্টগোলের মাঝে দুজনেই নিশ্চুপ।
হিমু: (একটু থমকে দাঁড়িয়ে, বুক চিরে বের হওয়া নিশ্বাস চেপে)
— তুমি? সত্যিই তুমি?
রুপা: (চকিতে তাকিয়ে পলকহীন চোখে চেয়ে থাকে, যেন নিজের চোখকে বিশ্বাস করতে পারছে না)
— তুমি... এতদিন পর? এখানে?
হিমু: (হাতে থাকা বইটি শক্ত করে চেপে ধরে, হালকা একটু হেসে)
— সময়ের হিসাব তো আর রাখা হয়নি। কিন্তু দিন গুনে দেখলে হয়তো ঠিক ১০ বছর... তাই না?
রুপা: (নজর নামিয়ে নেয়, যেন দীর্ঘদিনের চেপে রাখা আবেগ লুকানোর চেষ্টা করছে)
— সময় তো অনেক দ্রুত চলে যায়, কিন্তু কিছু মুহূর্ত যেন এক জায়গায় থমকে থাকে। ভালো আছো?
হিমু: (মেয়েটির চোখের দিকে তাকিয়ে গভীর কণ্ঠে)
— 'ভালো থাকা' শব্দটার মানে কি এখনো আগের মতোই আছে, নাকি বদলে গেছে—জানি না। তবে বেঁচে আছি। তুমি কেমন আছো?
রুপা: (একটু দীর্ঘশ্বাস ফেলে)
— দিন কেটে যাচ্ছে ব্যস্ততায়। সংসার, দায়িত্ব... সব মিলিয়ে চলে যাচ্ছে। তুমি কি আগের মতোই আছো? এখনো অত ভাবুক আর একলা?
হিমু: (মুচকি হেসে দূরে তাকায়)
— কিছু অভ্যাস আর কিছু স্মৃতি চাইলেও বদলানো যায় না। আজও বৃষ্টির দিনে বা পরিচিত কোনো ভিড়ে চোখ দুটো আপনাতেই কাউকে খুঁজে ফেরে...
রুপা: (চুপ করে থাকে, তার চোখে এক অজানা অনুভূতি আর না বলা প্রশ্নের ভিড়)
— কখনো কখনো অতীতকে পেছনে ফেলে আসাই ভালো। স্মৃতি ধরে রেখে তো পথ চলা যায় না।
হিমু: (এক পা এগিয়ে এসে ধীর কণ্ঠে)
— মুছে ফেলার চেষ্টা কি কম করেছি? কিন্তু কিছু নাম হৃদয়ের এত গভীরে খোদাই করা থাকে যে, সময় তা আবছা করতে পারে, কিন্তু মুছে ফেলতে পারে না। আচ্ছা, সত্যি করে বলবে... এই দীর্ঘ ১০ বছরে একটিবারের জন্যও কি আমায় মনে পড়েনি?
মেয়েটি: (অসহায় দৃষ্টিতে ছেলেটির দিকে তাকায়, উত্তর দিতে গিয়ে কথা আটকে যায়)
— সব প্রশ্নের উত্তর দিতে নেই। কিছু কথা না বলাই থাক... উত্তর দিলে যে জমে থাকা কষ্টগুলো আবার আলোড়িত হয়ে উঠবে।
(চারপাশের ব্যস্ত রাস্তা আবার সচল হয়ে ওঠে, আর তারা দুজন অঘোষিত এক দূরত্বের মাঝে দাঁড়িয়ে নীরব চোখের ভাষায় এক অপরকে বিদায় জানায়।