সাদ্বিক'২১ - সময়ের সায়াহ্নে, স্নিগ্ধচিত্তের সন্ধানে

  • Home
  • Bangladesh
  • Khulna
  • সাদ্বিক'২১ - সময়ের সায়াহ্নে, স্নিগ্ধচিত্তের সন্ধানে

সাদ্বিক'২১ - সময়ের সায়াহ্নে, স্নিগ্ধচিত্তের সন্ধানে সময়ের সায়াহ্নে, স্নিগ্ধচিত্তের সন্ধানে।

Color fest Snaps.Photography & Cinematography Partner : Canvas - ক্যানভাস  #সাদ্বিক২১ #সময়ের_সায়াহ্নে_স্নিগ্ধচিত্তের_সন্...
09/02/2026

Color fest Snaps.
Photography & Cinematography Partner : Canvas - ক্যানভাস
#সাদ্বিক২১
#সময়ের_সায়াহ্নে_স্নিগ্ধচিত্তের_সন্ধানে
#ভরপুর_হট্টগোল

Education 21 || Metacognates 21 2129..কিছু গল্প শুরু হয় তারিখ দিয়ে, আর কিছু গল্প শুরু হয় অনুভূতি দিয়ে।এই গল্পের শুরু ২২শ...
02/02/2026

Education 21 || Metacognates 21
2129..

কিছু গল্প শুরু হয় তারিখ দিয়ে, আর কিছু গল্প শুরু হয় অনুভূতি দিয়ে।

এই গল্পের শুরু ২২শে ফেব্রুয়ারি, ২০২২।

সেদিন ২৫ জন অচেনা মানুষ একসাথে একটি ক্লাসরুমে ঢুকেছিল। তখন কেউ জানত না এই অপরিচিত মুখগুলো খুব অল্প সময়ের মধ্যেই হয়ে উঠবে সবচেয়ে পরিচিত, সবচেয়ে আপন। কেউ ভাবেনি, জীবনের এত মূল্যবান সময় চোখের পলকে ফুরিয়ে যাবে, আর পরে ফিরে তাকালে বুকের ভেতর এক ধরনের মিষ্টি হাহাকার জন্ম নেবে।

আমরা ছিলাম ২৯টি ডিসিপ্লিনের মধ্যে ২৯তম সবচেয়ে নতুন নাম। শিক্ষা ডিসিপ্লিনের তৃতীয় ব্যাচ হিসেবে আমাদের যাত্রা শুরু হয়েছিল অনিশ্চয়তা, সীমাবদ্ধতা আর নীরব প্রত্যাশা নিয়ে। শুরু থেকেই ছিল ক্লাসরুম সংকট, শিক্ষক সংকট। পুরো ডিসিপ্লিনের দায়িত্ব তখন ছিল মাত্র ছয়জন শিক্ষকের কাঁধে। আমাদের ব্যাচে শিক্ষার্থী ছিল মাত্র ২৫ জন, আর সিনিয়র দুই ব্যাচ মিলিয়ে একশ জনেরও কম মানুষ নিয়ে গড়ে উঠেছিল আমাদের ছোট্ট জগৎ যেটা ধীরে ধীরে একটি পরিবারের রূপ নিয়েছিল।

বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল একাডেমিক ভবনের বাইরে, পুরনো একটি বিল্ডিংয়ে আমাদের ক্লাস চলত। আমরা ছিলাম একমাত্র ডিসিপ্লিন, যারা মূল একাডেমিক পরিসরের বাইরে সবকিছু থেকে খানিকটা বিচ্ছিন্ন। অনেকের চোখে সেটা ছিল প্রান্তিকতা, কিন্তু আমাদের কাছে সেটাই হয়ে উঠেছিল আশ্রয়। সেই পুরনো দেয়ালগুলো আমাদের হাসি দেখেছে, ক্লান্ত দুপুর দেখেছে, পরীক্ষার আগের চাপা নীরবতা আর ভেঙে পড়া আত্মবিশ্বাসের ভার বইতে শিখেছে।

এই সীমাবদ্ধতার মাঝেই আমরা একে অপরের দিকে আরও বেশি ঝুঁকে পড়েছিলাম। সংখ্যায় কম ছিলাম বলে সম্পর্কগুলো হয়েছিল গভীর। পাশাপাশি বসে কাজ করেছি, একে অপরের খাতায় চোখ রেখেছি, ভয় আর স্বপ্ন ভাগ করে নিয়েছি। শিক্ষা ও গবেষণা ইন্সটিটিউট থেকে আলাদা হয়ে শিক্ষা ডিসিপ্লিন হিসেবে নিজেদের জায়গা তৈরি করা সহজ ছিল না। কষ্ট হয়েছে, দ্বিধা এসেছে তবুও বাস্তবতাকে মেনে নিয়েই আমরা সামনে এগিয়েছি।

সবচেয়ে বেশি মনে পড়ে সেই বিকেলগুলো ভিসি বাংলোর পাশে রাখা দুইটা জীর্ণ, শীর্ণ বেঞ্চ। বেঞ্চ দুটোতে জায়গা হতো বড়জোর পাঁচ-ছয় জনের; বাকিরা দাঁড়িয়ে থাকত। তবুও কেউ বসা-দাঁড়ানোর হিসাব করত না। আমরা ছিলাম ভয়ংকর রকমের ছেলেমানুষ। অকারণ গল্প, অযথা হাসি, দুষ্টুমি, একে অপরকে খোঁচানো সব মিলিয়ে এক ধরনের নির্ভার আড্ডা। পরীক্ষার চাপ, ভবিষ্যতের দুশ্চিন্তা, বাস্তবতার কঠিন হিসাব সবকিছু তখন কিছুক্ষণের জন্য থেমে যেত। আজ বুঝি, ওই দুইটা পুরনো বেঞ্চই ছিল আমাদের সবচেয়ে দামি ক্লাসরুম।

পড়াশোনার বাইরেও আমাদের ব্যাচ ছিল সমানভাবে প্রাণবন্ত। মাঠে নামলেই আমিনুর, রাজ, আমান যেন অন্য রূপে ধরা দিত। ফুটবলে তাদের পায়ের ছন্দে ছন্দ মিলত পুরো ব্যাচের উল্লাস। আর এসব আয়োজনের নেপথ্যে, আলোচনার বাইরে থেকে, সবকিছু ঠিকঠাক চলার নিশ্চয়তা দিত রাহুল, ম্যানেজমেন্ট যার দ্বিতীয় নাম। ভলিবল কোর্টে সেতু, সামিয়া আর হুরায়রার উপস্থিতি ছিল নিঃশব্দ ঘোষণা এই ব্যাচে মেয়েরা শুধু দর্শক নয়, খেলোয়াড়ও।

মঞ্চে উঠলেই বদলে যেত পরিবেশ। সুজনের গানে আবেশ, অর্পিতার আবৃত্তিতে গভীরতা, রজনীর নাচে প্রাণ সব মিলিয়ে সাংস্কৃতিক আয়োজন মানেই উৎসব। আর এই উৎসবকে সম্ভব করে তুলত সেই চিরচেনা কয়েকজন। কেউ খাবারের দায়িত্বে, কেউ অনুষ্ঠান সাজাতে ব্যস্ত, কেউ ইনভিটেশন হাতে ছুটে বেড়াচ্ছে। গ্রুপ ওয়ার্কে আমরা যে সত্যিই শক্তিশালী, সেটা এসব দিনেই প্রমাণ হতো।

ব্যাচের হয়ে বক্তৃতা, অনুষ্ঠান সঞ্চালনা কিংবা বিতর্ক প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ এসব জায়গায় হুরায়রা ও নাবিলের উপস্থিতিও ছিল চোখে পড়ার মতো। ছোটখাটো ঘুরতে যাওয়ার পরিকল্পনাগুলো নাবিল আর রাহুলের মাথায় জন্ম নিয়ে বাস্তবে রূপ পেত। সব মিলিয়ে রাহুল ছিল ব্যাচের এক ধরনের মেরুদণ্ড যাকে ছাড়া অনেক কিছুই অসম্পূর্ণ থেকে যেত।

এই ব্যাচে কিছু বন্ধুত্ব ছিল, যেগুলো আলাদা করে চোখে পড়ত হিতেশ-সুজন, আমিনুর-ফয়সাল, নাবিল-আমান। ফাইজুল ছিল সবচেয়ে নির্ভেজাল মানুষটা, বিয়ের পর সংসারের দায়িত্ব বেড়েছে ঠিকই, তবু মুখের সেই সহজ হাসিটা রয়ে গেছে। অন্যদিকে আমাদের অরিত্র, একাই একশ, আমাদের ব্যাচের সাইলেন্ট কিলার।

হুরায়রা-রাহুলের খুনসুটি ছিল ব্যাচের নিত্যদিনের বিনোদন-খোঁচা, পাল্টা-খোঁচা, আর হালকা ঝগড়ার আড়ালে জমে থাকা বন্ধুত্ব। রাজ আবার অন্য রকম কথার জাদুতে স্যার-ম্যাম, সিনিয়র-জুনিয়র সবার সঙ্গে সহজেই আপন হয়ে ওঠার ক্ষমতা তার ছিল। ক্লাসের ফাঁকে ফাঁকে লেসমিন-মামুন-তানজিলার গল্প, কিংবা সাইফুল-ইব্রাহিম-রাজুর দল বেঁধে একসাথে ক্লাসে ঢোকা এসবই ছিল আমাদের প্রতিদিনের দৃশ্যপট।

আর ছিল সেই ছোট ছোট মুহূর্তগুলো খুশবুর দেড় ঘণ্টার ক্লাসে প্রায়দিন গেলে দেরিতে হাজির হওয়া, তিথির ন্যাকামি করে হঠাৎ “ওওহহহ নো, এটা কি হলো” বলে ওঠা। সেতু সংসার আর বাচ্চা সামলেও পড়াশোনায় যে দৃঢ়তা দেখিয়েছে, তা ছিল নীরব অনুপ্রেরণা। অর্পিতা আর অরিন ঘড়িতে পাঁচটা বাজলেই “ম্যাম, বাস আছে” বলে দৌড়ে দৌড়ে বাস ধরার দৃশ্যটা যেন আমাদের ব্যাচের নিজস্ব শর্টফিল্ম।

পরিবার মানেই শুধু সুখ নয়। পরিবারের ভেতরেই থাকে মতের অমিল, অভিমান, ভুল বোঝাবুঝি। Metacognates 21 নামের এই পরিবারের মধ্যেও তার ব্যতিক্রম ছিল না। তবুও দিনশেষে সবাই ছিল এক ছাতার নিচে। কারণ কিছু মতের অমিল সম্পর্ক ভাঙে না; বরং সম্পর্ককে আরও গভীর করে।
সব মিলিয়ে আমরা ছিলাম সত্যিই অন্যরকম। খোঁচাখুঁচি ছিল, টানাপোড়েন ছিল; কিন্তু দিন শেষে সবাই ছিল সবার ঢাল। কেউ কারও সামনে নয় সবাই ছিল পাশাপাশি।

আজ আমরা বিদায়ী ব্যাচ। হয়তো ফরমালি এই অধ্যায় এখানেই শেষ। কিন্তু আত্মার যে বন্ধন, একাত্মতার যে নীরব সংযোগ তা কখনো শেষ হয় না। জীবনের ব্যস্ত কোনো এক সময়ে হঠাৎ করেই মনে হবে এই সময়টা যদি আরেকবার ফিরে পেতাম!!!

Metacognates 21 এই নামটা কেবল একটি ব্যাচের পরিচয় নয়, এটা আমাদের হয়ে ওঠার সারকথা।
কারণ আমরা শুধু পড়িনি–ভেবেছি।
শুধু শিখিনি–অনুভব করেছি।
শুধু পাশ করিনি—একসাথে বড় হয়েছি।
Metacognates 21 এটা কোনো সাধারণ ব্যাচ নয়।
এটা একটি সময়,
একটি অনুভূতি,
একটি পরিবার।

আইন ২১ ।। নবপ্রয়াণ ২১২১২৮..ভিন্ন পথে হাঁটা মন মিলল এক টানে,আইনের ভাষা লিখল সবুজ স্বপ্নের ধ্রুপদীতে।শীতের এক শান্ত সকালে...
02/02/2026

আইন ২১ ।। নবপ্রয়াণ ২১
২১২৮..
ভিন্ন পথে হাঁটা মন মিলল এক টানে,
আইনের ভাষা লিখল সবুজ স্বপ্নের ধ্রুপদীতে।

শীতের এক শান্ত সকালে, কুয়াশায় মোড়ানো পথ পেরিয়ে গুটি গুটি পায়ে যখন খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে পা রেখেছিলাম, তখন বুকের ভেতর ছিল একরাশ স্বপ্ন আর অজানা ভয়। চারপাশের বিশালতা, অচেনা মুখ, নতুন পরিবেশ সবকিছু মিলিয়ে তখন আমরা ছিলাম নিছকই কিছু কাঁচা স্বপ্নবাজ। চোখে ছিল একটাই আকাঙ্ক্ষা আইনের পাঠ নেওয়া, ন্যায়ের ভাষা বোঝা, নিজেকে তৈরি করা ভবিষ্যতের জন্য। কে জানত, এই ক্যাম্পাসই একদিন হয়ে উঠবে আমাদের দ্বিতীয় বাড়ি, আর এই চারটি বছর জীবনের সবচেয়ে গভীর অধ্যায়?

প্রথম বর্ষের প্রথম টার্মেই যেন জীবন আমাদের হাত ধরে টেনে নিল। সুন্দরবন ট্যুর ছিল সেই টানার প্রথম স্পর্শ। বিশাল বনের নীরবতার ভেতর, নদীর ঢেউয়ের ছলছল শব্দে, আমরা খুঁজে পেয়েছিলাম বন্ধুত্বের প্রথম মানে। সিনিয়র ভাইদের সান্নিধ্যে বসে গল্প শুনতাম কখনো খাবার টেবিলে, কখনো হাঁটতে হাঁটতে, আবার কখনো কটকা সি-বিচের বালুকাবেলায় দাঁড়িয়ে। সেই গল্পগুলো শুধু কথা ছিল না, ছিল ভবিষ্যতের ইঙ্গিত, ছিল সাহস, ছিল অনুপ্রেরণা। অচেনা মানুষগুলো ধীরে ধীরে হয়ে উঠেছিল আপন, আর ক্যাম্পাস তখন থেকেই আপন হয়ে যেতে শুরু করেছিল।

দ্বিতীয় বর্ষে এসে অভিজ্ঞতার পরিধি আরও বিস্তৃত হলো। হঠাৎ করেই আমরা বুঝতে শিখলাম বিশ্ববিদ্যালয় জীবন মানে শুধু ক্লাস আর পরীক্ষা নয়। মুট কোর্টের জন্য শুরু হলো কঠোর পরিশ্র দিনের পর দিন, রাতের পর রাত, কাগজের স্তূপ, যুক্তির যুদ্ধ, কণ্ঠে দৃঢ়তা আনার চেষ্টা সব মিলিয়ে আমরা নিজেদের নতুনভাবে চিনতে শুরু করলাম। সেই সময়টাতে শিখেছিলাম, চাপের মাঝেও কিভাবে একে অপরের পাশে দাঁড়াতে হয়।

আর ফুটসাল টুর্নামেন্ট ওটা ছিল আমাদের তারুণ্যের উচ্ছ্বাসের এক অনন্য অধ্যায়। সেমিফাইনাল আর ফাইনালের ম্যাচগুলো ছিল শুধু খেলা নয়, ছিল আবেগের বিস্ফোরণ। মাঠে দৌড়, গ্যালারিতে চিৎকার, জয়ের মুহূর্তে উল্লাস সবকিছু মিলে সেই দিনগুলো আজও স্মৃতির পাতায় ঝকঝক করে জ্বলজ্বল করে।

তৃতীয় বর্ষে এসে আমরা আর শুধু জুনিয়র রইলাম না। দায়িত্ব আমাদের কাঁধে এসে পড়ল নিঃশব্দে। সিনিয়রদের সব প্রোগ্রাম নিজেদের কাজ ভেবে তুলে নেওয়া তখন আর বোঝা মনে হয়নি, বরং ছিল গর্বের। ডিসিপ্লিনে BBQ প্রোগ্রাম শৃঙ্খলার মাঝেই আনন্দের সেই আয়োজন আমাদের হাত ধরেই শুরু হয়েছিল। সেই মুহূর্তগুলো বুঝিয়ে দিয়েছিল, নিয়মের মাঝেও বন্ধুত্ব বাঁচে, নেতৃত্বের মাঝেও ভালোবাসা থাকে।
তৃতীয় বর্ষের সমাপ্তি টেনেছিল সিলেট ট্যুর। পাহাড়, চা-বাগান, বৃষ্টি আর হাসিতে ভিজে যাওয়া দিনগুলোতে জুনিয়রদের সাথে আমাদের সম্পর্ক হয়ে উঠেছিল আরও গভীর। সেই সফর যেন প্রজন্মের ভেদরেখা মুছে দিয়ে সবাইকে এক সুতোয় বেঁধে ফেলেছিল। বিদায়ের মুহূর্তে তখনই বুঝেছিলাম এই সময়গুলো আর ফিরে আসবে না।

চতুর্থ বর্ষে এসে সময় হঠাৎ করেই দৌড়াতে শুরু করল। পহেলা বৈশাখের জন্য স্টল বানানো, রঙে রঙে সাজানো স্বপ্ন, সারারাত জেগে থাকা ক্লান্ত শরীর আর চোখে লুকিয়ে থাকা তৃপ্তি সব মিলিয়ে দিনগুলো কেমন যেন দ্রুত ফুরিয়ে যাচ্ছিল। এই সময়ের মাঝেই এসে পড়ে সাজেক ট্যুর যেন ব্যস্ততার ফাঁকে সময় নিজেই আমাদের একটু থামতে বলেছিল। পাহাড়ের গায়ে মেঘের ছায়া, আঁকাবাঁকা পথ, কুয়াশায় ঢাকা সকালের নীরবতা সবকিছু মিলিয়ে সাজেক হয়ে উঠেছিল আমাদের চার বছরের ক্লান্তির নীরব আশ্রয়। বন্ধুদের হাসি, গল্প, ছবি তোলার ব্যস্ততা আর কংলাক পাহাড়ে ওঠার সেই মুহূর্ত আজও বুকের ভেতর গভীর যত্নে লুকিয়ে আছে। মনে হয়েছিল, প্রকৃতির কোলে বসে আমরা আবার একবার নতুন করে “আমরা” হয়ে উঠেছি।
তখন বুঝিনি, এগুলোই ছিল শেষবারের মতো “একসাথে জেগে থাকা”, শেষবারের মতো “আমরা” হয়ে থাকা।
খাজার মাঠ ছিল আমাদের আবেগের কেন্দ্রবিন্দু। সেখানে সিনিয়র, জুনিয়র আর ব্যাচমেট মিলেমিশে আমরা প্রতিনিধিত্ব করেছি আমাদের ভালোবাসার আইন ডিসিপ্লিনকে। সেই মাঠে দাঁড়িয়ে আমরা শুধু খেলিনি, শুধু প্রতিযোগিতা করিনি আমরা নিজেদের পরিচয় তৈরি করেছি। জয়ের পর হাদি চত্বর, অদম্য বাংলা, আবার ডিসিপ্লিনের সামনে এসে এক সুরে স্লোগান কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে দাঁড়ানোর সেই দৃশ্যগুলো আজও চোখ ভিজিয়ে দেয়।

২১২৮০১(আমিনুল)আমাদের সিআর সাহেব-যার হাত ধরেই ব্যাচের সব ট্যুর, সব পরিকল্পনা স্বপ্ন ছেড়ে বাস্তবে নামে।নিঃশব্দে দায়িত্ব কাঁধে তুলে নিয়ে সে আমাদের সবাইকে এক সুতোয় বেঁধে রাখে,কথা কম, কাজেই তার নেতৃত্বের পরিচয়।

২১২৮০৩(মুন্না) মাঠ মানেই তার রাজত্ব। ফুটবল হোক বা ভলিবল-যেখানেই নামে, নিজেকে আলাদা করে চিনিয়ে দেয়। খেলার প্রতিটা মুহূর্তেই লেখা থাকে তার নাম, তার পরিচয়।

২১২৮০৪( রাকিব) ব্যাচের একমাত্র ব্যবসায়ী মন। ছেলেদের বেলায় হিসাবি হলেও,মেয়েদের খাওয়ানোর সময় তার উদারতার সীমা থাকে না- এই বৈপরীত্যই তাকে আলাদা করে চেনায়।

২১২৮০৫(বজলুর) ব্যাচের সবচেয়ে আবেগী প্রেমিক পুরুষ।অনুভূতিগুলো সে বুকের গভীরে লুকিয়ে রাখে, কথা কম বলে, কিন্তু যা বলে-তা গভীর, দীর্ঘদিন মনে থেকে যায়।

২১২৮০৬(টিনা) সারাক্ষণ হাসিমাখা এক মুখ। কেউ কটু কথা বললেও সে হাসিতেই সব ঢেকে দেয়,মনে হয়-হাসিটাই যেন তার সবচেয়ে বড় শক্তি, তার ঢাল।

২১২৮০৭(মেহেরাফ) কথা একটু বেশি, কিন্তু মনটা একেবারে শিশুর মতো নরম। সবার বিপদে নিঃশব্দে পাশে দাঁড়ায়, আর মঞ্চে উঠলে-তার প্রেজেন্টেশনেই ফুটে ওঠে আত্মবিশ্বাসের দীপ্তি।

২১২৮০৮(আলমগীর) এক সুপ্ত প্রতিভা। অনেকের কাছে সে শুধু বন্ধু নয়, এক নির্ভরতার নাম। তার হাত ধরেই অনেকেই টার্ম পার করেছে- শব্দ না করেই সে পথ দেখিয়েছে।

২১২৮০৯(রনি) তার কথাগুলো যুক্তিতে মোড়া, একজন রাজনীতিবিদের মতো পরিপক্ব। সবার সঙ্গে মিশে যেতে জানে, এই কারণেই সে সবার কাছে আপন।

২১২৮১০(শুভ্র) আমাদের টপার। মেধা, পরিশ্রম আর নাচ-সবকিছুতেই আলাদা। তার মতো ডান্সার বিরল, আর তার মতো পরিশ্রমী-আরও দুর্লভ।

২১২৮১১(ইশতিয়াক) পড়াশোনায় যেমন উজ্জ্বল, প্রেমিক হিসেবেও তেমনই নিবেদিত- দুই জায়গাতেই সমান দায়িত্বশীল।

২১২৮১২(আজমিরা) সাতক্ষীরার মাটি ছুঁয়ে আসা এক মেধাবী বান্ধবী। তার কথার মিষ্টতা ঠিক তার এলাকার মতোই। সবার সঙ্গে মিলেমিশে চলার যে সৌন্দর্য- তা তার ভেতরেই সবচেয়ে বেশি ফুটে ওঠে।

২১২৮১৩(সাদী) কম পড়ে বেশি পাওয়ার এক জাদুকর। দেখতে ছোট হলেও, তার হাত ছড়িয়ে আছে উত্তরবঙ্গ পর্যন্ত- চেনাজানা আর দক্ষতায় ভরপুর।

২১২৮১৪(হাফসা) শান্ত, শিষ্ট আর সদা হাস্যোজ্জ্বল। কথা কম বলে, কিন্তু কাজে তার উপস্থিতি-চোখ এড়ায় না কখনোই।

২১২৮১৫(রাহুল) রাহুলদার গান ছাড়া আমাদের কোনো আসরই সম্পূর্ণ নয়। ছেলেদের মধ্যে সবচেয়ে শান্ত মানুষটি সে। কোনো প্যাঁচ নেই, কোনো কৃত্রিমতা নেই-একেবারে সহজ, সরল, খাঁটি মানুষ,খেলার মাঠে ও তেমন।

২১২৮১৬(জেসিয়া) এমন মানুষ, যাকে দেখলে মনে হয়- যে কোনো কাজেই সে নিখুঁত। আঁকা হোক বা ডিজাইন,তার হাতের ছোঁয়ায় সবকিছুই হয়ে ওঠে সুন্দর।

২১২৮১৭(সৌমি) ব্যাচের সেই মানুষটি- যে যেকোনো প্রোগ্রামেই থাকবেই। ডিসিপ্লিন হোক বা সাংস্কৃতিক মঞ্চ, তার উপস্থিতি মানেই এক ধরনের ভরসা।

২১২৮১৮(সৃষ্টি) ব্যাচের সবচেয়ে সাদাসিধে মানুষটি। ঝামেলাহীন, ভদ্র আর শান্ত- যাকে এক কথায় বললেই মানায়, “ডিসেন্ট।”

২১১৮১৯(সামিয়া) চুপচাপ থাকা মানুষগুলোর মাঝেই লুকিয়ে থাকে বিস্ময়। পড়াশোনায় সে ঠিক তেমনই- একজন নীরব “সাইলেন্ট কিলার”।

২১২৮২০(সংগ্রাম) আমাদের এস. ডি. বর্মন। পড়াশোনা আর খেলাধুলায় সমান দক্ষ। তবু বুকের ভেতর একটাই দীর্ঘশ্বাস- ক্যাম্পাস জীবনে ব্রাজিল আর বিশ্বকাপ জিততে পারল না।

২১২৮২১(আলমগীর) তার মতো ঘরকাতুরে মানুষ এই ক্যাম্পাসে আর নেই। বৃহস্পতিবার এলেই সে হারিয়ে যায়- খুঁজেও মেলে না। তার হাতের লেখার মতোই সুন্দর তার বুদ্ধি।

২১২৮২২(মুক্তি) অদম্য পরিশ্রমী এক মেয়ে। পড়াশোনায় ভালো, তবু পরীক্ষা মানেই দুশ্চিন্তা। আর খাওয়ানোর প্রশ্ন এলেই- হঠাৎ করেই সে হয়ে যায় নিখাদ গরীব 🥴।

২১২৮২৩(মৌমিতা) মুখস্ত বিদ্যায় পারদর্শী, সময়ের মধ্যেই সব সে মনে গেঁথে ফেলে। রাগ তার স্বভাবের বাইরে, সমাধানের উপদেশে ব্যাচমেটদের ভরসা সে-ই।

২১২৮২৪(সাদিয়া) ক্লাসের একমাত্র ছাত্রী- যে সবখানেই দেরি করে, শুধু প্রোগ্রাম বাদে। মনটা খুবই ভালো, হাসিমাখা মুখে তবু কিছু ভাবনা যেন সারাক্ষণ তার সঙ্গী।

২১২৮২৭(রাজু) অনুপমের মতো ভদ্র এক ছেলে। উচ্চস্বরে কথা বলার কোনো রেকর্ড নেই তার।বৃহস্পতিবার এলেই সে কোথায় হারিয়ে যায়- এই রহস্য আজও অমীমাংসিত।

২১২৮২৮( অমৃত) প্রেমিক পুরুষ সে। সুন্দর চেহারা নিয়েও মেয়েদের ফাঁদ এড়িয়ে চলার এক জীবন্ত উদাহরণ। সব কথা না শুনলেও- একজনের কথায় সে ঠিকই উঠে বসে।

২১২৮২৯(পারভীন) চুপচাপ, নম্র, ভদ্র এক মেয়ে। সবার মতোই নিজের পায়ে দাঁড়াতে চায়, তবু স্বপ্নের এক কোণে লুকিয়ে-জজ সাহেবের বউ হওয়ার আশা।

২১২৮৩০(অপু)আমাদের একমাত্র প্লেয়ার-যে সকল খেলায় ডিসিপ্লিনের প্রতিনিধিত্ব করে। মাঠে নামলেই ডিসিপ্লিনের জীবন্ত প্রতীক। তার প্রতিটি পারফরম্যান্স সোনালি মুহূর্ত, আর যেকোনো প্রোগ্রামে সে নির্ভরতার নাম।

২১২৮৩২(তামিম) ধর্মভীরু, পরিশ্রমী আর হিসাবি এক মানুষ। নিজের জিনিসে অপচয় তার অভিধানে নেই। এমন মানুষ ক্যাম্পাসে- সত্যিই বিরল।

২১২৮৩৩(জিহান) নাচ যার প্রাণ, তার উপস্থিতি ছাড়া কোনো প্রোগ্রাম জমে না।মনটা সহজ-সরল, কিন্তু ছুটি পড়লেই সে বাড়ির পথে- সবার বন্ধু হলেও, তার বান্ধবী থাকে শুধু জুনিয়র।

২১২৮৩৪(তাবিতা) তুখোড় মুখস্তবিদ্যার এক উজ্জ্বল নাম। পরিশ্রম আর প্রেজেন্টেশনে তার মতো দ্বিতীয় আর নেই।

২১২৮৩৫(ইব্রাহিম) আমাদের বিবাহিত পুরুষ। এখনো পর্যন্ত কোনো প্রোগ্রামে যার দেখা মেলেনি। হয়তো এর পেছনে কোনো অদৃশ্য শক্তির রহস্য লুকিয়ে আছে।

২১২৮৩৬(লিখন) আরেকজন বিবাহিত পুরুষ, ইনি খুবই ছোট ছোট কথা বলে, যেকোনো বিষয়ে সে অকিবহাল।হোক সে জুনিয়র বা জিন চালান করে। কাকা এমন একজন লোক সে যেকোনো পরিস্থিতে নিজেকে মানায় নিতে পারে।

২১২৮৩৭(সায়েম) শূন্য থেকে শিখরে ওঠার এক জীবন্ত উদাহরণ-সায়েম। পরিশ্রমই তার পরিচয়। সফল উদ্যোক্তা, আর মাঠে নামলে দুর্দান্ত ফার্স্ট বোলার।

২১২৮৩৮(তন্ময়) একজন গভীর গবেষক। লেখাকে আরও সুন্দর করার কৌশল তার মতো সবাই বোঝে না। বিদেশ যাওয়ার ডাক পেয়েও ভাগ্যের খেলায় আজও সে এখানেই।

২১২৮৩৯(রিয়াজ) স্লোগানের জাদুকর। আদর্শ শিক্ষক কাকে বলে- তা তার কাছেই শেখা যায়। ক্যাম্পাসজুড়ে তার দক্ষতার ছাপ, আর মাঠে সে দুর্দান্ত ফুটবলার।

২১২৮৪০(কাজল) মুখের ওপর সত্য বলে ফেলাই তার বদভ্যাস। কম মিশুক হলেও মনটা খুবই ভালো।ইসলামিক জ্ঞানে সমৃদ্ধ, তার কথায় থাকে খাঁটি সত্যের সাহস।

নবপ্রয়াণ’-এই একটি নামের মধ্যেই লুকিয়ে আছে আমাদের অগণিত স্মৃতি, হাসি-কান্না, সংগ্রাম আর স্বপ্নের গল্প। এটি কেবল একটি ব্যাচের নাম নয়; এটি আমাদের একসাথে বেড়ে ওঠার, একে অপরের হাত ধরে এগিয়ে চলার এক জীবন্ত ইতিহাস। এই ব্যাচ শুরু থেকেই প্রমাণ করেছে আমরা আলাদা আলাদা মানুষ হলেও আমাদের পথ, আমাদের লক্ষ্য এক।
যখনই কোনো প্রোগ্রাম, অনুষ্ঠান কিংবা ব্যাচের দায়িত্ব এসেছে, তখনই কয়েকজন নয় পুরো ব্যাচ এক হয়ে দাঁড়িয়েছে। কারও ঘাম ঝরেছে মঞ্চের পেছনে, কারও কণ্ঠ উঠেছে মাইকে, কেউ নীরবে দায়িত্ব পালন করেছে আড়ালে। কিন্তু সবার হৃদয়ে ছিল একটাই চিন্তা ব্যাচের সম্মান, ব্যাচের সাফল্য। সেই ঐক্যই ‘নবপ্রয়াণ’-কে করেছে আলাদা, করেছে শক্তিশালী।
পড়াশোনায় আমরা শিখেছি ধৈর্য, সহশিক্ষা কার্যক্রমে শিখেছি সাহস ও সৃজনশীলতা। কেউ রঙে রঙে নিজের স্বপ্ন এঁকেছে, কেউ মাঠে ঘাম ঝরিয়ে লড়েছে সম্মানের জন্য, আবার কেউ জাতীয় কিংবা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে গিয়ে আমাদের ডিসিপ্লিনকে পৌঁছে দিয়েছে গর্বের উচ্চতায়। প্রতিটি অর্জন যেন আমাদের সবার হৃদয়ে এক নতুন আলো জ্বালিয়ে দিয়েছে।
শৃঙ্খলা ও মূল্যবোধ ছিল আমাদের পথচলার মূল ভিত্তি। আচরণে, কাজে, কথায় আমরা চেষ্টা করেছি আমাদের ডিসিপ্লিনকে সম্মানের সঙ্গে তুলে ধরতে। কখনো ভুল হয়েছে, কখনো হোঁচট খেয়েছি, কিন্তু একে অপরের হাত ধরে আবার উঠে দাঁড়িয়েছি এটাই ছিল ‘নবপ্রয়াণ’-এর সৌন্দর্য।
আজ পিছনে তাকালে দেখা যায়, কত না স্মৃতি জমে আছে এই নামটার সঙ্গে। ক্লাসরুম, মাঠ, করিডর সবখানেই ছড়িয়ে আছে আমাদের গল্প। ‘নবপ্রয়াণ’ তাই শেষ নয়, এটি এক নতুন শুরুর নাম। সামনে পথ অজানা হলেও, এই ব্যাচের বন্ধন, এই স্মৃতি আর এই মূল্যবোধ আমাদের সারাজীবন শক্তি হয়ে থাকবে।
‘নবপ্রয়াণ’ মানে একসাথে শুরু, একসাথে লড়াই, একসাথে এগিয়ে যাওয়া আর হৃদয়ের গভীরে আজীবন থেকে যাওয়া এক গর্বের পরিচয়।

তবুও মনে হয়, এটাই শেষ নয়। এটা হয়তো জীবনের নতুন অধ্যায়ে পা রাখার আগমনী সুর। আইনের পাঠ শেষ হয়েছে, কিন্তু যে বন্ধন তৈরি হয়েছে তা কোনো সিলেবাসে বাঁধা নয়। এই চারটি বছর স্মৃতি হয়ে, ভালোবাসা হয়ে, অহংকার হয়ে আমাদের সাথে থাকবে আজীবন।
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের সেই শীতের সকালে যে যাত্রা শুরু হয়েছিল, তা আজও হৃদয়ের ভেতর চলমান নীরবে, গভীরভাবে, অমলিন হয়ে।

HC'21 ।। Tremendous' 212127.."আমাদের গল্প গুলোঅল্প সময় ঘর পাতালো"  আমাদের গল্পগুলো....!  গল্পের শুরুটা ছিলো ৩৮ টা চরিত্র...
01/02/2026

HC'21 ।। Tremendous' 21
2127..

"আমাদের গল্প গুলো
অল্প সময় ঘর পাতালো"

আমাদের গল্পগুলো....! গল্পের শুরুটা ছিলো ৩৮ টা চরিত্র নিয়ে কোনো এক রঙিন বসন্তে, ফেব্রুয়ারী ২২ (২০২২)। প্রতিটা চরিত্রই যেন এক একটা গল্প। তারপর শুরু হলো যাদুর কাঠি দিয়ে একটি চরিত্রের সাথে আরএকটি চরিত্রকে মিলিয়ে মালা গাঁথা। যাদুর কাঠির একটা নাম আছে, সেটা হলো = 'মায়া'..... আর মালাটির নাম= 'বন্ধুত্ব'।

হ্যা,, আমাদের HC- ২১ ব্যাচের পথচলার সেই গল্পের কথা বলছি,, যে গল্পের রচয়িতা আমরা ৩৮ জন। গল্পটি থেকে যাবে আমাদের স্মৃতির পাতায়। হয়তো সেখান থেকেই মনে পড়বে যখন মার্কসিট আর ডকুমেন্টস নিয়ে ভর্তির জন্য ছোটাছুটি দিয়ে শুরু করেছিলাম আমরা। কি মনে পড়ে Tremendous 21??? ক্লাসের প্রথম দিন এর কথা? সেই দিন এর কথা যখন সিআর হলো বায়েজিদ (১৯)... বেচারা ফার্স্ট ইয়ার এ কতোই না প্রেশার খেলো। অথবা ২০ যখন প্রথম কটকা আন্তরিক ভাবে তাদের প্রিয় জুনিয়রদের স্বাগত জানালো?? প্রথম দিনে ক্লাসে এসেই অপরিচিত এক ঝাক মুখগুলোর সামনে একটি মেয়ে নাচ করে দেখালো??

জমে উঠলো গল্প যখন প্রতিটা মুখ হয়ে উঠলো পরিচিত। খাজার মাঠে যখন শুরু হলো ক্রিকেট,, 'মোস্তাইন ৬ মার' বলে সবার চিৎকার, ফুটবলের মাঠে ইতিহাস মানেই আগুন,, মাসুদের গোল দেখার জন্যই যেন মেয়েরা মাঠে আসতো,,, সর্ব গুনে গুণান্বিত ছেলে, ক্লাস টপার আনিস ফুটবল ক্লাবের প্রেসিডেন্টও হয়ে গেলো,, শামীমের দুর্দান্ত হেড দেওয়া আর গোলকিপার আজিজের অসাধারণ ব্যালেন্স যেন ইতিহাস টিমে এক নতুন ইতিহাসের সূচনা করলো।
ইতিহাসের মেয়ে মানেই রূপবতী কন্যা, এটা ক্যাম্পাসের সবাই বলে মামা। রূপবতী আর গুনবতী মেয়ে, ঝুমকা পুরো ক্যাম্পাসকে মাতিয়ে রেখেছে ৪ বছর। সাংবাদিক বললেই কার নামটা মাথায় আগে ব্রো?? মিরাজুল ইসলাম তাই না??? ধার্মিক ও ভালো ছেলে। মুন্না, মাফিউল, শাকিল এই তিন বুদ্ধিজীবী ৪ বছর ধরে খাবা গেটের চায়ের দোকান দখল করে ছিলো। সাথে ছিলো দার্শনিক রাকিব। আর্মি ও নৌ শাখার ক্যাডেট, অপি, স্বর্ণ, সাওমী, মোস্তাইন, সাজ্জাদ, আজিজ, সুরাইয়া, শাহীন বিএনসিসি তে তারা ২য় সারির যোদ্ধা, সমাজসেবক। শাহীনের ক্লাসরুমে স্টেট ফরোয়ার্ড কথা গুলো আজও কানে বাজে। আসলো জুলাই, তারপর ৫ আগস্ট, নামলো সবাই রাস্তায়, আর একটি বিজয়ের সাক্ষী হলাম আমরা। পাহাড়ি মেয়ে পুষ্পলিকা ব্যাচের সবাইকে নিরবে শিখিয়েছে কিভাবে নিজেকে ভিন্ন পরিবেশে খাপ খাওয়াতে হয়। অনেক চরিত্রে লুকিয়ে আছে সুপ্ত প্রতিভা,, সীমার ছবি আঁকা,, প্রিয়ন্তির নাচ করা, মাফিউল, মুন্না, সাজ্জাদের গান গাওয়া, ইমার কেক বানানো,আরো কতো কি। কলামিস্ট লাবনির কথা তো না বললেই নয়,,যে তার স্বপ্নকে ছুয়ে দেখতে চায়,যার লেখা নিউজ পেপারে আমারা প্রায়ই দেখি।

বায়জিদ স্যারের বাংলা ব্যাচ, মু্ড সুইং গার্ল জেনিথ, প্রতিবাদী মেয়ে মালিহা, পড়ুয়া মেয়ে জেসমিন, শান্ত মেয়ে শান্তা, ভদ্র মেয়ে সানজিদা, মিষ্টি মেয়ে সাওমী, Punctual মেয়ে বন্যা, মিশুক মেয়ে সাদিয়া, লক্ষী মেয়ে মেহজাবিন, লোকাল বয় শাহরিয়ার, উত্তর বঙ্গের ২ বন্ধু সোহেল আর সাওন, ব্যক্তিত্ব সম্পন্ন ছেলে চয়ন দা, আর সর্বশেষ আমাদের চুপচাপ মেয়ে সাজিয়া,,, এরকম ছোট বিশেষন এ চিনে ফেলা যায় আমাদের চরিত্র গুলোকে।

অবশেষে নটে গাছটি মুড়োলো,,,৪ বছরের লেখা গল্পটার ইতিও ঘটে গেলো। কি বুকটা অল্প হলেও কেঁপে ওঠে না??? প্রতি টার্মে আর সিআর নির্বাচন হবে না ইতিহাস ডিসিপ্লিনে। তবে কি ট্যুরের প্লান করাও থেমে গেলো!!! সন্ধ্যায় হলরোডে আর প্রায়ই কারো দেখা মিলবে না,,,দেখা মিলবে বন্ধু যখন তুমি কোনো এক ক্লান্ত দুপুরে দীর্ঘ নিঃশ্বাস নিয়ে চোখটা বন্ধ করবে। চোখের সামনে ভেসে উঠবে সোনালি দিনের কোনো এক ফালি স্মৃতি।

উপসংহারে তবে এবার পৌঁছেই গেলো ৩৮ টা চরিত্র।

MCJ'21 ।। একাত্ম ২১2126...অপ্রকাশিত লিড নিউজ: আমাদের সোনালী চার বছর!সেই প্রথম দিনের কথা মনে পড়ে?! যখন আমরা জড়ো হয়েছিল...
01/02/2026

MCJ'21 ।। একাত্ম ২১
2126...

অপ্রকাশিত লিড নিউজ: আমাদের সোনালী চার বছর!

সেই প্রথম দিনের কথা মনে পড়ে?! যখন আমরা জড়ো হয়েছিলাম গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা ডিসিপ্লিন এর বারান্দায়। একেকজনের চোখে একেক রকম স্বপ্ন। প্রত্যেকের মনেই ছিল অদ্ভুত রকমের জড়তা। ক্যাম্পাসের গেট দিয়ে প্রথম যেদিন প্রবেশ করেছিলাম, সেদিন আমরা ছিলাম স্রেফ রোল নম্বর। আমরা তো কেবল সহপাঠী হতে এসেছিলাম, জানতাম না যে আমরা একে অপরের আস্ত একটা পরিবার হয়ে যাব।

এই চার বছরে কতইনা বিচিত্র ঘটনা ঘটেছে! কারো হয়তো প্রেমে পড়ার গল্প, কারো গভীর রাতে অ্যাসাইনমেন্ট কপি করার আবদার, আবার কারো চায়ের কাপে ঝড় তোলা আড্ডা। আমরা সাংবাদিকতা শিখতে এসেছিলাম। কিন্তু এই চার বছরে মানুষের মন পড়া শিখে গেছি। আমাদের লেন্সগুলো হয়তো অনেক সুন্দর দৃশ্য ফ্রেম বন্দি করেছে। কিন্তু আমাদের মনের অ্যালবামে জমা হওয়া এই চার বছরের স্মৃতিগুলো কোন মেমোরি কার্ডে ধারণ করা সম্ভব নয়।

অনার্সের প্রথম দিন আর শেষ দিনের মধ্যে পার্থক্যটা মাত্র চার বছরের নয়, বরং এক জীবনের। গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা ডিসিপ্লিনের সেই চেনা বারান্দা, যেখানে আমাদের পরিচয় হয়েছিল ‘সহপাঠী’ হিসেবে, আজ সেখানে দাঁড়িয়ে আমরা একে অপরকে অনুভব করছি এক অবিচ্ছেদ্য ‘পরিবার’ হিসেবে।

আমরা এখানে এসেছিলাম সংবাদ তৈরি করতে, শিখতে, তথ্য খুঁজতে। কিন্তু আমাদের নিজেদের জীবনের সবচেয়ে সুন্দর ‘ফিচার স্টোরি’টা যে এই ক্যাম্পাসের ধূলোবালি আর ক্লাসরুমের বেঞ্চে অলক্ষ্যে লেখা হয়ে গেছে, তা আজ বিদায়বেলায় এসে বুঝতে পারছি।

বিশ্ববিদ্যালয় হলো সেই জায়গা যেখানে আমরা কেবল জ্ঞান অর্জন করি না, বরং নিজেকে আবিষ্কার করতে শিখি। গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা ডিসিপ্লিনের সেই চেনা করিডোর, যেখানে প্রথম দিন পা রেখেছিলাম একরাশ জড়তা নিয়ে। আজ অনার্স শেষে যখন ডায়েরিটা খুললাম, দেখি একেকটা নাম কেবল সহপাঠী নয়, বরং একেকটা জীবন্ত ফিচার স্টোরি হয়ে ধরা দিচ্ছে। আমাদের এই ছোট্ট পরিবারটি ছিল যেন একটা পূর্ণাঙ্গ সংবাদপত্রের অফিস, যেখানে সিরিয়াস এডিটোরিয়াল থেকে শুরু করে বিনোদনের রঙ, সবই ছিল।

গল্পের শুরুতেই আমাদের প্রথম সিআর কাব্য। রোল এক হওয়ার অভিশাপে সব ভাইভা আর প্রেজেন্টেশনের প্রথম শিকার হতে হয়েছে তাকে। সিনিয়রদের চাপে এক সপ্তাহের মধ্যে সিআরশিপ ছাড়ার সেই স্মৃতি আজ আমাদের হাসায়। অথচ রক্তিম আমাদের মাঝে টিকে রইল দীর্ঘতম সময়, এক আদর্শ সিআর হয়ে। ব্যাচের একমাত্র মানুষ হিসেবে উমরাহ করে এসে সে যেন আমাদের সবার দোয়া কুড়িয়েছে। এর বাইরেও রক্তিমের আরেকটা পরিচয় আছে, সেটা হলো সে আমার কাকু। আর আমাদের মেয়ে সিআর ডোনা? ভলিবল কোর্ট থেকে সিআরশিপ, সবই সে সামলেছে তার পজিটিভ মাইন্ড আর কিউটনেস দিয়ে। সে একজন আদর্শ মা বটে (আমার মা)।

আমাদের ক্লাসে ফ্যাশন আইকন মুন সেলিব্রেটিদের খবরাখবর আর সুন্দর কথায় মাতিয়ে রাখত। কোন এনিমেশন মুভি কখন রিলিজ হলো, সব খবরই তার জানা। আর দীপা ছিল আমাদের ফ্রেমের শোভা; ছবি তোলার নেশায় বিভোর সে, ক্লাসে একটু দেরি করে আসলেও তার উপস্থিতি ছিল রঙিন। নুসরাত ছিল এক রহস্যময় চরিত্র, তার মুখ কেউ না দেখলেও সব শেষে তার সেই চিরচেনা সংলাপ, "দোস্ত, এটা কিভাবে, জানিনা তো, আমাকে একটু বুঝিয়ে দে!" আমাদের স্মৃতিতে থেকে যাবে।

নাচের ছন্দে ক্যাম্পাস মাতিয়ে রাখত প্রতিভা, সমাপ্তি আর প্রভাতী। প্রতিভা যেমন সব খবরাখবর সবার আগে দিত, তেমনি তার নাচও ছিল মুগ্ধকর, একইসাথে সে ভালো ফটোগ্রাফার। সমাপ্তি আর লক্ষ্মী যখন গান ধরত, তখন আমাদের আড্ডাগুলো পূর্ণতা পেত, যদিও লক্ষ্মী মাঝে মাঝে খুব নার্ভাস হয়ে যেত। প্রভাতীর ঘোরাঘুরি পছন্দ, তার শাড়ি পরার সেই স্টাইল আর বন্ধুদের নিয়ে হুল্লোড় করা দিনগুলো খুব মিস করব।

পড়াশোনায় পরিশ্রমের কথা যদি বলি, মাসুম আর সজীব আমাদের আইকন। মায়ের স্বপ্ন পূরণের লক্ষ্যে মাসুমের অটুট ফোকাস আমাদের শিখিয়েছে জীবন কতটা সিরিয়াস। আর টিউশন করেও কিভাবে সিজিপিএ হাই রাখা যায়, ওটা সজীবকে দেখে শেখা যায়। ওদিকে তাহসিন ছিল আমাদের ‘ইনফরমেশন ব্যাংক’; তার গোছানো নোট ছাড়া আমাদের অনেকের পরীক্ষা পার হওয়া ছিল অসম্ভব। কোচিং কিং রাসেল ক্লাসে কম এলেও পরীক্ষার খাতায় ঠিকই বাজিমাত করত, তার একমাত্র কাজ ভোলাভালা ফরিদ বেচারাকে জ্বালাতন করা।

খেলার মাঠে মাসুদ ছিল আমাদের ভলিবল আর ফুটবলের প্রাণভ্রমরা; যে সিনিয়দের আদরের 'ভক্ষণপাত্র' হতেও পিছপা হয়নি। ওদিকে রাজশাহীর ছেলে খালিদ তীক্ষ্ণ বুদ্ধি আর বিতর্ক দিয়ে হার মানাত সবাইকে। উজ্জ্বল দায়িত্ব নিতে জানত, এক্সট্রা কারিকুলার এক্টিভিটিস-এ সবচেয়ে ভালো, আর শেষবেলায় তার সেই প্রেমের গল্প আমাদের সবাইকে দারুণ আনন্দ দিয়েছে। আমাদের রেজা ছিল সবচেয়ে পজিটিভ; ব্যাচমেটের সাথে প্রেমে পড়ে, ইভেন্ট সামলে এবং সকলের বিপদে আগে দৌড়ে গিয়ে সে প্রমাণ করেছে দায়িত্বশীলতা কাকে বলে। রেজার আর একটা পরিচয় আছে, সে আমার বাবা, যদিও সে মেয়েকে এখনো উপযুক্ত কোনো পাত্রের হাতে তুলে দিতে পারে নি। আর যদি দোলার কথা বলি, খুবই পজিটিভ মাইন্ডের একজন মানুষ। সাথে ইন্টারেস্টিং ক্যারেক্টার এবং কিউটনেস-এ ভরা। কারোর যদি মন খারাপ থাকে, সে দোলার সাথে কথা বললে তার মন ভালো হয়ে যাবে, সাথে হাসতে হাসতে তার পেটে খিলও ধরে যেতে পারে। তবে আমাদের দোলা কিন্তু ভালো প্রেমিকা!

ব্যবসায়িক বুদ্ধি আর মানুষকে কনভিন্স করায় শাহেনশাহর সমতুল্য কেউ নেই, সেই সাথে এমসিজে-২১ ব্যাচের অন্যতম হ্যান্ডসাম বয়। ওদিকে পাপড়ি ছিল এক ডায়নামিক চরিত্র। খুব স্ট্রং এবং দায়িত্বশীল। ওর প্রেশার নেওয়ার ক্ষমতা অনেক। সেই সাথে সুন্দর গান করে। বেচারি অলরাউন্ডার ঘর-সংসার সামলে ক্যাম্পাসে আবার খেলাধুলাও করে। ব্যাচের প্রথম ম্যারিড ওম্যান এবং বিয়ের ঘটকালিতে সে যেমন ওস্তাদ, তেমনি পরীক্ষার আগে ‘সিটি পিছিয়ে দে’ বলে বলে গ্রুপে সবাইকে জ্বালাতন করত, এদিকে সে নিজে বেশি নম্বর পেত। ব্যাচ এর হাই সিজিধারীদের একজন সে। এগুলোর বাইরে পাপড়ির আরো একটা পরিচয় আছে, সেটা হলো ও আমার বেস্ট ফ্রেন্ড। আমি সবজায়গায় অকাজ করে আসি, সেগুলো সামলায় পাপড়ি এবং আমাকে সামলায়। সবাই বলে পাগলের ফ্রেন্ড আরেকটা পাগল। তোকে জ্বালাতন করার কোনো শেষ হবে না পাপড়ি। সারাজীবন ধরে জ্বালাবো তোকে।

শান্ত স্বভাবের মায়াবী চেহারার মাহফুজা, পড়াশুনায় অনেক ফোকাসড। নিজের লক্ষ্যে অটুট। কখনও কারো সাথে ঝামেলায় যেতে দেখিনি। নির্ভেজাল মানুষ সে। এদিকে আমাদের রাকিব খুবই চুপচাপ, কিন্তু সেও তার লক্ষ্যে ফোকাসড, একদিন হয়তো আমরা রাকিবের উজ্জ্বল সফলতার গল্প শুনবো। আমাদের রিতু যেমন কিউট-এর ডিব্বা তেমনি তার ইংরেজি বলার দক্ষতা প্রশংসনীয়। আর পিয়া ছিল যেন আমাদের নীরবতার শক্তি। ব্যাচের সবচেয়ে চুপচাপ মেয়েটা পিয়া। কিন্তু চুপচাপ দেখলেও বোধশক্তি প্রবল। পিয়ার ধৈর্য প্রশংসা পাওয়ার যোগ্য, কারণ আমাকে সামলাতে পারে, যেহেতু ও আমার ক্যাম্পাসের অভিভাবক অর্থাৎ আরেকটা মা। লিথী আমাদের ব্যাচের শেষ আইডি, যাকে দিয়ে আমাদের আনুষ্ঠানিক নাম ডাকার পালা শেষ হতো। খুবই দুষ্টু, মিষ্টি একটি মেয়ে, বন্ধুদের সাথে ঘুরতে পছন্দ করে। তবে সেও বাকিদের মতো কিউট-এর ডিব্বা। শর্ট হেয়ারে লিথীকে খুব আকর্ষণীয় লাগে। সবচেয়ে ভদ্র ছেলেটা ছিল ফরিদ; যাকে আমরা সবাই অবলীলায় জ্বালাতন করেছি, অথচ সে কখনই বিরক্ত হয় নাই, সে তার লক্ষ্যে অবিচল থেকেছে।

মজার মানুষের তালিকায় অন্তু ছিল সেরা। ভাজা মাছটি উল্টে খেতে না জানা সেই ছেলেটা আসলে ছিল হাসির পসরা। রোহান ছিল আমাদের সোশ্যাল মিডিয়া কিং; তার ফ্রেন্ডলিস্ট থেকে ক্যাম্পাসের কোনো মেয়েই বাদ পড়েনি, এমনকি সেই মহিলা কলেজের অমীমাংসিত রহস্য তো চিরকাল আড্ডার বিষয় হয়ে থাকবে। রোহানের আরেকটা পরিচয় সে আমার দাদু। আর ব্যাচের সবচেয়ে কিউট আমাদের সবার প্রিয় ছোট্টবন্ধু সুমাইয়া, সবার আদরের। সুমাইয়ার আরেকটা পরিচয় আছে, আইডি পাশাপাশি হওয়ায় সে আমার প্রতিবেশী। এক্সাম হল-এ সবসময় একসাথে সিট পড়ত। আমি যেহেতু দেরি করে যেতাম, আমার অপেক্ষায় থাকতো। আমাদের মিম দেখতে যেমন সুন্দর, গুণও আছে, সাথে লম্বা চুলের অধিকারী, আর খুব বন্ধুসুলভ এবং হাসিখুশি মেয়ে।

আশ্চর্যের বিষয় হলো, আমি ছাড়া এই ব্যাচের বাকি সব মেয়েরা একেকজন দক্ষ রাঁধুনি, সাথে সবার লম্বা চুল! মিম থেকে শুরু করে সবাই যখন খাবারের গল্প তোলে, আমি তখন নিজের একগুঁয়েমি আর রাগ নিয়ে ভাবি। হ্যাঁ, আমি মুন্নি, ব্যাচের সেই একরোখা, চঞ্চল আর জেদি মেয়েটা। আমার একটাই হয়তো ভালো গুণ, সেটা হলো আমি চরম লেভেলের বাপভক্ত। ক্যাম্পাসে ভলিবলটাকে সবসময় বেশি প্রায়োরিটি দিয়েছি। ক্যাম্পাসে একটা প্রেমও হয়নি আমার। সবসময় দেরি করে ক্লাসে এবং এক্সাম হল-এ পৌঁছেছি। এমন কেউ নেই যার সাথে আমার ঝগড়া লাগেনি বা ঝামেলা পাকাইনি। যাইহোক, আজ মনে হচ্ছে, আমার সেই রাগগুলোও ছিল তোমাদের প্রতি গভীর ভালোবাসারই একেকটা অধ্যায়।

আজ আমরা একেকজন একেক দিকে চলে যাব। এই রঙিন দিনগুলো হয়তো আর ফিরে আসবে না। কিন্তু ২০ বছর পর যখন এই স্মরণিকাটা কেউ খুলবে, তখন যেন মনে পড়ে, আমরা শুধু সাংবাদিকতা শিখতে আসিনি, আমরা একজন অন্যজনের হৃদয়ে স্থায়ী হেডলাইন হতে এসেছিলাম। আমাদের এই গল্পের কোনো 'ডেডলাইন' নেই। আমরা বেঁচে থাকব একে অপরের স্মৃতিতে। আজ যখন এটা লিখতে বসেছি, বার বার রায়হান রাহী ভাইয়ের সেই ‘টাইটেল: ১০১’ গানটি মনে পড়ছে,

“আমার ধুলোবালি জমা বই,
আমার বন্ধুরা সব কই
আমার ভাল্লাগে না এ মিথ্যে শহর,
রাতের আড়ালে রই।।”

আমরা যদি একটি নিউজরুম তৈরি করি, তাহলে প্রত্যেকের নিউজ বিটগুলো হবে:

আমাদের নিউজরুম:
কার কোন কাল্পনিক 'বিট' হলে ভালো মানাবে?!

কাব্য: ফাস্ট ইমপ্যাক্ট রিপোর্টার (সবাই পালানোর আগে তাকেই প্রথম ভাইভা ফেস করতে হতো)।

উজ্জ্বল: রোমান্টিক বিট ও ইভেন্ট ইন-চার্জ (দায়িত্ব আর প্রেম, দুটোই যার হাতে নিরাপদ)।

মাসুদ: স্পোর্টস করেসপন্ডেন্ট (ভলিবল আর ফুটবলের মাঠে যার অবাধ বিচরণ)।
সজল: ব্যাচের সিনিয়র পার্ট নেয়া ভাই , যতই ঝড় তুফান থাক ক্লাস মিস যাবে না ।

রেজা: চিফ অব ব্যুরো (ইভেন্ট ও রিলেশনশিপ) (ব্যাচ সামলানো আর প্রেম সামলানো, দুটোতেই অলরাউন্ডার)।

মাসুম: ডেডিকেটেড গোল-ফোকাসড জার্নালিস্ট (লক্ষ্যে অবিচল এক পরিশ্রমী যোদ্ধা)।

প্রতিভা: কালচারাল অ্যান্ড আর্লি নিউজ সোর্স (খবর আর নাচ, দুটোতেই সবার আগে)।

মুন: লাইফস্টাইল ও সেলিব্রেটি এডিটর (ফ্যাশন আর সুন্দর কথার জাদুকর)।

শাহেনশাহ: বিজনেস অ্যান্ড মার্কেটিং হেড (যেকোনো মানুষকে কনভেন্স করার জাদুকরী ক্ষমতা)।

নুসরাত: ইনভেস্টিগেটিভ মিস্ট্রি বিট (যাকে দেখা যায় না, কিন্তু যার 'জানি না তো' সংলাপটি সবার চেনা)।

রাকিব: সাইলেন্ট সাকসেস বিট (চুপচাপ থেকেও যে নিজের লক্ষ্যে অটুট)।

তাহসিন: আর্কাইভ ও রিসোর্স ম্যানেজার (তার নোটের ভাণ্ডার ছাড়া ব্যাচ চলত না)।

রাসেল: এডুকেশন বিট (এক্সটার্নাল) (ক্যাম্পাসের চেয়ে কোচিং-এর ডেস্কেই যার বেশি সময় কেটেছে)।

মাহফুজা: শান্ত ও নিভৃতচারী ফিচার রাইটার (চুপচাপ নিজের কাজ গুছিয়ে নেওয়া এক ভালো মানুষ)।

পাপড়ি: ম্যাচমেকিং ও ক্রাইসিস ম্যানেজার (ঘটকালি আর পরীক্ষা পেছানোর আন্দোলন, দুটোতেই সে সবার উপরে)।

ফরিদ: শান্ত ও জেন্টলম্যান বিট (সবার জ্বালাতন সয়েও যে মৃদু হাসতে জানে)।

দীপা: ফটো সাংবাদিক ও স্টাইল আইকন (ফ্রেমবন্দি ছবি আর স্টাইলিশ উপস্থিতিতে অনন্যা)।
রাসেল শেখ : বিপদের বন্ধু ও সিনিয়রদের অনুগত জুনিয়র ।

প্রভাতী: কালচারাল বিট (ডান্স ও ফেস্টিভ্যাল) (শাড়ি আর নাচে যে রঙিন করে রাখে চারপাশ)।

খালিদ: টক-শো ও ডিবেট অ্যানালিস্ট (রাজশাহীর তীক্ষ্ণ বুদ্ধি আর তর্কের ধার)।

রোহান: সোশ্যাল মিডিয়া ও পাবলিক রিলেশন অফিসার (যার ফেসবুক ফ্রেন্ডলিস্টে পুরো ক্যাম্পাস অ্যাড!)।

সজীব: হার্ডওয়ার্কিং গ্রাউন্ড রিপোর্টার (পরিশ্রম আর পড়াশোনায় যে ক্লান্তিহীন)।

রক্তিম: পার্মানেন্ট এডিটর-ইন-চিফ (CR) (সবচেয়ে দীর্ঘ সময় ধৈর্য ধরে ব্যাচকে আগলে রাখা মানুষ)।

সুমাইয়া: কিউটনেস অ্যান্ড হিউম্যান ইন্টারেস্ট স্টোরি (ব্যাচের সবার ছোট্ট আর আদুরে বন্ধু)।

দোলা: পজিটিভিটি ও মেন্টাল ওয়েলবিয়িং বিট (মন খারাপ দূর করার অব্যর্থ ওষুধ)।

ডোনা: ডায়নামিক ফিমেল লিডার (CR) (ভলিবল কোর্ট আর ব্যাচ, দুটোই যার কিউটনেসে কাবু)।

পিয়া: ধৈর্যশীল ও দায়িত্বশীল সংবাদকর্মী (চুপচাপ থেকেও যে পাহাড় সমান ধৈর্য ধরে রাখতে পারে)।

অন্তু: হিউমার ও এন্টারটেইনমেন্ট বিট (ভাজা মাছটি উল্টে খেতে না জানা সেই হাসির খনি)।

লক্ষ্মী: মেলোডি বিট (গানের সুরে যে মায়া ছড়ায়, যদিও কিছুটা নার্ভাস)।

মিম: কিউটনেস ও কালিনারি আর্ট এক্সপার্ট (রান্নায় যে জাদু দেখাতে জানে)।

সমাপ্তি: মাল্টি-ট্যালেন্টেড পারফর্মার (গান, নাচ আর কিউটনেস, সবই যার নখদর্পণে)।

রিতু: ফরেন ডেস্ক (ইংলিশ এক্সপার্ট) (চুপচাপ থেকেও যে ইংরেজিতে তুখোড়)।

লিথি: ফাইনাল ডেডলাইন বিট (আইডি শেষ হলেও যার দায়িত্বশীলতায় কোনো শেষ নেই)।

মুন্নি (আমি): একরোখা ব্রেকিং নিউজ (রাগী, জেদি আর ঝগড়াটে, যেখানে আমি, সেখানেই নতুন কোনো ধামাকা! তবে ভলিবলটাকে ক্যাম্পাসের সবচেয়ে প্রায়োরিটি লিস্ট এ রাখি)।

আমরা প্রত্যেকে ছিলাম আলাদা গল্পের মতো। কেউ শান্ত, কেউ চঞ্চল, কেউ হয়তো একটু অন্তর্মুখী। কিন্তু এই চার বছর আমাদের এমনভাবে এক করে দিয়েছে যে, এখন একেকজনের নাম শুনলেই চোখের সামনে ভেসে ওঠে হাজারো স্মৃতি। কেউ হয়তো ভালো রিপোর্টার হবে, কেউ হয়তো বড় কোনো দপ্তরে কাজ করবে; কিন্তু দিনশেষে আমরা সবাই তো সেই একই ক্লাসরুমের স্মৃতিচারণ করা একদল মানুষ। আজ যখন আমরা আমাদের ব্যাগ গুছিয়ে নিচ্ছি, তখন আসলে সাথে করে নিয়ে যাচ্ছি আমাদের সোনালী যৌবনের প্রিয় অংশটুকু। এই স্মরণিকার পাতাগুলো উল্টালে হয়তো কয়েক বছর পর আমরা নিজেদের আবার খুঁজে পাব সেই পুরনো চত্বরে, সেই হাসিমুখগুলোতে। তাইতো এ বিদায় বেলায় মনে পড়ে যায় রবিঠাকুরের সেই গানের দু’টি লাইন:

“পুরানো সেই দিনের কথা ভুলবি কি রে হায়,
ও সেই চোখে দেখা, প্রাণের কথা, সে কি ভোলা যায়।।”

Address

Khulna University
Khulna

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when সাদ্বিক'২১ - সময়ের সায়াহ্নে, স্নিগ্ধচিত্তের সন্ধানে posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Share

Category