10/05/2015
মা দিবসের গল্প....
Written By: Shironamhin Athoy Aronyo
কপাল একটু কেটে গেছে।কাটা
চামড়া হালকা ঠেলে
রক্ত বের হয়ে আছে। তবে গড়িয়ে
পড়ছেনা। একটু
জ্বালা করছে।সিয়া হাত দিয়ে
হালকা চেপে চেপে
দেখছে ব্যাথা পায় কিনা।আর
রাস্তার পাশে বসে
জ্যামে আঁটকে যাওয়া কালো
গাড়িটা দেখছে।গাড়ির
ভেতর দুইটা ছেলে বসে আছে তার
মত। ওদের জায়গায়
সে থাকলে গাড়িতে বসে অনেক
আনন্দ করত। অথচ
তারা কেমন গোমরামুখো হয়ে বসে
আছে।মনে হচ্ছে
তাদের সাথে কে যেন নেই।
গাড়ির দিকে তাকাতে তাকাতে
একটু জোরেই কাটা
জায়গায় চাপ পড়ে গিয়েছিল।আর সে
'আহ' করে উঠল।
কপালটা একটু আগেই কাটা
গিয়েছিল,একটা
প্রতিযোগিতায়। তেমন কোন
প্রতিযোগিতা নয়।
ওতো টোকাই। টোকাইদের নিয়ে
আবার কিসের
competition!. একটা গাড়ি থেকে একটা
পানির বোতল
ফেলা হয়েছিল।আর অমনিই ওর মতো
অন্য
টোকাইরা কাড়াকাড়ি শুরু
করেছিল।অবশ্য বোতলটা
এখন তার্ই বস্তায়।
'ওই সিয়া,চল ওইহানে যাই।
কুত্তাগুলা জানি কি
খাইতাছে'.-তার সাথের আরেকটা
টোকাই বলল।
নিজের নামের বিকৃত উচ্চারণ
শুনে একটু রাগ্ও হলো।
'ওই হালা,তুই যা।আমি যামুনা'-
জেদস্বরে ছুঁড়ে দিল
কথাটা।
অন্যদিকে হাঁটতে শুরু করল
সিয়া।কাঁধে ব্যাগ। বয়স
৭-৮ হবে। ওর ভালো নাম সিয়াম।
কিন্তু ওকে সবাই
'সিয়া' নামেই ডাকে।কি জানি
টোকাইদের হয়তো
সঠিক নামে মানায়না বা কেউ
ডাকেনা।
এক মহিলা হেঁটে যাচ্ছে,তার পাশ
দিয়ে।হাতে ধরা
একটা মেয়ে।ছোট মেয়ে।হাঁটতে
চাচ্ছেনা।বারবার
কান্না করছে কোলে উঠার জন্য।
কিন্তু মহিলা
পাষাণের মত ঝাড়ি
দিচ্ছে,'হেঁটে আসো'. তারপর্ও
কোলে তুলে নিচ্ছেনা।
এই দৃশ্যটা দেখে সিয়ামের ঘৃণার
মাত্রা আরো বাড়ে
মা জাতির প্রতি।
মা কি?কেমন?সেটা সে বুঝেনা।
তার মা ছিল কি আছে আদৌ সে
জানেনা।
মায়ের ঝাড়ি আদৌ সে শুনেনি।
মা কি সন্তানকে খোকা বলে
ডাকে?না,বাবা বলে
ডাকে?নাকি,জাদু বলে ডাকে?এই
প্রশ্নের উত্তর
আজ্ও সে উপলব্ধি করতে পারেনি।
মায়ের কোলে
ঘুমানোর চিন্তাও তার আসেনি।
সেতো রাস্তার
শক্ত ইটে মাথা রেখে ঘুমায়।
মাতৃকোলে ঘুমানোর আয়েশ সে
পাবে কোথা থেকে।
তার মাও হয়তো এই মহিলার মত ছিল।
তাকে দূরে
দূরে রাখতো।জ্ঞান হবার পর
থেকে ও এই
টোকাইদের সাথেই আছে।
,
মেঘের গর্জন শোনা গেল।
মূহুর্তেই বৃষ্টি নামল।
রৌদ্রময় বৃষ্টি।সূর্য হাসছে।আর
মেঘ কাঁদছে।
বাস্তব জীবনের সাথে মিল। বড্ড
মিল।
বৃষ্টি দেখলেই সিয়াম দৌড়ায়।
দৌড়ে দৌড়ে ভিজে।
পেছন থেকেতো কেউ বলার
নেই,'ভিজিসনা।জ্বর
আসবে'.কেউ বলার থাকলে হয়তো
আস্তে করে চুপি
চুপি ভিজে আবার উঠে যেত। বলার
নেই কেউ,তাই সে
ভিজছে আর দৌড়াচ্ছে। অন্য কেউ
হলে হয়তো
বলত,'মেঘ হচ্ছে,রোদ হচ্ছে,
খেঁকশিয়ালীর বিয়ে
হচ্ছে'.কিন্তু তাকে শেখানোর
কেউ নেই।সে জানেনা,বলছেনা।
,
অনেক্ষন ভেজার পর রহিম চাচার
চায়ের দোকানে
এসে দঁআড়াল। টিভিতে সিনেমা
চলছে। একটু দেখল সে।
শরীরটা কেমন যেন করছে।
রাত।
সিয়াম শুয়ে আছে ডাস্টবিন
থেকে দূরে। এখন কেন
জানি আর ডাস্টবিন সহ্য হয়না।
অথচ,এই ডাস্টবিন
নিয়েই তার জীবন।
বৃষ্টিতে ভেজায় শরীরে জ্বর
এসেছে।প্রচন্ড জ্বর।
এই জ্বরে কি যেন মিস করছে। রহিম
চাচার দোকানে
দেখা সিনেমার কথা মনে
হল,''অসুস্থ ছেলেটাকে
সারারাত সেবা দিয়ে সারিয়ে
তুলল মা।মায়ের কোলে
শুয়ে কি আরামেই না ছেলেটা
ঘুমিয়েছিল।
এই মূহুর্তে তার শরীরে
থার্মোমিটার ছোঁয়ালে পারদ
চমকেই সর্বোচ্চ দাগ অতিক্রম করে
ফেলবে।মায়ের
প্রতি তার ভালোবাসা হঠাৎ যেন
এমন্ই হয়ে উঠল।
এই ভালোবাসার সর্বোচ্চ-সর্বনি
ম্ন নেই। এটা এক
অগননাযোগ্য ভালোবাসা।
মাথার তলার ইটখানা অসহ্য লাগছে।
মমতায় ভরা
কোন কোল খুঁজছে। অথচ এই ইট্ই ছিল
এতোদিন
শোয়ার একমাত্র সংী।
সেদিন 'সিয়া' বলে ডাকা
ছেলেটাকে বলতে ইচ্ছে
করছে,''আমারে 'সিয়াম্মা' কইয়া
ডাকবি''.অথচ এটাও
তার নামের বিকৃত রুপ।
হঠাৎ সিয়া'র সাথে 'আম্মা' যোগ
করে দিতে ইচ্ছে
হলো তার।
ফটিক জ্বরে সিয়াম বকবক করছে।চোখ
বুঁজে আসছে।
মেঘের গর্জন শোনা গেল।আবার্ও
বৃষ্টি নামছে।
সিয়ামের শীত লাগছে,আরো বেশী।
সুন্দর এক স্বপ্নে
তলিয়ে গেল সে,''সিয়ামের মা
ডাকছে,আয়
বাবা,খোকা,জাদু আয়।আমার কাছে
আয়।সিয়াম কাছে
গেল। তার মায়ের কোলে গিয়ে
শোয়।ঘুমাচ্ছে।শা
ন্তির ঘুম।ভালোবাসায় জর্জরিত
ঘুম।'' এই ঘুম ভাঙ্গবেনা জানি....
Written By: Shironamhin Athoy Aronyo