14/02/2020
~সেই ডাকটা আমার আর আসেনি, আমি হেরে গেলাম~ "অ্যাঞ্জেল ফাবিয়ান ডি মারিয়া"
"আমার ট্রেইনারকে বলেছিলাম, যদি মরে যাই, আমাকে মরে যেতে দেন। তাতে আমার কিচ্ছু যায় আসেনা। শুধু খেলতে চাই। আমি শুধু খেলতে চাই। ঠিক এগুলোই বলেছিলাম। টেবিলে বসে পায়ে বরফ ঘষছি। এইসময় রুমে এলেন আমাদের দলের চিকিৎসক ড্যানিয়েল মার্টিনেজ। হাতে একটা খাম। উনি বললেন, 'অ্যাঞ্জেল' এটা রিয়েল মাদ্রিদ থেকে এসেছে।
মানে কি?
ওরা বলছে, খেলার মতো কন্ডিশন এখন তোমার নেই। তোমাকে যাতে আমরা না খেলাই জোর করছে।
আসলে বুঝতে পারছিলাম কি হচ্ছে আশপাশে। বাজারে জোর গুজব রিয়াল মাদ্রিদ বিশ্বকাপের পর জেমস রদ্রিগেজকে সাইন করাতে চাচ্ছে। আমি জানি ওকে আনতে হলে আমাকে বিক্রি করবে রিয়াল। আমার জায়গাটাতো খালি করতে হবে খেলার জন্যে। বিক্রির পণ্যটাকে ওরা নষ্ট করতে চাচ্ছেনা।
ড্যানিয়েলকে বললাম চিঠিটা দিতে। হাতে পেয়েই কুচি কুচি করে ছিঁড়ে ফেললাম। পড়ারও প্রয়োজন বোধ করিনি। ওকেই আবার ছেঁড়া টুকরোগুলো দিয়ে বললাম-ফেলে দাও। আজ সব সিদ্ধান্ত নেয়ার ভার শুধুই আমার।
ম্যাচের আগের রাতে আমার এক ফোঁটা ঘুম হয়নি। এর একটা কারণ হিসেবে বলা যায় আমাদের হোটেলের বাইরে ব্রাজিলিয়ান ফ্যানরা সারাটা রাত আতশবাজি ফুটিয়েছে। শব্দ ছিলো মারাত্মক। ঠিক জানিনা শব্দ যদি নাও থাকতো ,ঘুমুতে পারতাম কিনা। বিশ্বকাপ ফাইনালের আগের রাত সারাটা জীবন যার স্বপ্ন দেখেছি সেই স্বপ্নটা যখন এত কাছে… এই অনুভূতিটা কোনভাবেই আমি বুঝিয়ে বলতে পারবোনা।
ফাইনালে আমি সত্যি সত্যি খেলতে চেয়েছিলাম। তাতে যদি আমার ক্যারিয়ার শেষও হয়ে যেতো, আপত্তি ছিলোনা। সেই সাথে আমি আমার দলের জন্যে কোন জটিল পরিস্থিতিও তৈরী করতে চাইনি। একদম ভোরে বিছানা ছেড়ে গেলাম ম্যানেজারের সাথে দেখা করতে।
সাবেলা। আমাদের খুব ভালো সম্পর্ক। খুব কাছের মানুষ আমরা বলতে পারেন। তাঁকে যদি আমি বলতাম শুরু থেকেই খেলতে চাই, লোকটার উপর খুব চাপ হয়ে যেতো। আমাকে খেলানোর জন্যে তাঁর মনে একটা চিন্তা কাজ করতো। সেরকম কিছু করিনি।
ওর কাছে গিয়ে আমি আমার বুকে হাত রেখে বলেছি, তোমার যাকে খেলালে ভালো মনে হয় তাকেই খেলাবে।
বললাম' যদি আমাকে বসাতেও হয়, তবে তাই। যদি অন্য কাউকে বসাতে হয় তাহলে সেই অন্য কেউই। আমি শুধু বিশ্বকাপটা জিততে চাই। আমাকে যদি নামাও আমি মরে যাবার আগ পর্যন্ত মাঠে খেলবো।
কেন যেন কেঁদে ফেললাম। কোনভাবেই চোখের জলটা আটকাতে পারলাম না সেইদিন।
ম্যাচের আগে যখন টীম টক হয়, তখন সাবেলা ঘোষণা দিলেন আমার জায়গায় এনজো পেরেজ শুরু করবে কারণ এনজো একেবারে ফিট। কোন সমস্যা নেই।
শুনে আমার খারাপ লাগেনি। শান্তিই লাগলো। কোচ তার সেরাদের দিয়ে খেলাবেন। ম্যাচ শুরুর আগে পায়ে আবার ইনজেকশন নিয়ে নিলাম। খেলার দ্বিতীয়ার্ধেও নিয়েছি যাতে কোচ ডাকলেই নামতে পারি মাঠে।
সেই ডাকটা আমার আর আসেনি, আমরা হেরে গেলাম।"
(১৪ ফেব্রুয়ারী)
১৯৮৮ সালের এই দিনে আর্জেন্টিনার রোজারিওতে ডি মারিয়া জন্ম গ্রহণ করেন।
শুভ জন্মদিন, মারিয়া😍😍
আর্জেন্টিনায় আবার জ্বলে ওঠো।🔥
ভবিষ্যতের জন্য শুভকামনা রইল❤️💯