02/02/2026
আইন ২১ ।। নবপ্রয়াণ ২১
২১২৮..
ভিন্ন পথে হাঁটা মন মিলল এক টানে,
আইনের ভাষা লিখল সবুজ স্বপ্নের ধ্রুপদীতে।
শীতের এক শান্ত সকালে, কুয়াশায় মোড়ানো পথ পেরিয়ে গুটি গুটি পায়ে যখন খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে পা রেখেছিলাম, তখন বুকের ভেতর ছিল একরাশ স্বপ্ন আর অজানা ভয়। চারপাশের বিশালতা, অচেনা মুখ, নতুন পরিবেশ সবকিছু মিলিয়ে তখন আমরা ছিলাম নিছকই কিছু কাঁচা স্বপ্নবাজ। চোখে ছিল একটাই আকাঙ্ক্ষা আইনের পাঠ নেওয়া, ন্যায়ের ভাষা বোঝা, নিজেকে তৈরি করা ভবিষ্যতের জন্য। কে জানত, এই ক্যাম্পাসই একদিন হয়ে উঠবে আমাদের দ্বিতীয় বাড়ি, আর এই চারটি বছর জীবনের সবচেয়ে গভীর অধ্যায়?
প্রথম বর্ষের প্রথম টার্মেই যেন জীবন আমাদের হাত ধরে টেনে নিল। সুন্দরবন ট্যুর ছিল সেই টানার প্রথম স্পর্শ। বিশাল বনের নীরবতার ভেতর, নদীর ঢেউয়ের ছলছল শব্দে, আমরা খুঁজে পেয়েছিলাম বন্ধুত্বের প্রথম মানে। সিনিয়র ভাইদের সান্নিধ্যে বসে গল্প শুনতাম কখনো খাবার টেবিলে, কখনো হাঁটতে হাঁটতে, আবার কখনো কটকা সি-বিচের বালুকাবেলায় দাঁড়িয়ে। সেই গল্পগুলো শুধু কথা ছিল না, ছিল ভবিষ্যতের ইঙ্গিত, ছিল সাহস, ছিল অনুপ্রেরণা। অচেনা মানুষগুলো ধীরে ধীরে হয়ে উঠেছিল আপন, আর ক্যাম্পাস তখন থেকেই আপন হয়ে যেতে শুরু করেছিল।
দ্বিতীয় বর্ষে এসে অভিজ্ঞতার পরিধি আরও বিস্তৃত হলো। হঠাৎ করেই আমরা বুঝতে শিখলাম বিশ্ববিদ্যালয় জীবন মানে শুধু ক্লাস আর পরীক্ষা নয়। মুট কোর্টের জন্য শুরু হলো কঠোর পরিশ্র দিনের পর দিন, রাতের পর রাত, কাগজের স্তূপ, যুক্তির যুদ্ধ, কণ্ঠে দৃঢ়তা আনার চেষ্টা সব মিলিয়ে আমরা নিজেদের নতুনভাবে চিনতে শুরু করলাম। সেই সময়টাতে শিখেছিলাম, চাপের মাঝেও কিভাবে একে অপরের পাশে দাঁড়াতে হয়।
আর ফুটসাল টুর্নামেন্ট ওটা ছিল আমাদের তারুণ্যের উচ্ছ্বাসের এক অনন্য অধ্যায়। সেমিফাইনাল আর ফাইনালের ম্যাচগুলো ছিল শুধু খেলা নয়, ছিল আবেগের বিস্ফোরণ। মাঠে দৌড়, গ্যালারিতে চিৎকার, জয়ের মুহূর্তে উল্লাস সবকিছু মিলে সেই দিনগুলো আজও স্মৃতির পাতায় ঝকঝক করে জ্বলজ্বল করে।
তৃতীয় বর্ষে এসে আমরা আর শুধু জুনিয়র রইলাম না। দায়িত্ব আমাদের কাঁধে এসে পড়ল নিঃশব্দে। সিনিয়রদের সব প্রোগ্রাম নিজেদের কাজ ভেবে তুলে নেওয়া তখন আর বোঝা মনে হয়নি, বরং ছিল গর্বের। ডিসিপ্লিনে BBQ প্রোগ্রাম শৃঙ্খলার মাঝেই আনন্দের সেই আয়োজন আমাদের হাত ধরেই শুরু হয়েছিল। সেই মুহূর্তগুলো বুঝিয়ে দিয়েছিল, নিয়মের মাঝেও বন্ধুত্ব বাঁচে, নেতৃত্বের মাঝেও ভালোবাসা থাকে।
তৃতীয় বর্ষের সমাপ্তি টেনেছিল সিলেট ট্যুর। পাহাড়, চা-বাগান, বৃষ্টি আর হাসিতে ভিজে যাওয়া দিনগুলোতে জুনিয়রদের সাথে আমাদের সম্পর্ক হয়ে উঠেছিল আরও গভীর। সেই সফর যেন প্রজন্মের ভেদরেখা মুছে দিয়ে সবাইকে এক সুতোয় বেঁধে ফেলেছিল। বিদায়ের মুহূর্তে তখনই বুঝেছিলাম এই সময়গুলো আর ফিরে আসবে না।
চতুর্থ বর্ষে এসে সময় হঠাৎ করেই দৌড়াতে শুরু করল। পহেলা বৈশাখের জন্য স্টল বানানো, রঙে রঙে সাজানো স্বপ্ন, সারারাত জেগে থাকা ক্লান্ত শরীর আর চোখে লুকিয়ে থাকা তৃপ্তি সব মিলিয়ে দিনগুলো কেমন যেন দ্রুত ফুরিয়ে যাচ্ছিল। এই সময়ের মাঝেই এসে পড়ে সাজেক ট্যুর যেন ব্যস্ততার ফাঁকে সময় নিজেই আমাদের একটু থামতে বলেছিল। পাহাড়ের গায়ে মেঘের ছায়া, আঁকাবাঁকা পথ, কুয়াশায় ঢাকা সকালের নীরবতা সবকিছু মিলিয়ে সাজেক হয়ে উঠেছিল আমাদের চার বছরের ক্লান্তির নীরব আশ্রয়। বন্ধুদের হাসি, গল্প, ছবি তোলার ব্যস্ততা আর কংলাক পাহাড়ে ওঠার সেই মুহূর্ত আজও বুকের ভেতর গভীর যত্নে লুকিয়ে আছে। মনে হয়েছিল, প্রকৃতির কোলে বসে আমরা আবার একবার নতুন করে “আমরা” হয়ে উঠেছি।
তখন বুঝিনি, এগুলোই ছিল শেষবারের মতো “একসাথে জেগে থাকা”, শেষবারের মতো “আমরা” হয়ে থাকা।
খাজার মাঠ ছিল আমাদের আবেগের কেন্দ্রবিন্দু। সেখানে সিনিয়র, জুনিয়র আর ব্যাচমেট মিলেমিশে আমরা প্রতিনিধিত্ব করেছি আমাদের ভালোবাসার আইন ডিসিপ্লিনকে। সেই মাঠে দাঁড়িয়ে আমরা শুধু খেলিনি, শুধু প্রতিযোগিতা করিনি আমরা নিজেদের পরিচয় তৈরি করেছি। জয়ের পর হাদি চত্বর, অদম্য বাংলা, আবার ডিসিপ্লিনের সামনে এসে এক সুরে স্লোগান কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে দাঁড়ানোর সেই দৃশ্যগুলো আজও চোখ ভিজিয়ে দেয়।
২১২৮০১(আমিনুল)আমাদের সিআর সাহেব-যার হাত ধরেই ব্যাচের সব ট্যুর, সব পরিকল্পনা স্বপ্ন ছেড়ে বাস্তবে নামে।নিঃশব্দে দায়িত্ব কাঁধে তুলে নিয়ে সে আমাদের সবাইকে এক সুতোয় বেঁধে রাখে,কথা কম, কাজেই তার নেতৃত্বের পরিচয়।
২১২৮০৩(মুন্না) মাঠ মানেই তার রাজত্ব। ফুটবল হোক বা ভলিবল-যেখানেই নামে, নিজেকে আলাদা করে চিনিয়ে দেয়। খেলার প্রতিটা মুহূর্তেই লেখা থাকে তার নাম, তার পরিচয়।
২১২৮০৪( রাকিব) ব্যাচের একমাত্র ব্যবসায়ী মন। ছেলেদের বেলায় হিসাবি হলেও,মেয়েদের খাওয়ানোর সময় তার উদারতার সীমা থাকে না- এই বৈপরীত্যই তাকে আলাদা করে চেনায়।
২১২৮০৫(বজলুর) ব্যাচের সবচেয়ে আবেগী প্রেমিক পুরুষ।অনুভূতিগুলো সে বুকের গভীরে লুকিয়ে রাখে, কথা কম বলে, কিন্তু যা বলে-তা গভীর, দীর্ঘদিন মনে থেকে যায়।
২১২৮০৬(টিনা) সারাক্ষণ হাসিমাখা এক মুখ। কেউ কটু কথা বললেও সে হাসিতেই সব ঢেকে দেয়,মনে হয়-হাসিটাই যেন তার সবচেয়ে বড় শক্তি, তার ঢাল।
২১২৮০৭(মেহেরাফ) কথা একটু বেশি, কিন্তু মনটা একেবারে শিশুর মতো নরম। সবার বিপদে নিঃশব্দে পাশে দাঁড়ায়, আর মঞ্চে উঠলে-তার প্রেজেন্টেশনেই ফুটে ওঠে আত্মবিশ্বাসের দীপ্তি।
২১২৮০৮(আলমগীর) এক সুপ্ত প্রতিভা। অনেকের কাছে সে শুধু বন্ধু নয়, এক নির্ভরতার নাম। তার হাত ধরেই অনেকেই টার্ম পার করেছে- শব্দ না করেই সে পথ দেখিয়েছে।
২১২৮০৯(রনি) তার কথাগুলো যুক্তিতে মোড়া, একজন রাজনীতিবিদের মতো পরিপক্ব। সবার সঙ্গে মিশে যেতে জানে, এই কারণেই সে সবার কাছে আপন।
২১২৮১০(শুভ্র) আমাদের টপার। মেধা, পরিশ্রম আর নাচ-সবকিছুতেই আলাদা। তার মতো ডান্সার বিরল, আর তার মতো পরিশ্রমী-আরও দুর্লভ।
২১২৮১১(ইশতিয়াক) পড়াশোনায় যেমন উজ্জ্বল, প্রেমিক হিসেবেও তেমনই নিবেদিত- দুই জায়গাতেই সমান দায়িত্বশীল।
২১২৮১২(আজমিরা) সাতক্ষীরার মাটি ছুঁয়ে আসা এক মেধাবী বান্ধবী। তার কথার মিষ্টতা ঠিক তার এলাকার মতোই। সবার সঙ্গে মিলেমিশে চলার যে সৌন্দর্য- তা তার ভেতরেই সবচেয়ে বেশি ফুটে ওঠে।
২১২৮১৩(সাদী) কম পড়ে বেশি পাওয়ার এক জাদুকর। দেখতে ছোট হলেও, তার হাত ছড়িয়ে আছে উত্তরবঙ্গ পর্যন্ত- চেনাজানা আর দক্ষতায় ভরপুর।
২১২৮১৪(হাফসা) শান্ত, শিষ্ট আর সদা হাস্যোজ্জ্বল। কথা কম বলে, কিন্তু কাজে তার উপস্থিতি-চোখ এড়ায় না কখনোই।
২১২৮১৫(রাহুল) রাহুলদার গান ছাড়া আমাদের কোনো আসরই সম্পূর্ণ নয়। ছেলেদের মধ্যে সবচেয়ে শান্ত মানুষটি সে। কোনো প্যাঁচ নেই, কোনো কৃত্রিমতা নেই-একেবারে সহজ, সরল, খাঁটি মানুষ,খেলার মাঠে ও তেমন।
২১২৮১৬(জেসিয়া) এমন মানুষ, যাকে দেখলে মনে হয়- যে কোনো কাজেই সে নিখুঁত। আঁকা হোক বা ডিজাইন,তার হাতের ছোঁয়ায় সবকিছুই হয়ে ওঠে সুন্দর।
২১২৮১৭(সৌমি) ব্যাচের সেই মানুষটি- যে যেকোনো প্রোগ্রামেই থাকবেই। ডিসিপ্লিন হোক বা সাংস্কৃতিক মঞ্চ, তার উপস্থিতি মানেই এক ধরনের ভরসা।
২১২৮১৮(সৃষ্টি) ব্যাচের সবচেয়ে সাদাসিধে মানুষটি। ঝামেলাহীন, ভদ্র আর শান্ত- যাকে এক কথায় বললেই মানায়, “ডিসেন্ট।”
২১১৮১৯(সামিয়া) চুপচাপ থাকা মানুষগুলোর মাঝেই লুকিয়ে থাকে বিস্ময়। পড়াশোনায় সে ঠিক তেমনই- একজন নীরব “সাইলেন্ট কিলার”।
২১২৮২০(সংগ্রাম) আমাদের এস. ডি. বর্মন। পড়াশোনা আর খেলাধুলায় সমান দক্ষ। তবু বুকের ভেতর একটাই দীর্ঘশ্বাস- ক্যাম্পাস জীবনে ব্রাজিল আর বিশ্বকাপ জিততে পারল না।
২১২৮২১(আলমগীর) তার মতো ঘরকাতুরে মানুষ এই ক্যাম্পাসে আর নেই। বৃহস্পতিবার এলেই সে হারিয়ে যায়- খুঁজেও মেলে না। তার হাতের লেখার মতোই সুন্দর তার বুদ্ধি।
২১২৮২২(মুক্তি) অদম্য পরিশ্রমী এক মেয়ে। পড়াশোনায় ভালো, তবু পরীক্ষা মানেই দুশ্চিন্তা। আর খাওয়ানোর প্রশ্ন এলেই- হঠাৎ করেই সে হয়ে যায় নিখাদ গরীব 🥴।
২১২৮২৩(মৌমিতা) মুখস্ত বিদ্যায় পারদর্শী, সময়ের মধ্যেই সব সে মনে গেঁথে ফেলে। রাগ তার স্বভাবের বাইরে, সমাধানের উপদেশে ব্যাচমেটদের ভরসা সে-ই।
২১২৮২৪(সাদিয়া) ক্লাসের একমাত্র ছাত্রী- যে সবখানেই দেরি করে, শুধু প্রোগ্রাম বাদে। মনটা খুবই ভালো, হাসিমাখা মুখে তবু কিছু ভাবনা যেন সারাক্ষণ তার সঙ্গী।
২১২৮২৭(রাজু) অনুপমের মতো ভদ্র এক ছেলে। উচ্চস্বরে কথা বলার কোনো রেকর্ড নেই তার।বৃহস্পতিবার এলেই সে কোথায় হারিয়ে যায়- এই রহস্য আজও অমীমাংসিত।
২১২৮২৮( অমৃত) প্রেমিক পুরুষ সে। সুন্দর চেহারা নিয়েও মেয়েদের ফাঁদ এড়িয়ে চলার এক জীবন্ত উদাহরণ। সব কথা না শুনলেও- একজনের কথায় সে ঠিকই উঠে বসে।
২১২৮২৯(পারভীন) চুপচাপ, নম্র, ভদ্র এক মেয়ে। সবার মতোই নিজের পায়ে দাঁড়াতে চায়, তবু স্বপ্নের এক কোণে লুকিয়ে-জজ সাহেবের বউ হওয়ার আশা।
২১২৮৩০(অপু)আমাদের একমাত্র প্লেয়ার-যে সকল খেলায় ডিসিপ্লিনের প্রতিনিধিত্ব করে। মাঠে নামলেই ডিসিপ্লিনের জীবন্ত প্রতীক। তার প্রতিটি পারফরম্যান্স সোনালি মুহূর্ত, আর যেকোনো প্রোগ্রামে সে নির্ভরতার নাম।
২১২৮৩২(তামিম) ধর্মভীরু, পরিশ্রমী আর হিসাবি এক মানুষ। নিজের জিনিসে অপচয় তার অভিধানে নেই। এমন মানুষ ক্যাম্পাসে- সত্যিই বিরল।
২১২৮৩৩(জিহান) নাচ যার প্রাণ, তার উপস্থিতি ছাড়া কোনো প্রোগ্রাম জমে না।মনটা সহজ-সরল, কিন্তু ছুটি পড়লেই সে বাড়ির পথে- সবার বন্ধু হলেও, তার বান্ধবী থাকে শুধু জুনিয়র।
২১২৮৩৪(তাবিতা) তুখোড় মুখস্তবিদ্যার এক উজ্জ্বল নাম। পরিশ্রম আর প্রেজেন্টেশনে তার মতো দ্বিতীয় আর নেই।
২১২৮৩৫(ইব্রাহিম) আমাদের বিবাহিত পুরুষ। এখনো পর্যন্ত কোনো প্রোগ্রামে যার দেখা মেলেনি। হয়তো এর পেছনে কোনো অদৃশ্য শক্তির রহস্য লুকিয়ে আছে।
২১২৮৩৬(লিখন) আরেকজন বিবাহিত পুরুষ, ইনি খুবই ছোট ছোট কথা বলে, যেকোনো বিষয়ে সে অকিবহাল।হোক সে জুনিয়র বা জিন চালান করে। কাকা এমন একজন লোক সে যেকোনো পরিস্থিতে নিজেকে মানায় নিতে পারে।
২১২৮৩৭(সায়েম) শূন্য থেকে শিখরে ওঠার এক জীবন্ত উদাহরণ-সায়েম। পরিশ্রমই তার পরিচয়। সফল উদ্যোক্তা, আর মাঠে নামলে দুর্দান্ত ফার্স্ট বোলার।
২১২৮৩৮(তন্ময়) একজন গভীর গবেষক। লেখাকে আরও সুন্দর করার কৌশল তার মতো সবাই বোঝে না। বিদেশ যাওয়ার ডাক পেয়েও ভাগ্যের খেলায় আজও সে এখানেই।
২১২৮৩৯(রিয়াজ) স্লোগানের জাদুকর। আদর্শ শিক্ষক কাকে বলে- তা তার কাছেই শেখা যায়। ক্যাম্পাসজুড়ে তার দক্ষতার ছাপ, আর মাঠে সে দুর্দান্ত ফুটবলার।
২১২৮৪০(কাজল) মুখের ওপর সত্য বলে ফেলাই তার বদভ্যাস। কম মিশুক হলেও মনটা খুবই ভালো।ইসলামিক জ্ঞানে সমৃদ্ধ, তার কথায় থাকে খাঁটি সত্যের সাহস।
নবপ্রয়াণ’-এই একটি নামের মধ্যেই লুকিয়ে আছে আমাদের অগণিত স্মৃতি, হাসি-কান্না, সংগ্রাম আর স্বপ্নের গল্প। এটি কেবল একটি ব্যাচের নাম নয়; এটি আমাদের একসাথে বেড়ে ওঠার, একে অপরের হাত ধরে এগিয়ে চলার এক জীবন্ত ইতিহাস। এই ব্যাচ শুরু থেকেই প্রমাণ করেছে আমরা আলাদা আলাদা মানুষ হলেও আমাদের পথ, আমাদের লক্ষ্য এক।
যখনই কোনো প্রোগ্রাম, অনুষ্ঠান কিংবা ব্যাচের দায়িত্ব এসেছে, তখনই কয়েকজন নয় পুরো ব্যাচ এক হয়ে দাঁড়িয়েছে। কারও ঘাম ঝরেছে মঞ্চের পেছনে, কারও কণ্ঠ উঠেছে মাইকে, কেউ নীরবে দায়িত্ব পালন করেছে আড়ালে। কিন্তু সবার হৃদয়ে ছিল একটাই চিন্তা ব্যাচের সম্মান, ব্যাচের সাফল্য। সেই ঐক্যই ‘নবপ্রয়াণ’-কে করেছে আলাদা, করেছে শক্তিশালী।
পড়াশোনায় আমরা শিখেছি ধৈর্য, সহশিক্ষা কার্যক্রমে শিখেছি সাহস ও সৃজনশীলতা। কেউ রঙে রঙে নিজের স্বপ্ন এঁকেছে, কেউ মাঠে ঘাম ঝরিয়ে লড়েছে সম্মানের জন্য, আবার কেউ জাতীয় কিংবা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে গিয়ে আমাদের ডিসিপ্লিনকে পৌঁছে দিয়েছে গর্বের উচ্চতায়। প্রতিটি অর্জন যেন আমাদের সবার হৃদয়ে এক নতুন আলো জ্বালিয়ে দিয়েছে।
শৃঙ্খলা ও মূল্যবোধ ছিল আমাদের পথচলার মূল ভিত্তি। আচরণে, কাজে, কথায় আমরা চেষ্টা করেছি আমাদের ডিসিপ্লিনকে সম্মানের সঙ্গে তুলে ধরতে। কখনো ভুল হয়েছে, কখনো হোঁচট খেয়েছি, কিন্তু একে অপরের হাত ধরে আবার উঠে দাঁড়িয়েছি এটাই ছিল ‘নবপ্রয়াণ’-এর সৌন্দর্য।
আজ পিছনে তাকালে দেখা যায়, কত না স্মৃতি জমে আছে এই নামটার সঙ্গে। ক্লাসরুম, মাঠ, করিডর সবখানেই ছড়িয়ে আছে আমাদের গল্প। ‘নবপ্রয়াণ’ তাই শেষ নয়, এটি এক নতুন শুরুর নাম। সামনে পথ অজানা হলেও, এই ব্যাচের বন্ধন, এই স্মৃতি আর এই মূল্যবোধ আমাদের সারাজীবন শক্তি হয়ে থাকবে।
‘নবপ্রয়াণ’ মানে একসাথে শুরু, একসাথে লড়াই, একসাথে এগিয়ে যাওয়া আর হৃদয়ের গভীরে আজীবন থেকে যাওয়া এক গর্বের পরিচয়।
তবুও মনে হয়, এটাই শেষ নয়। এটা হয়তো জীবনের নতুন অধ্যায়ে পা রাখার আগমনী সুর। আইনের পাঠ শেষ হয়েছে, কিন্তু যে বন্ধন তৈরি হয়েছে তা কোনো সিলেবাসে বাঁধা নয়। এই চারটি বছর স্মৃতি হয়ে, ভালোবাসা হয়ে, অহংকার হয়ে আমাদের সাথে থাকবে আজীবন।
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের সেই শীতের সকালে যে যাত্রা শুরু হয়েছিল, তা আজও হৃদয়ের ভেতর চলমান নীরবে, গভীরভাবে, অমলিন হয়ে।