09/05/2026
যেসব আঙ্গিক তাঁর কলমে ধরা পড়েনি তা বাস্তবে অস্তিত্বহীন, এমন বিশাল ও বহুমুখী যে বাঙালির লেখনী, তিনি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। সাম্প্রতিক সময়ে দাঁড়িয়ে তাঁর চর্চিত মানবপ্রেম, প্রকৃতিপ্রেম, ঈশ্বরচেতনা প্রভৃতি অগণিত আঙ্গিকগুলির মধ্যে যেটি বিশেষ করে প্রাসঙ্গিক তা নিঃসন্দেহে তাঁর যুগত্তীর্ণ সমাজচেতনা। আজ আমাদেরও ‘রাজর্ষি’-র রঘুপতির মতো চোখে পড়েছে ধর্মান্ধতার প্রলেপ নয়তো গোরার মতো উগ্র জাতীয়তাবাদ আমাদের চোখ করেছে ঝাপসা। আমাদের গিলে খেতে আসছে ‘রক্তকরবী’-র যক্ষপুরী কিম্বা ‘অচলায়তন’-এর নিষ্ঠুর পরিবেশ। কিন্তু এই পঙ্কিল ভূমিতেও ফুল ফুটিয়েছে নন্দিনী, পঞ্চকেরা। রবীন্দ্রনাথ দেখিয়ে গেছেন মৌলবাদ নয়, বিভেদ নয়, চোখ রাঙানো ভ্রুকুটি নয় বরং প্রেম, মানবিকতা ও শ্রদ্ধাই পারে আদর্শ মানবসমাজ গড়ে তুলতে। তাই এই সংকটাপন্ন অবস্থায় রবীন্দ্রনাথের জন্মদিনে তাঁর কাছে ছুটে যেতে হয়, ডাকতে হয় তাঁকে নিজেদের শুদ্ধিকরণের জন্য -
“আগুনের পরশমণি ছোঁয়াও প্রাণে
এ জীবন পুণ্য করো দহন-দানে।।”
আজ ত্রাণকর্তা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৬৫ তম জন্মবার্ষিকীতে তাঁর প্রতি রইলো ইস্পাতের অসীম শ্রদ্ধার্ঘ্য। রবীন্দ্রনাথের ছোঁয়ায় ফুল হয়ে ঝরে পড়ুক আরও শত শত কুঁড়ি।