23/05/2026
গত ১৫ই মে রাতে আমাদের রেস্টুরেন্টে একটি চুরির ঘটনা ঘটে। CCTV ফুটেজ বিশ্লেষণ করে আমরা চোরকে শনাক্ত করতে সক্ষম হই এবং পরের দিন তাকে ও তার মাকে নিয়ে এসে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে সে নিজেই চুরির বিষয়টি স্বীকার করে, যার ভিত্তিতে আমরা ক্ষতিপূরণ দাবি করি।
এখানে একটি বিষয় পরিষ্কারভাবে উল্লেখ করতে চাই—চোরকে ধরে আনার পর আমাদের পক্ষ থেকে তাকে কোনো ধরনের শারীরিক নির্যাতন বা মারধর করা হয়নি। মানবিক দিক বিবেচনা করেই আমরা পরিস্থিতি শান্তভাবে সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেছি। তাছাড়া, সে আমাদের আত্মীয়তার সম্পর্কের মধ্যেও পড়ে। আমরা বিশ্বাস করি, মারধর কখনোই কোনো সমস্যার সমাধান হতে পারে না। তবে এমন পরিস্থিতিতে অনেকের আবেগ নিয়ন্ত্রণে থাকে না, তাই কিছু কথাবার্তা হয়তো হয়েছে—এটা অস্বীকার করছি না।
কিন্তু দুঃখজনকভাবে, এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিভিন্নভাবে বিভ্রান্তিকর পোস্ট করা হচ্ছে। তাদের উদ্দেশ্যে বলতে চাই, প্রায় দুই মাস আগে ঈদগাহ মাঠের তার চুরির অভিযোগে এলাকাবাসী এই একই ব্যক্তিকে খুঁটির সাথে বেঁধে মারধর করেছিল। তখন অনেকের এই মানবিক আবেগ কোথায় ছিল?
এখন বলা হচ্ছে সে মানসিক রোগী। কিন্তু যে ব্যক্তি চুরি করতে জানে, চুরি করা জিনিস কোথায় বিক্রি করতে হবে জানে, সেই টাকায় মাদক কিনে খেতে জানে—তখন সে স্বাভাবিক; অথচ চুরির পর ধরা পড়লেই সে “মানসিক রোগী”—এই যুক্তি কতটা গ্রহণযোগ্য, সেটাও ভাবার বিষয়।
বরং এখন মনে হচ্ছে, আমরা মানবিক আচরণ দেখিয়েই ভুল করেছি। কারণ আমরা চাইলে প্রমাণসহ ধরে এনে অন্যদের মতো আচরণ করতে পারতাম। কিন্তু আমরা তা করিনি। বরং আরও ৬-৭ জন ব্যক্তি, যাদের দোকান থেকেও সে চুরি করেছে, তারা তাকে মারধর করতে চেয়েছিল—সেখান থেকেও আমরা তাকে বিরত রেখেছি ও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করেছি।
কারণ আমরা বিশ্বাস করি, সহিংসতা নয়—সমাধান হওয়া উচিত আইনি ও মানবিক পথে।
তাই অনুরোধ থাকবে, কোনো কিছু নিয়ে পোস্ট করার আগে অনুগ্রহ করে প্রকৃত ঘটনা জেনে নিন। আর যদি মানবিকতা দেখাতেই চান, তাহলে সেটি সব ক্ষেত্রেই সমানভাবে দেখান—শুধু আমাদের প্রতিষ্ঠানকে লক্ষ্য করে নয়।