23/02/2026
হাসপাতালে ভুল চিকিৎসা বা অবহেলার কারণে রোগীর মৃত্যু হলে বাংলাদেশে প্রচলিত আইন অনুযায়ী বেশ কিছু পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব। যদিও দেশে এর জন্য একক কোনো সুনির্দিষ্ট আইন নেই, তবুও দণ্ডবিধি, দেওয়ানি আইন এবং ভোক্তা অধিকার আইনের অধীনে প্রতিকার পাওয়া যায়।
নিচে ধাপে ধাপে করণীয়গুলো আলোচনা করা হলো:
বিএমডিসি-তে (BMDC) অভিযোগ: চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগ করার জন্য প্রাথমিক ও প্রধান সরকারি সংস্থা হলো বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিল (BMDC)। চিকিৎসকের পেশাগত গাফিলতি প্রমাণিত হলে বিএমডিসি তার নিবন্ধন স্থগিত বা বাতিল করতে পারে।
ফৌজদারি মামলা (Criminal Action): দণ্ডবিধির ৩০৪এ (304A) ধারা অনুযায়ী, অবহেলা বা হঠকারী সিদ্ধান্তের কারণে মৃত্যু ঘটলে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকের বিরুদ্ধে মামলা করা যায়। এতে দোষী সাব্যস্ত হলে ৫ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড বা জরিমানা অথবা উভয় দণ্ড হতে পারে।
দেওয়ানি মামলা ও ক্ষতিপূরণ (Civil Suit): দেওয়ানি কার্যবিধির ৯ ধারা অনুযায়ী আর্থিক ক্ষতিপূরণ চেয়ে দেওয়ানি আদালতে মামলা করা সম্ভব। পরিবারের উপার্জক্ষম ব্যক্তির মৃত্যুতে যে আর্থিক ক্ষতি হয়, তার জন্য এই দাবি করা যায়।
ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন: ২০০৯ সালের ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইনের অধীনে রোগীরা 'ভোক্তা' হিসেবে গণ্য হন। চিকিৎসার ক্ষেত্রে সেবার ত্রুটি বা অবহেলার জন্য ভোক্তা অধিকার অধিদপ্তরে অভিযোগ দায়ের করা যায়, যেখানে জরিমানার বিধান রয়েছে।
রিট আবেদন (Constitutional Remedy): সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী হাইকোর্ট বিভাগে রিট পিটিশন দাখিল করে মৌলিক অধিকার (জীবনের অধিকার) লঙ্ঘনের প্রতিকার চাওয়া যায়।
প্রয়োজনীয় তথ্য ও প্রমাণ সংগ্রহ: আইনি ব্যবস্থা নিতে হলে চিকিৎসার সকল নথি, প্রেসক্রিপশন, প্যাথলজিক্যাল রিপোর্ট এবং হাসপাতালের বিলের কপি সংগ্রহে রাখা জরুরি ।
তবে মনে রাখা প্রয়োজন, ১৮৬০ সালের দণ্ডবিধির ৮০ এবং ৮৮ ধারা অনুযায়ী, যদি চিকিৎসক 'সরল বিশ্বাসে' এবং রোগীর সম্মতিতে জীবন বাঁচানোর চেষ্টা করতে গিয়ে কোনো দুর্ঘটনা ঘটে, তবে তাকে দায়মুক্তি দেওয়া হয়েছে