02/11/2024
তুহিনের গল্পটি আমাদের সবার মনে এক গভীর দুঃখের স্রোত বইয়ে দিয়েছে। জীবন সংগ্রামের জন্য তুহিনের মতো অনেকেই প্রবাসে পাড়ি জমায়, স্বপ্ন দেখে পরিবারের মুখে হাসি ফোটানোর, তাদের জন্য সুন্দর একটা ভবিষ্যৎ গড়ার। তুহিনও সেই স্বপ্ন বুকে নিয়ে পাড়ি দিয়েছিলো মরুভূমির দেশে, কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে সে আর ফিরে আসতে পারল না তার প্রিয় জন্মভূমিতে।
ডুবাইয়ের কর্মব্যস্ত রাস্তায় এক দুর্ঘটনাই থামিয়ে দিল তার জীবন। কাজের পর বাড়ি ফেরার পথে সে রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে ছিলো, আর সেখানেই ঘটে গেল সেই মর্মান্তিক ঘটনা। একটি গাড়ি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সোজা তার উপর উঠে যায়, আর তার জীবন থেমে যায়। প্রবাসে একা পরবাসীর এমন মৃত্যুর খবর যেন বজ্রপাতের মতোই তুহিনের পরিবারের উপর আছড়ে পড়ে। একটা ফেমিলি তার একটা উপার্জনক্ষম ছেলেকে হারিয়ে দিশেহারা হয়ে যায়। সৃষ্টিকর্তা তাদের ধৈর্য ধরার তৌফিক দান করুক।
তুহিনের লাশ দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য গ্রামের মানুষ এক হয়ে যায়। বাঘমারা, ছত্তিস এবং পিটাইটিকরের মানুষ মিলে অর্থনৈতিক ভাবে সহায়তা করে ডুবাই থেকে তুহিনের লাশ দেশে ফেরায়। গ্রামের মানুষ, যারা তাকে ছোটবেলা থেকে চিনতো, যারা তাকে প্রবাসে যাওয়ার আগে আশীর্বাদ করেছিলো, তাদের প্রতিটি হাত এগিয়ে আসে এই যাত্রাকে সহজ করতে। এই একাত্মতা দেখে মনে হয়, হয়তো তুহিন শারীরিকভাবে নেই, কিন্তু তার আত্মা এদের মধ্যেই জীবিত আছে।
আজ তুহিনের জানাজায় হাজারো মানুষের উপস্থিতি দেখে মনে হয়, মানুষ এক হয় তাদের ভালোবাসা দিয়ে। তুহিন তার পরিবারের মুখে হাসি ফোটাতে পারেনি, কিন্তু তার মৃত্যুতে সবাইকে এক কাতারে দাঁড় করিয়ে দিয়ে গেছেন।
তুহিনের এই ঘটনাটি আমাদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেয় প্রবাসীদের জীবন কতটা ঝুঁকিপূর্ণ আর অনিশ্চিত। পরিবার থেকে দূরে, অনেক ত্যাগ স্বীকার করে তারা কাজ করে যায় শুধু আপনজনদের মুখে হাসি ফোটানোর আশায়। তাদের এই আত্মত্যাগের কদর আমাদের কাছে অনেক বেশি।