12/02/2025
৩৬০ আউলিয়ার অন্যতম
হযরত শাহ শামসুদ্দিন আউলিয়া সুলতানুল বুখারী (রহঃ) এর মাজার শরীফ।
কুড়িখাই, মুমুরদিয়া, কটিয়াদী, কিশোরগঞ্জ।
হয়রত শাহ শাসছুদ্দিন আউলিয়া সুলতানুল বোখারী (রহ:) বোখারী নামক শহর থেকে হযরত শাহ জালাল (রহঃ) -এর সাথে তথা ৩৬০ জন আউলিয়ার সাথে বাংলায় আগমন করেন। তাঁদের মধ্যে প্রসিদ্ধ ১২ জন আউলিয়ার একজন ছিলেন তিনি।
হয়রত শাহ শাসছুদ্দিন আউলিয়া সুলতানুল বোখারী(রহ:) আত্মাতিক ক্ষমতার কিছু উদাহারণ।
১। সেকান্দর শাহ(রহ:) কর্তৃক শাসছুদ্দিন আউলিয়াকে পরীক্ষা করার জন্য সাক্ষাৎ করতে আসেন সেকান্দর শাহ (রহ:)-এর অন্তরের বাসনা পূর্ণ করেন
২। মানত পূর্ব না করায় জনৈক ব্যক্তির সন্তানের মৃত্যু এবং পুনরায় মৃত সন্তানকে জীবিত করেন।
৩। অনেকের প্যারালাইসেস সহ বিভিন্ন রোগ থেকে মুক্তি দান করেন।
হযরত শাহ সামছুদ্দীন রহঃ এর পুরো নাম হযরত শাহ সামছুদ্দীন আউলিয়া সুলতানুল বোখারী (রহ.)। কথিত আছে, ইসলাম ধর্ম প্রচারের উদ্দেশে বার আউলিয়ার অন্যতম শাহ সামছুদ্দীন (রহ.) প্রায় ৯০০ বছর আগে তার তিন সহচর ১। শাহ কলন্দর, ২। শাহ নাছির ৩। শাহ কবীরকে নিয়ে কুড়িখাই এলাকায় আস্তানা স্থাপন করেন।
তিনি ইহলোক ত্যাগ করলে এখানেই তার মাজার গড়ে ওঠে। তার মাজারকে কেন্দ্র করে ১২২৫ খ্রিষ্টাব্দ থেকে ওরস ও গ্রামীণ মেলা অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে বলে জানা যায়।
এছাড়া মাজার সংলগ্ন একটি বৃহৎ মসজিদ, মাজার শরীফ, ফকির পাগলের ৪টি আস্তানা ভবন, অফিস ভবন, পুকুর, ভান্ডারঘর, ২টি মসজিদ, একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়, অতিথি শালাসহ বিশাল এলাকা। প্রতিদিনই শতশত দর্শনার্থী কুড়িখাই মাজার দর্শনে আসেন
৮০০ বছরের প্রাচীন দেশের অন্যতম গ্রামীণ মেলা কুড়িখাই মেলা এর অংশ হিসেবে প্রতিবছর বাংলা মাঘ মাসের শেষ সোমবার বিশাল তামার পাতিলে তবারক রান্না আর বাউল-ফকিরের আসরের মধ্য দিয়ে এই মেলার আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। পনের দিন ব্যাপী এই মেলা চলে। এই মেলাকে ঘিরে উৎসবে মেতে ওঠে আশেপাশের সব এলাকা।
কিশোরগঞ্জ জেলার কটিয়াদী উপজেলার কুড়িখাই এলাকার এই মেলাটি কিশোরগঞ্জ জেলার সবচেয়ে বড় গ্রামীণ মেলা হিসেবে পরিচিত। প্রতি বছরের মাঘ মাসের শেষ সোমবার মেলা শুরু হয়। পনের দিন ব্যাপী মেলায় দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে সার্কাস, মৃত্যুকূপ, নাগরদোলা, পুতুল খেলাসহ রকমারি পসরা নিয়ে আসেন ব্যবসায়ীরা। বসে বিন্নি ধানের খই, কদমা, বাতাসা, গুড়, জিলাপির দোকান। এই মেলায় পাওয়া যায় বিশাল বিশাল মাছ, কাঠের আসবাবপত্র। পার্শ্ববর্তী কৃষি জমিসহ বিশাল চত্বরে বসে এই মেলা।
আশপাশের সমস্ত এলাকায় বছরের প্রধান উৎসব হয়ে ওঠে ৮০০ বছরের প্রাচীন কুড়িখাই মেলা। মেলাকে কেন্দ্র করে এলাকার পরিবারগুলো আগে থেকেই টাকা জমিয়ে রাখতে থাকে মেলায় খরচ করবে বলে।
দূরবর্তী আত্মীয়স্বজনকে মেলার বিশেষ দাওয়াত দেওয়া হয়। চারদিক থেকে এলাকার ছেলে-বুড়ো থেকে শুরু করে নানা বয়সের মানুষের সপ্তাহব্যাপী দীর্ঘ লাইন থাকে মেলার দিকে। এই মেলায় সবচেয়ে বড় আকর্ষণ মাছের হাট। মেলায় বিশাল এলাকাজুড়ে বসে মাছের হাট। এই হাটে বোয়াল, চিতল, আইড়, রুই, কাতল, সিলভার কার্পস, পাঙ্গাস, মাগুর, বাঘাইরসহ নানা ধরণের অন্তত চার শতাধিক মাছের দোকান বসে। মাছ বিক্রেতারা কিশোরগঞ্জ, নেত্রকোনা সুনামগঞ্জের হাওর ও নদী থেকে এক সপ্তাহ পূর্ব থেকে এসব মাছ সংগ্রহ করে মেলায় বিক্রির জন্য নিয়ে আসেন। দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে ধনাঢ্য ব্যক্তিসহ সর্বস্তরের লোকজন এই মেলা থেকে মাছ কিনে নিয়ে যান। এছাড়া মেলায় হাজারো
দর্শক আসেন মাছ দেখতে।
এলাকায় প্রবাদ রয়েছে, কুড়িখাই মেলার মাছ খেলে সকল বালা মুসিবত দূর হয়। মেলার পাঁচ কিলোমিটারের মধ্যে প্রতিবাড়িতে মেলা উপলক্ষে নতুন জামাই ও আত্মীয় স্বজনদের দাওয়াতের
রীতি রয়েছে।
কিভাবে যাওয়া যায়:
কটিয়াদী উপজেলা থেকে মানিক খালী রোড মুমুরদিয়া ইউয়িননের আধা কিলোমিটার দূরে সিএনজি দিয়ে যাওয়া যায়।
সংগ্ৰহীত