15/03/2015
কলকাতার এ্ক ভাইয়ের টাইমলাইন
থেকেঃ
ভারত বনাম বাংলাদেশের ক্রিকেট
যুদ্ধে আমি বাংলাদেশকে সমর্থন
করবো।
কারণ,
১/ ভারতীয় ক্রিকেট টিমের
খেলোয়াড়রা নিজেদের
কেরিয়ারের জন্যে খেলে।
লগ্নি পুঁজির নদীতে ক্রিকেট যেন
তাদের এক বিলাশ তরী।
অন্যদিকে বাংলাদেশের
খেলোয়ারদের মধ্যে আবেগ রয়েছে।
দেখে ভালো লাগছে,
তাঁরা আজো মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বহন
করেন।
২/ তিস্তা জলবন্টন সহ
নানা ইস্যুতে ইন্ডিয়ান
কলোনিয়ালইজম বাংলাদেশের ওপর
ছড়ি ঘোরাতে থাকে। কোয়ার্টার
ফাইনালে যদি বাঙালীরা একবার
মেড়ো, বিহারী, মাওড়া, গুজ্ঝা, জাঠ
ইত্যাদি মোদী-পুত্রদের
হারাতে পারে তাহলে, ভারতীয়
দাদাগিরির ওপর চুনকালি পড়বে।
বলিউড, টলিউডের
মাধমে বাংলাদেশের ওপর ভারতের
সাংস্কৃতিক আগ্রাসনের এজেণ্ডাও
একটু থমকে যেতে পারে,
যদি ইণ্ডিয়াকে বাঙালীরা হারাতে পারে।
৩/ বাংলাদেশের সঙ্গে ইংল্যাণ্ড-এর
ম্যাচটা চলাকালীন দেখলাম, এপার
বাংলার কিছু উচ্চবর্ণের হিন্দু
বাঙালীকে আমাদের বিগত
ঔপনিবেশিক প্রভুদের
হয়ে গলা ফাটাতে। কেউ আবার
বললেন, "বাংলাদেশ যদি ইণ্ডিয়ার
সঙ্গে খেলে, তাহলে কোয়ার্টার
ফাইনালে ইণ্ডিয়ার খুব দুর্বল প্রতিপক্ষ
থবে, খেলা জমবে না। তাই ইংল্যান্ড
জেতা ভালো।" কিন্তু তাদের
নাকে ঝামা ঘষে বাংলাদেশ
জিতলো। মোদী-ভারতের এই অহঙ্কার
আবার যেন ভেঙ্গে চুরমার হয় এই
প্রার্থনা করবো।
৪। এবং, বাংলাদেশকে সমর্থনের
পেছনে সবচেয়ে বড় কারণ,
আমি বাঙালি। ভারতীয়
জাতীয়তাবাদের
কোনো অস্তিত্বে আমি বিশ্বাস
করি না। কেননা, ভারতের বাংলার
সঙ্গে জাঠ হরিয়ানার বা গুজরাতের
গুজ্ঝা কালচারের কোনো মিল নেই।
ভারতের
মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালী ভাষা ও
সংস্কৃতি বাংলা। আর
বাংলা ভাষা সংস্কৃতি এগিয়ে চলেছে ওপার
বাংলা অর্থাত বাংলাদেশের
জন্যে।
বাংলা ভাষায় এপার বাংলার
অবদান ২০ শতাংশ আর ওপার বাংলার
অবদান ৮০ শতাংশ। এটা ঐতিহাসিক
সত্যি। আর উর্দু আধিপত্যবাদ যেমন
বাংলার ওপর
থাবা বসাতে চেয়েছিলো, তেমনি,
'হিন্দি, হিন্দু, হিন্দুস্থান'
শ্লোগানকে হাতিয়ার
করে আবারো হনু-রাম, মোদি-
বাহিনী আবারো বাংলার ওপর
থাবা বসাতে চাইছে। আমি রাষ্ট্র
মানি না, নিজের ভাষাকে ভুলে।আর
সে কারণে বাংলাদেশকেই সমর্থন
করবো।
এমনিতে ক্রিকেট তেমন দেখিনা,
বাংলাদেশের
খেলা থাকলে দেখছি। ওদের স্পিরিট,
আবেগ দেখার মতো। কোয়ার্টার
ফাইনালে বাংলাদেশ জিতুক, এটাই
চাই।